[CRK] লিটন দাসের ফোন পেলেন সাকলাইন: বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলে নতুন চমক
[CRK]
জাতীয় দলে ডাক এবং লিটন দাসের সেই বিশেষ ফোন কল
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে জাতীয় দলের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্ন দেখেন হাজারো তরুণ। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের সেই স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। তবে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার আনন্দটা তার জন্য দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল একটি বিশেষ ফোন কলের মাধ্যমে। দল ঘোষণার পরপরই সাকলাইনের মুঠোফোনে বেজে ওঠে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসের কল। একজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্য দলের অধিনায়কের কাছ থেকে সরাসরি অভিনন্দন পাওয়া যে কতটা অনুপ্রেরণার, তা সাকলাইনের কথাতেই স্পষ্ট।
অধিনায়কের পাশাপাশি জাতীয় দলের নির্বাচকরাও সাকলাইনের সাথে যোগাযোগ করেছেন। সাকলাইন জানান, সুযোগ পেলে তিনি দেশের জন্য নিজের উজার করে দিতে প্রস্তুত। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “অধিনায়ক লিটন দাস আমাকে ফোন করেছিলেন। উনার সাথে আমার কথা হয়েছে। নির্বাচকরাও ফোন করে আমাকে সুখবরটি দিয়েছেন।”
বিসিবি সভাপতির সাথে কথা হয়েছে কি?
ক্রিকেট পাড়ায় গুঞ্জন ছিল যে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সাথে সাকলাইনের কোনো কথা হয়েছে কি না। এই বিষয়ে তরুণ এই অলরাউন্ডার পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, এখনো সভাপতির সাথে তার সরাসরি কোনো কথা হয়নি। তিনি বলেন, “না, উনার (তামিম ইকবাল) সাথে আমার এখনো কথা হয়নি। তবে অধিনায়ক এবং নির্বাচকদের সাথে কথা বলে আমি মানসিকভাবে বেশ চনমনে আছি।” উল্লেখ্য যে, জাতীয় দলের এই নতুন যাত্রায় অধিনায়কের সমর্থন তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
বিসিএল-এর ব্যস্ততার মাঝেই টি-টোয়েন্টি প্রস্তুতি
মজার ব্যাপার হলো, যেদিন সাকলাইন জাতীয় দলে ডাক পেলেন, সেদিন থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) শুরু হয়েছে। যদিও বর্তমানে তিনি তার দলের মূল একাদশে নেই, কিন্তু এক মুহূর্তও অলস বসে নেই এই তরুণ ক্রিকেটার। লাল বলের ক্রিকেটের মাঝেও তিনি সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য নিজেকে শাণিত করছেন।
সাকলাইন তার প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, “লাঞ্চ ব্রেকের সময় আমি ব্যাটিং করতে চেয়েছিলাম। এই বিসিএল ম্যাচের পরেই প্রিমিয়ার লিগ শুরু হবে। কিন্তু তার আগেই আমি জাতীয় দলের এই বড় সুযোগটি পেয়েছি। সামনে টি-টোয়েন্টি সিরিজ, তাই আমি সেই ফরম্যাটের কথা মাথায় রেখেই ব্যাটিং প্র্যাকটিস করছিলাম এবং কোচ আমার ব্যাটিং দেখছিলেন।” বিরতির সময়েও তার এই কঠোর পরিশ্রম প্রমাণ করে যে তিনি কতটা সিরিয়াস।
তরুণদের কাঁধে গুরুভার: সিনিয়রদের অনুপস্থিতি
এবারের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে সাকলাইনের পাশাপাশি ডাক পেয়েছেন তরুণ পেসার রিপন মন্ডল। অন্যদিকে, দলের অভিজ্ঞ তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং নাহিদ রানাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অভিজ্ঞদের অনুপস্থিতিতে তরুণদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব বর্তাবে। সাকলাইন এই চ্যালেঞ্জ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
সিনিয়রদের শূন্যস্থান পূরণ করা প্রসঙ্গে তিনি বিনয়ের সাথে বলেন, “যেহেতু সিনিয়র ক্রিকেটাররা দলে নেই, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব সেই শূন্যস্থানটি পূরণ করার। তবে সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। আমি কেবল আমার সেরাটা দিয়ে দেশের সম্মান রক্ষা করতে চাই।”
দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও সুস্বাস্থ্য
অধিকাংশ তরুণ ক্রিকেটার যেখানে ব্যক্তিগত রেকর্ডের পেছনে ছোটেন, সেখানে সাকলাইন বেশ ধীরস্থির। তিনি নিজের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা মাইলফলক নির্ধারণ করেননি। তার প্রধান লক্ষ্য হলো ফিট থাকা এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য জাতীয় দলকে সেবা দেওয়া।
তিনি যোগ করেন, “আমি এখনো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত লক্ষ্য সেট করিনি। আমি শুধু আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে সুস্থ রাখেন। আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো সুস্থ থেকে দীর্ঘকাল দেশের হয়ে খেলে যাওয়া।” সাকলাইনের এই পরিপক্ক ভাবনা ক্রিকেট ভক্তদের আশাবাদী করে তুলছে।
উপসংহার
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন তারুণ্যের জয়জয়কার। তাসকিন-মুস্তাফিজদের বিশ্রামের ফলে সাকলাইন ও রিপন মন্ডলের মতো তরুণদের সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার। অধিনায়ক লিটন দাসের নেতৃত্বে সাকলাইন কতটুকু সফল হতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে তার পরিশ্রম এবং একাগ্রতা দেখে বলাই যায়, বাংলাদেশের ক্রিকেটে আরও এক নক্ষত্রের উদয় হতে যাচ্ছে।
