[CRK] আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপর্যয়, হ্যাজেলউড-ভুবনেশ্বরের তোপে বিধ্বস্ত
[CRK]
আইপিএলের মঞ্চে বোলিংয়ের নগ্ন প্রদর্শনী
শনিবারের সেই রানের উৎসবে দিল্লি ক্যাপিটালসের পিচে ২৬৫ রানের জবাব এসেছিল ২৬৪ রানে। কিন্তু মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরেই সেই একই ভেন্যুর পার্শ্ববর্তী পিচ যেন রূপ নিল এক ভয়ংকর টেস্ট ম্যাচের উইকেটে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দুই পেসার জশ হ্যাজেলউড এবং ভুবনেশ্বর কুমার যেন হাতে তুলে নিলেন ধ্বংসের সরঞ্জাম। দিল্লি ক্যাপিটালসের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে তারা দাঁড়াতেই দিলেন না। ৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দিল্লি তখন আইপিএলের ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জার মুখে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৭৫ রানে তাদের ইনিংস শেষ হলেও, এই ম্যাচটি ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে পাওয়ারপ্লের সেই ভয়াবহতার জন্য।
পাওয়ারপ্লেতে দিল্লির করুণ দশা
ম্যাচের প্রথম ওভারেই ভুবনেশ্বর কুমারের ইনসুইং আর আউটসুইংয়ের জালে জড়িয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন আইপিএল অভিষেক করা সাহিল পারখ। ভুবনেশ্বরের সেই ওভারটি ছিল দিল্লি ব্যাটিংয়ের কফিনে প্রথম পেরেক। এরপর জশ হ্যাজেলউডের পালা। দ্বিতীয় ওভারে হ্যাজেলউড তার নিখুঁত লাইন ও লেংথে পরাস্ত করেন কেএল রাহুল এবং সামির রিজভিকে। হ্যাজেলউডের বলে উইকেটকিপার জিতেশ শর্মার গ্লাভসবন্দী হয়ে দিল্লির টপ অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
তিনে থাকা ত্রিস্টান স্টাবস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ভুবনেশ্বরের কাছে তিনিও নতি স্বীকার করেন। এক পর্যায়ে ৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালস তখন আইপিএলের সবচেয়ে বাজে পাওয়ারপ্লে স্কোরের রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছিল। ৮ রানে ৬ উইকেট হারানো দিল্লির অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে আরসিবি খেলোয়াড়দের চোখেমুখেও ছিল বিস্ময়। টিম ডেভিডকে দেখা গেছে মাঠেই নিজের মুখ ঢেকে অবিশ্বাস্য দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করতে।
অভিষেক সাহিল পারখের স্বপ্নভঙ্গ
দিল্লির পরিচালক বেণুগোপাল রাও অনেক আশা নিয়ে ১৮ বছর বয়সী সাহিল পারখকে সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভুবনেশ্বর কুমারের অভিজ্ঞতার সামনে তা নিমিষেই ধুলোয় মিশে যায়। প্রথম বলে আউটসুইংারে এজ হওয়ার পর, দ্বিতীয় বলেই মিডল স্টাম্প উপড়ে যায় সাহিলের। এটি ছিল যেন পুরো ম্যাচের প্রতীক—একটি নিয়ন্ত্রিত ও বিধ্বংসী বোলিংয়ের কাছে নবাগতদের অসহায় আত্মসমর্পণ।
অভিষেক পোড়েলের লড়াই
দিল্লির বিপর্যয় যখন অনিবার্য হয়ে পড়েছিল, তখন কিছুটা হাল ধরেন ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নামা অভিষেক পোড়েল। ধূলিঝড়ের কারণে কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকার পর তিনি ডেভিড মিলারকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ৩৫ রানের একটি জুটি গড়েন। দিল্লির মান বাঁচাতে তিনি ৩৩ বলে ৩০ রান করেন। তবে আরসিবির বোলিং আক্রমণ ছিল অপ্রতিরোধ্য। হ্যাজেলউডের একটি বিধ্বংসী ইয়র্কারে শেষ পর্যন্ত পোড়েল বোল্ড হলে দিল্লির ইনিংস থামে ৭৫ রানে।
পয়েন্ট টেবিলে আরসিবির উত্থান
এই বড় জয়ের ফলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু পয়েন্ট টেবিলে পাঞ্জাব কিংসের সাথে ব্যবধান কমিয়ে মাত্র এক পয়েন্টে নিয়ে এল। শুধু তাই নয়, তাদের নেট রান রেটও (NRR) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র ৯ উইকেট হারিয়ে এবং ৮১ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করে আরসিবি বুঝিয়ে দিল যে প্লে-অফের দৌড়ে তারা কতটা মরিয়া।
- ম্যাচের সেরা পারফর্মার: জশ হ্যাজেলউড (৪-১২) ও ভুবনেশ্বর কুমার (৩-৫)।
- দিল্লির সর্বনিম্ন পাওয়ারপ্লে: ১৩ রান।
- সংক্ষিপ্ত স্কোর: দিল্লি ৭৫ (পোড়েল ৩০), আরসিবি ৭৭/১ (পাদিকাল ৩৪*)।
পরিশেষে বলা যায়, ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা হলেও, হ্যাজেলউড ও ভুবনেশ্বরের মতো বোলাররা যখন ছন্দ খুঁজে পান, তখন বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনআপও যে অসহায় হয়ে পড়তে পারে, তার অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল এই ম্যাচ। দিল্লি ক্যাপিটালসকে এখন ভাবতে হবে তাদের ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে, কারণ সামনের ম্যাচগুলোতে এমন ভুল তাদের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিতে পারে। অন্যদিকে আরসিবি এই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এগিয়ে যেতে চাইবে শিরোপার লক্ষ্যে।
