[CRK] সাদ মাসুদ নাহিদ রানাকে নিয়ে মন্তব্য: পাকিস্তানের তারকা তরুণ ব্যাটসম্যানের স্বীকারোক্তি
[CRK]
“নাহিদ রানা সত্যিই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন বোলার” – পাকিস্তানের তরুণ তারকা ব্যাটসম্যান সাদ মাসুদ এমনটাই মন্তব্য করলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে শুরু করে ডোমেস্টিক লিগ এবং পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)-এর মতো প্রতিযোগিতায় নানা ধরনের বোলারের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি, কিন্তু অভিজ্ঞতার ভারসাম্য বিচারে তাঁর কাছে নাহিদ রানা আলাদা।
মাত্র ৫ বলে অভিজ্ঞতার শিক্ষা
২১ বছর বয়সী এই অল-রাউন্ডার জানিয়েছেন, তাঁর প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেই নাহিদ রানার বোলিংয়ের কঠোর বাস্তবতা উপলব্ধি করেন। মিরপুরের মাঠে ১৫ মার্চ পাকিস্তানের হয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক হয়েছিল। সেদিন তিনি নাহিদের বিপক্ষে মাত্র পাঁচটি বল মোকাবেলা করেন, কিন্তু সেই পাঁচ বলই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন মুহূর্ত।
“নাহিদ রানার বিপক্ষে ব্যাটিং ছিল একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। তাঁর কাঁচা গতি এবং বাউন্স এমন তীব্রতা এনেছিল যা সাধারণত দেখা যায় না। তিনি অন্যান্য ফাস্ট বোলারদের থেকে একেবারেই আলাদা,”
– পাকপ্যাশনের সাথে আলোচনায় এই কথা বলেছেন সাদ মাসুদ।
উচ্চচাপের ম্যাচে অভিষেক
সাদের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটি ছিল সিরিজ নির্ধারক। চাপের মধ্যে ব্যাটিং করতে নেমে তিনি সালমান আলী আঘার সাথে ভালো পার্টনারশিপ গড়েন। ৪৪ বলে ৩৮ রান করার পর তাঁকে আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর উইকেট পাওয়া পর পাকিস্তানের ইনিংস ভেঙে পড়ে, এবং বাংলাদেশ ১১ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের নামে করে।
সাদ মাসুদ জানিয়েছেন, ম্যাচ হারার দায় এখনও তাঁর মনে ভার হয়ে রয়েছে।
“আমি মনে করি আমার আউট হওয়া আমাদের ম্যাচ হারার পেছনে বড় কারণ ছিল। এটা আমাকে এখনও খুব ব্যথা দেয়।”
স্বপ্নপূরণের পরও অসন্তুষ্টি
কিন্তু সেই হারের কষ্ট সত্ত্বেও তাঁর অভিষেক তাঁর কাছে বিশেষ। তিনি বলেছেন, ছেলেবেলা থেকেই পাকিস্তানের জার্সি পরার দুঃসাহসিক স্বপ্ন ছিল তাঁর।
“পাকিস্তানের জার্সি পরা আমার জন্য খুব বড় অর্জন। আমার ও আমার পরিবারের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”
তবে তিনি আরও বলেছেন, সেদিন তিনি তাঁর সেরাটা উপহার দিতে পারেননি।
“আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু ভুল করেছি। আমার ভুলই সিরিজ হারাতে সাহায্য করেছে। তবে আঘা ভাইয়ের সাথে পার্টনারশিপটা ভালো ছিল।”
পিএসএলে এখন সাদের আসল পরীক্ষা
বর্তমানে সাদ মাসুদ পিএসএলে রাওয়ালপিন্ডি রয়্যালসের হয়ে খেলছেন। লেগ স্পিন অল-রাউন্ডার হিসেবে তাঁর ক্ষমতা এখনও সম্পূর্ণ উন্মোচিত হয়নি, কিন্তু নাহিদ রানার মতো বোলারের মুখোমুখি হওয়া তাঁকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে।
এই তরুণ ক্রিকেটারের আগামী কয়েক ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ তিনি আরও পাবেন। এবং হয়তো পরবর্তী বার নাহিদ রানার বিপক্ষেও আরও সজাগ ও প্রস্তুত হবেন তিনি।
তবে একটি কথা স্পষ্ট: নাহিদ রানা শুধু তাঁর গতিতেই নয়, প্রতিপক্ষের মনোবলেও প্রভাব ফেলছেন। একজন ২১ বছর বয়সী খেলোয়াড়ের মুখে এমন স্বীকারোক্তি বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার আলো জ্বালিয়েছে।
