[CRK] রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় পাকিস্তানের, সিরিজে এগিয়ে বাবররা
[CRK]
রাওয়ালপিন্ডিতে জমজমাট লড়াইয়ের ইতি
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৬ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাকিস্তান। ২৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের লড়াই সত্ত্বেও স্বাগতিক পাকিস্তানই সিরিজের প্রথম জয়টি ছিনিয়ে নিয়েছে।
সালমান আঘার ব্যাটে পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানো
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খুব একটা সুবিধাজনক ছিল না পাকিস্তানের। শ্রীলঙ্কার মিতব্যয়ী বোলিংয়ের মুখে শুরুর পাওয়ারপ্লেতে রানের গতি ছিল শ্লথ। তবে দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে হাল ধরেন সালমান আঘা। মাত্র ৮৩ বলে ঝকঝকে এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন হুসেন তালাত, যিনি ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন। এই জুটির ১৩৮ রানের পার্টনারশিপই মূলত পাকিস্তানকে ২৯৯ রানের সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেয়। শেষ দিকে মোহাম্মদ নাওয়াজের ছোট কিন্তু কার্যকরী ক্যামিও পাকিস্তানকে ৩০০ রানের দোরগোড়ায় নিয়ে যায়। শ্রীলঙ্কার হয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ৫৪ রান খরচ করে ৩টি উইকেট শিকার করেন।
শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য ও হারিস রউফের বিধ্বংসী রূপ
জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুটা করেছিল দুর্দান্ত। পাথুম নিসানকা ও কামিল মিশারা উদ্বোধনী জুটিতে ৮৫ রান যোগ করে জয়কে হাতের নাগালে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু হারিস রউফ তার বিধ্বংসী স্পেলে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন। রউফের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৯ চটজলদি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা। রউফ মোট ৪টি উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন।
হাসারাঙ্গার শেষ চেষ্টা ও পাকিস্তানের স্নায়ুচাপ
দলীয় ৯০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর শ্রীলঙ্কা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায়। তবে চারিথ আসালাঙ্কা এবং সাদিরা সামারাবিক্রমার জুটিতে কিছুটা আশা দেখেছিল লঙ্কান সমর্থকরা। কিন্তু বাবরের অসাধারণ ক্যাচিং ও পাকিস্তানের নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে লঙ্কানরা চাপে পড়ে যায়। শেষ দিকে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ৫২ বলে ৫৯ রানের এক সাহসী ইনিংস খেলে জয়কে খুব কাছে নিয়ে আসেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য যখন শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল বেশ কিছু রান, তখন হুসেন তালাত দারুণ বোলিং করে দলকে জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ২৯৩ রানে।
ম্যাচের গুরুত্ব
এই জয় পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও পাকিস্তানের বোলিংয়ে কিছু দুর্বলতা ছিল—বিশেষ করে ২৬টি ওয়াইড বল এবং দুটি ক্যাচ মিস—তবে চাপের মুখে টিকে থাকার মানসিকতা তাদের জয় এনে দিয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা তাদের ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু পেলেও মাঝের ওভারে উইকেট হারানোর খেসারত দিতে হয়েছে। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা পাকিস্তান এখন পরের ম্যাচের অপেক্ষায়। শ্রীলঙ্কার জন্য এটি ছিল একটি হাতছানি দেওয়া ম্যাচ, যা তাদের স্নায়বিক দুর্বলতার কারণে হাতছাড়া হয়েছে।
সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে শ্রীলঙ্কাকে তাদের বোলিং ও ব্যাটিংয়ের ভারসাম্য আরও উন্নত করতে হবে। অন্যদিকে, পাকিস্তান তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাইবে। রাওয়ালপিন্ডির দর্শকদের জন্য এটি ছিল দারুণ উপভোগ্য এক ম্যাচ, যা ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের উত্তেজনাকে পূর্ণ মাত্রায় ফুটিয়ে তুলেছে।
