[CRK] আইপিএলে গেইলকে টপকে দ্রুততম ২০০০ রানের রেকর্ড সাই সুদর্শনের
[CRK]
আইপিএলে নতুন ইতিহাস: গেইলকে ছাপিয়ে শীর্ষে সাই সুদর্শন
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) বরাবরই নতুন তারকার জন্ম দেয়। তবে গুজরাট টাইটানসের ওপেনার সাই সুদর্শন যা করে দেখালেন, তা সচরাচর দেখা যায় না। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) বিপক্ষে ম্যাচে তিনি কেবল একটি অনবদ্য সেঞ্চুরিই পাননি, বরং ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের সম্রাট ক্রিস গেইলের একটি দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। সাই সুদর্শনের এই কীর্তি তাকে আইপিএলের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি
ম্যাচটি ছিল গুজরাট টাইটানস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মধ্যে। টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় গুজরাট। ওপেনিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন সাই সুদর্শন। মাত্র ৫৮ বলে তিনি পূর্ণ করেন তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। তার এই ১০০ রানের ইনিংসে ছিল ১১টি চার এবং ৫টি চোখধাঁধানো ছক্কা। সুদর্শনের এই ইনিংসের ওপর ভর করে গুজরাট টাইটানস ২০৫ রানের একটি বিশাল স্কোর সংগ্রহ করে। যদিও শেষ পর্যন্ত বেঙ্গালুরু ৫ উইকেট এবং ৭ বল হাতে রেখেই ম্যাচটি জিতে নেয়, কিন্তু ক্রিকেট ভক্তদের মনে গেঁথে যায় সুদর্শনের রেকর্ড গড়া ইনিংসটি।
দ্রুততম ২০০০ রানের বিশ্বরেকর্ড
আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম ২০০০ রান করার মাইলফলক স্পর্শ করার ক্ষেত্রে এতদিন শীর্ষে ছিলেন ক্রিস গেইল। গেইল তার আইপিএল ক্যারিয়ারের ৪৮তম ইনিংসে এই রেকর্ডটি গড়েছিলেন। সাই সুদর্শন সেই রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন নিজের ৪৭তম ইনিংসে। অর্থাৎ গেইলের চেয়ে এক ইনিংস কম খেলেই তিনি ২০০০ রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। এই তালিকায় সুদর্শনের পরে যারা রয়েছেন তারা হলেন:
- সাই সুদর্শন: ৪৭ ইনিংস
- ক্রিস গেইল: ৪৮ ইনিংস
- শন মার্শ: ৫২ ইনিংস
- রুতুরাজ গায়কওয়াড়: ৫৭ ইনিংস
- লোকেশ রাহুল: ৬০ ইনিংস
এই তালিকা থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে সাই সুদর্শন কতটা ধারাবাহিক এবং কার্যকরী একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গেইল বা শন মার্শের মতো পাওয়ার হিটারদের ভিড়ে নিজের টেকনিক এবং টাইমিং দিয়ে তিনি এই শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন।
টানা তিন মৌসুমে সেঞ্চুরির বিরল কৃতিত্ব
শুধুমাত্র দ্রুততম ২০০০ রানই নয়, সাই সুদর্শন এদিন আরও একটি অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন। আইপিএলে টানা তিনটি ভিন্ন মৌসুমে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। ইতিপূর্বে এই রেকর্ডটি ছিল শুধুমাত্র ক্রিস গেইলের দখলে। সাই সুদর্শন প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই নজির গড়লেন। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একটি সিজনের জন্য বা বিশেষ কোনো কন্ডিশনের ক্রিকেটার নন; বরং যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি বড় রান করার ক্ষমতা রাখেন।
সুদর্শনের ধারাবাহিকতা এবং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ
সাই সুদর্শনের এই উত্থান ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। সাধারণত আইপিএলে ভারতীয় টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ওপর অনেক চাপ থাকে। কিন্তু সুদর্শন যেভাবে শান্ত মাথায় নিজের ইনিংস গড়ে তোলেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। তার ব্যাটিংয়ে যেমন ব্যাকরণসম্মত ড্রাইভ আছে, তেমনি প্রয়োজনের সময় বড় শট খেলার সক্ষমতাও রয়েছে। গুজরাট টাইটানসের হয়ে অভিষেক হওয়ার পর থেকেই তিনি দলের ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন।
ক্রিস গেইলের মতো একজন কিংবদন্তির রেকর্ড ভাঙা কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়। গেইল যখন রান করতেন, তখন তিনি প্রতিপক্ষের বোলারদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করতেন। সুদর্শনের স্টাইল হয়তো গেইলের মতো বিধ্বংসী নয়, কিন্তু তার কার্যকারিতা এবং রান করার ক্ষুধা গেইলের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। মাত্র ৪৭ ইনিংসে ২০০০ রান করা নির্দেশ করে যে তিনি প্রতি ম্যাচেই বড় অবদান রাখছেন।
উপসংহার
ম্যাচে গুজরাট টাইটানস পরাজিত হলেও, সাই সুদর্শনের এই ঐতিহাসিক রেকর্ডটি ক্রিকেট মহলে দীর্ঘকাল আলোচিত হবে। ভারতীয় ক্রিকেটে একজন নির্ভরযোগ্য ওপেনারের সন্ধানে সাই সুদর্শন একটি বড় নাম হয়ে উঠতে পারেন। এখন দেখার বিষয়, আইপিএলের এই ফর্ম তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও কতটা ধরে রাখতে পারেন। তবে গেইলকে টপকে দ্রুততম ২০০০ রানের এই অর্জন তার আত্মবিশ্বাসকে যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ক্রিকেট বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সাই সুদর্শনের পরবর্তী রেকর্ডের জন্য।
