[CRK] পিএসএল মাতালেন নাহিদ রানা ও শরিফুল: জালমি পরিবারের স্মৃতিতে সিক্ত দুই বাংলাদেশি পেসার
[CRK]
পিএসএলের আঙিনায় বাংলাদেশি পেসারদের দাপট
চলতি বছরের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পেশোয়ার জালমির ডেরায় ছিল এক বিশেষ চমক। বাংলাদেশের দুই উদীয়মান পেসার নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম একই সাথে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির। বল হাতে তারা কেবল প্রতিপক্ষকে নাজেহালই করেননি, বরং নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে জয় করে নিয়েছেন জালমি ভক্তদের মন।
শরিফুল ও নাহিদের অনবদ্য জুটি
নতুন বলে শরিফুল ইসলাম শুরু থেকেই হয়ে উঠেছিলেন অধিনায়ক বাবর আজমের আস্থার প্রতীক। ইনিংসের শুরুর দিকে ধারাবাহিকভাবে উইকেট শিকার করে এবং কিপটে বোলিংয়ে দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নাহিদ রানা তার অবিশ্বাস্য গতি দিয়ে নজর কেড়েছেন মিডল ওভারে। তাদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা পেশোয়ার জালমির বোলিং লাইনআপকে করে তুলেছিল আরও ধারালো। ভক্ত-সমর্থকদের পাশাপাশি ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও তাদের এই পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
টিম ম্যানেজমেন্টের বিশেষ আস্থা
তাদের গুরুত্ব কতটা ছিল তা স্পষ্ট হয় একটি ঘটনা থেকে। পেশোয়ার জালমি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে তাদের এনওসি (অনাপত্তি পত্র) একদিন বাড়ানোর বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, ১৩ই এপ্রিলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে যেন এই দুই পেসারকে পাওয়া যায়। বোর্ড সেই অনুরোধ রাখায় ম্যাচটি খেলে তবেই তারা দেশে ফেরার বিমান ধরেন। পেশোয়ার জালমির প্রতি তাদের নিবেদন এবং দলের প্রতি ম্যানেজমেন্টের আস্থা—সব মিলিয়ে এক দারুণ পেশাদার পরিবেশের জন্ম হয়েছিল সেখানে।
‘খেলোয়াড় হিসেবে এসে জালমি হয়ে ফিরছি’
দেশে ফেরার আগে পেশোয়ার জালমির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে শরিফুল ইসলাম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জালমি পরিবারের সাথে খুব চমৎকার সময় কেটেছে আমার। দলের পরিবেশ, কোচিং স্টাফ এবং প্রত্যেকের আচরণ ছিল দারুণ। বিশেষ করে টিম ওনারের সাথে রাতের খাবার খাওয়ার মুহূর্তটি আমাকে মুগ্ধ করেছে, তিনি অত্যন্ত অমায়িক মানুষ। আমি এখানে খেলোয়াড় হিসেবে এসেছিলাম, কিন্তু এখন ফিরছি একজন জালমি হিসেবে। সুযোগ পেলে আবারও ফিরে আসতে চাই।’
অভিজ্ঞতার ঝুলি ও নতুন শেখা
নাহিদ রানা তার প্রতিক্রিয়ায় পিএসএলকে বিশ্বমানের টুর্নামেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘পিএসএলের মান সত্যিই অতুলনীয়। এখানে খেলতে এসে বিশ্বের সেরা সব ব্যাটার ও বোলারদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ হয়েছে। অনুশীলনের ধরণ থেকে শুরু করে ম্যাচের কৌশল—সব কিছুই আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। জালমি ভক্তদের ভালোবাসা কোনোদিন ভুলব না। আমি মানসিকভাবে এই দলটির সাথে জড়িয়ে গেছি।’
ভবিষ্যতের পথচলা
বর্তমানে এই দুই পেসার দেশে ফিরেছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত হতে। পিএসএলের এই অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাসকে যে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা বলাই বাহুল্য। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের প্রতি এই আবেগ ও ভালোবাসা তাদের ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পেশোয়ার জালমির সমর্থকরাও এখন নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন তাদের প্রিয় দুই বাংলাদেশি পেসারের। আশা করা যায়, আগামী দিনে জাতীয় দলের জার্সিতেও তারা একইভাবে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবেন।
পেশোয়ার জালমির পক্ষ থেকে তাদের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকুক এবং এই দুই তরুণ পেসার ভবিষ্যতে ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে আরও বড় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখুক—এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমীদের।
