[CRK] নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ নম্বরে পারভেজ হোসেন ইমন: লিটন দাসের নতুন পরিকল্পনা
[CRK]
নিউজিল্যান্ড সিরিজে নতুন ভূমিকায় পারভেজ হোসেন ইমন: ৪ নম্বর পজিশনের প্রস্তুতি
বাংলাদেশ ক্রিকেটের আগামীর অন্যতম ভরসা হিসেবে বিবেচনা করা হয় পারভেজ হোসেন ইমনকে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী এই দলের সদস্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একজন মারকুটে ওপেনার হিসেবে পরিচিত। তবে আধুনিক ক্রিকেটের চাহিদা এবং দলের প্রয়োজনে নিজের ব্যাটিং পজিশনে এক বড় পরিবর্তন আনতে চলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), ঘরোয়া ক্রিকেট এবং পাকিস্তানের পিএসএল (PSL)-এ ইমনকে ৪ নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে দেখা গেছে। শুধু পজিশন পরিবর্তনই নয়, বরং মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে বেশ কার্যকর কিছু ইনিংস খেলে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
তিন-ইন-এক: ইমনের বহুমুখী প্রতিভা
বাংলাদেশের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতেও ইমনকে ৪ নম্বর পজিশনে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখানে তিনি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। বিপিএলে তিনি কখনও টপ অর্ডারে আবার কখনও মিডল অর্ডারে দলের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাটিং করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতেও নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে পারভেজ হোসেন ইমনকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একজন ‘থ্রি-ইন-ওয়ান’ খেলোয়াড় মনে করা হচ্ছে। যিনি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিং এবং দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে মানিয়ে নিতে সক্ষম। এই বহুমুখী প্রতিভা তাকে স্কোয়াডে আরও বেশি অপরিহার্য করে তুলেছে।
কেন ওপেনিংয়ে সুযোগ নেই ইমনের?
ইমন মূলত ওপেনিংয়ে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলেও জাতীয় দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে জায়গা পাওয়া বেশ কঠিন। বাংলাদেশের বর্তমান টি-টোয়েন্টি ওপেনিং স্লটটি প্রায় নির্ধারিত হয়ে গেছে তরুণ তানজিদ হাসান তামিম এবং টি-টোয়েন্টি সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসানের মাধ্যমে। তাদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতা এবং আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে ওপেনিং জুটিতে বড় পরিবর্তনের সুযোগ খুব একটা নেই। এই কারণেই টিম ম্যানেজমেন্ট ইমনকে ৪ নম্বর পজিশনে ব্যবহার করার কথা ভাবছে। এতে করে মিডল অর্ডারে যেমন শক্তি বাড়বে, তেমনি লোয়ার মিডল অর্ডারেও একজন মারকুটে ব্যাটার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অধিনায়ক লিটন দাসের পরিকল্পনা ও মন্তব্য
আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লিটন দাস পারভেজ হোসেন ইমনের পজিশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, টিম ম্যানেজমেন্ট এই মুহূর্তে ইমনকে মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবেই দেখছে। লিটন বলেন, “আপাতত আমরা ইমনকে মিডল অর্ডারে ব্যবহারের কথা ভাবছি। ঘরোয়া ক্রিকেটে এবং বিপিএলে সে সেখানে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আমাদের বিশ্বাস সে এই চ্যালেঞ্জ নিতে পারবে।” লিটনের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, কিউই বোলারদের মোকাবিলায় ৪ নম্বর পজিশনে ইমনের পাওয়ার হিটিং সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
নিজের ফর্ম এবং উইকেটকিপিং নিয়ে লিটনের ভাবনা
সংবাদ সম্মেলনে শুধু ইমন নয়, নিজের ব্যক্তিগত ফর্ম এবং উইকেটকিপিংয়ের গুরুদায়িত্ব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন লিটন দাস। দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলছেন তিনি। নিজের ফর্ম নিয়ে লিটন বলেন, “আমি এই মুহূর্তে আমার ফর্মের শিখরে আছি কিনা তা বলা কঠিন। তবে তিন ফরম্যাটে খেলা এবং উইকেটকিপিং করা আমাকে খেলা সম্পর্কে অনেক নতুন ধারণা দিয়েছে। আগে আমি শুধু টেস্টে উইকেটকিপিং করতাম এবং অন্য ফরম্যাটে ফিল্ডিং করতাম। তবে এখন আমি আমার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।” উইকেটকিপিংয়ের চাপ নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “সত্যি বলতে, উইকেটকিপিং আমার জন্য কোনো বড় সমস্যা নয়। আমি যখনই সুযোগ পাই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি এবং এটি আমার ব্যাটিংয়েও মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে।”
বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: প্রথম টি-টোয়েন্টি ও চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপট
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের কম্বিনেশন ঝালিয়ে নেওয়ার এটাই সেরা সুযোগ। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। চট্টগ্রামের পিচ সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক হয়ে থাকে, যেখানে বড় রান পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমন কন্ডিশনে পারভেজ হোসেন ইমনের মতো স্ট্রোক প্লেয়ারের ৪ নম্বরে ব্যাটিং করাটা দলের জন্য তুরুপের তাস হতে পারে।
মিডল অর্ডারে ইমনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
একজন প্রথাগত ওপেনারের জন্য মিডল অর্ডারে নামা সহজ কাজ নয়। কারণ ওপেনিংয়ে যেখানে পাওয়ার প্লে-র সুবিধা পাওয়া যায়, সেখানে ৪ নম্বরে নেমে মাঝের ওভারে স্পিনারদের মোকাবিলা করতে হয়। তবে ইমনের বিপিএল অভিজ্ঞতা তাকে এখানে বড় সাহায্য করবে। যদি তিনি এই নতুন পজিশনে থিতু হতে পারেন, তবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং লাইনআপে এক নতুন ডাইমেনশন যোগ হবে। ক্রিকেট ভক্তরা এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন, ২৭ এপ্রিল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ইমনের এই নতুন ভূমিকা কতটা সার্থক হয়।
