আইপিএল ২০২৬: বরুণ ও নারাইনের ঘূর্ণিতে থামল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জয়রথ
বরুণ ও নারাইনের ঘূর্ণিতে মুখ থুবড়ে পড়ল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ
আইপিএল ২০২৬-এর জমজমাট আসরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অপ্রতিরোধ্য গতিকে শেষ পর্যন্ত থামাল কলকাতা নাইট রাইডার্স। হায়দ্রাবাদের নিজস্ব মাঠে স্লো পিচে বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারাইনের ঘূর্ণি জাদুতে কুপোকাত হয়েছে অরেঞ্জ আর্মি। এর ফলে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর হারের মুখ দেখতে হলো সানরাইজার্সকে। ম্যাচে কেকেআর জয় পেয়েছে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে।
হায়দ্রাবাদের উড়ন্ত শুরু ও ছন্দপতন
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অধিনায়ক। শুরুটা হয়েছিল ট্রাভিস হেডের ব্যাট থেকে আগুনের গোলা ছোড়ার মতোই। দ্বিতীয় ওভারেই বৈভব অরোরাকে চারবার সীমানা ছাড়া করেন হেড। পাওয়ারপ্লে-তে হায়দ্রাবাদের রান যখন পাহাড়সম লক্ষ্য ছুঁতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন কেকেআর বোলাররা।
একদিকে ট্রাভিস হেডের ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস আর অন্যদিকে অভিষেক শর্মার ৪২ রান—সব মিলিয়ে নবম ওভারের মাথায় হায়দ্রাবাদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১০৫। কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারাইন জুটি বাঁধেন এবং হায়দ্রাবাদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান।
নারাইনের মাইলফলক ও বরুণের মিতব্যয়ী বোলিং
এই ম্যাচে সুনীল নারাইন বল হাতে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বসেরা টি-টোয়েন্টি বোলার। তিনি এই ম্যাচে দুই উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি আইপিএলের ইতিহাসে ২০০ উইকেট শিকারি এলিট ক্লাবে প্রবেশ করলেন। অন্যদিকে, বরুণ চক্রবর্তী নিজের ঘূর্ণিতে হায়দ্রাবাদের ব্যাটারদের নাকানিচুবানি খাইয়ে ৩টি উইকেট নিয়েছেন। তাদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণে হায়দ্রাবাদ ১০৫/১ থেকে মাত্র ১৬৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ১৯ ওভারে।
- বরুণ চক্রবর্তী: ৩ উইকেট (৩৬ রান)
- কার্তিক ত্যাগী: ২ উইকেট (৩০ রান)
- সুনীল নারাইন: ২ উইকেট (৩১ রান)
অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর দুর্দান্ত চেজ
১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কলকাতা নাইট রাইডার্স শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক। পাওয়ারপ্লে-র সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে কেকেআর দ্রুত ৭১ রান তুলে ফেলে। দলের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন তরুণ তুর্কি অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। তিনি ৪৭ বলে ৫৯ রানের একটি ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস উপহার দেন। অজিঙ্ক রাহানের ৪৩ রানের কার্যকরী ইনিংসটিও দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
শেষ পর্যন্ত ১০ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে কেকেআর। এটি কলকাতা নাইট রাইডার্সের টানা তৃতীয় জয়। আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণে এই জয়টি কেকেআরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ তাদের এই হারের ফলে কিছুটা ব্যাকফুটে পড়ল, তবে তাদের ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আজকের ম্যাচে কেকেআরের স্পিনাররা যে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, তাতে হায়দ্রাবাদের ব্যাটারদের কোনো উত্তর ছিল না।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
ট্রাভিস হেড এদিন ২২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন। কার্তিক ত্যাগী অভিষেক শর্মাকে প্যাভিলিয়নে ফেরান ১৪৫ কিমি গতির এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে। কিন্তু দিনের শেষে বরুণ ও নারাইনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। রঘুবংশীর পরিণত ব্যাটিং প্রমাণ করল যে কেকেআরের মিডল অর্ডার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আইপিএল ২০২৬-এর পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কোন দল কেমন পারফর্ম করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আজকের রাতটি পুরোপুরি ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের এবং তাদের দুই স্পিন জাদুকরের।
