আইপিএল ২০২৫: রাহুল ও নিসাঙ্কার ঝোড়ো ইনিংসে রাজস্থানকে হারিয়ে জয়ের ধারায় দিল্লি
জয়পুরে দিল্লি ক্যাপিটালসের দাপুটে জয়
জয়পুরের মাঠটি যেন রাজস্থান রয়্যালসের (RR) জন্য আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপই বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ম্যাচে এখানে প্রায় ২৩০ রান করেও তারা জয় পায়নি। শুক্রবার দিল্লি ক্যাপিটালসের (DC) বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও সেই একই ভুল করলেন রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। শেষ পর্যন্ত ২২৫ রান করেও তারা দিল্লিকে আটকাতে পারল না। দিল্লির এই জয় যেন প্রমাণ করে দিল, জয়পুরের পিচ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের জন্য কতটা অনুকূল ছিল।
রিয়ান পরাগ ও ডনোভান ফেরেরার লড়াকু ইনিংস
ম্যাচের শুরুতে রাজস্থানের অবস্থা ছিল বেশ শোচনীয়। মাত্র ৩৬ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল তারা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন রিয়ান পরাগ। ৫০ বলে ৯০ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন। শেষ দিকে ডনোভান ফেরেরা মাত্র ১৪ বলে ৪৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে রাজস্থানকে ২২৫ রানের লড়াকু স্কোরে পৌঁছে দেন। দিল্লির হয়ে মিচেল স্টার্ক ৩টি উইকেট শিকার করে রাজস্থানের রানের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
দিল্লির বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রাজস্থানের অসহায় আত্মসমর্পণ
২২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিল্লি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা পাওয়ার প্লে-তেই খেলা পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিয়ে আসেন। মাত্র ২৬ বলে ৫২ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। নিসাঙ্কার বিদায়ের পর কেএল রাহুল ক্রিজে এসে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেন। রাহুল তার স্বভাবজাত ভঙ্গিতে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির বন্যা বইয়ে দেন। রাহুলের ৭৫ রানের ইনিংসটি ছিল নিখুঁত ব্যাটিংয়ের এক অনন্য প্রদর্শনী।
ম্যাচ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তসমূহ
রাজস্থানের বোলিং লাইনআপ, বিশেষ করে স্পিনাররা, দ্বিতীয় ইনিংসে পিচ থেকে কোনো সাহায্যই পাননি। অন্যদিকে, দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটাররা রান তোলার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ বেগ পাননি। রভি বিষ্ণোইয়ের মতো বোলারদের বিপক্ষে রাহুল যেভাবে সাবলীলভাবে ব্যাটিং করেছেন, তা ছিল দেখার মতো। নীতীশ রানার ৩৩ রানের ছোট অথচ কার্যকর ইনিংসটি দলের জয় নিশ্চিত করে। ট্রিস্টান স্টাবস এবং আশুতোষ শর্মা শেষ দিকে কোনো নাটকীয়তা হতে দেননি।
স্টার্ক বনাম সূর্যবংশী লড়াইয়ের প্রত্যাশা
ম্যাচের আগে দর্শকদের মূল আকর্ষণ ছিল মিচেল স্টার্ক বনাম বৈভব সূর্যবংশীর লড়াই। তবে পিচের অদ্ভুত আচরণের কারণে এবং ব্যাটিং অর্ডারের পরিকল্পনার জেরে সেই লড়াই সেভাবে জমেনি। যশস্বী জয়সওয়াল স্টার্ককে ছক্কা হাঁকালেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সূর্যবংশীও কাইল জেমিসনের ইয়র্কারে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। সামগ্রিকভাবে, এটি ছিল দিল্লির ব্যাটিং শক্তির এক অসাধারণ প্রদর্শন।
উপসংহার
এই জয়ে দিল্লি ক্যাপিটালস পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল। রাজস্থান রয়্যালসের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা যে, শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ থাকা সত্ত্বেও সঠিক বোলিং পরিকল্পনা এবং কন্ডিশন বুঝতে না পারলে জয় পাওয়া কঠিন। দিল্লির ব্যাটারদের এই ছন্দ আগামী ম্যাচগুলোতেও বজায় থাকবে বলে আশা করছেন সমর্থকরা।
