[CRK] ইসলামবাদ ইউনাইটেডের দাপুটে জয়: হাইদ্রাবাদ কিংসমেনকে গুঁড়িয়ে প্লে-অফে জায়গা করে নিল ইউনাইটেড
[CRK]
পিএসএল ২০২৬: হাইদ্রাবাদ কিংসমেনকে ধুলোয় মিশিয়ে প্লে-অফে ইসলামবাদ ইউনাইটেড
পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ২০২৬-এর মঞ্চে একطرفীয় লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট প্রেমীরা। হাইদ্রাবাদ কিংসমেনকে আট উইকেটে বিধ্বস্ত করে প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল ইসলামবাদ ইউনাইটেড। পুরো ম্যাচে কিংসমেনদের কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেখা যায়নি। তারা মাত্র ৮০ রানে অলআউট হয়ে যায়, যা পিএসএল ইতিহাসের পঞ্চম সর্বনিম্ন স্কোর। আর লক্ষ্য তা তাড়া করতে নেমে মাত্র ২০ ওভারে ৮৩ রান করে জয়লাভ করে ইউনাইটেড, যার ফলে মাঠের লড়াইয়ে ৮০টি বল বাকি থাকতেই তারা জয় নিশ্চিত করে। বলের হিসেবে এটি পিএসএল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়।
বোলিং আক্রমণে ইউনাইটেডের আধিপত্য
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইসলামবাদ ইউনাইটেডের অধিনায়ক। করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামের বাতাসে আর্দ্রতা এবং বিশেষ ধরণের পাশাপাশি বাতাসের কথা মাথায় রেখে ইউনাইটেড তাদের পাওয়ারপ্লে ওভারগুলোর সবকটিই পেস বোলারদের দিয়ে করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এই কৌশলটিই প্রমাণিত হয় মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে।
শুরু থেকেই বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন রিচার্ড গ্লিসন। পাওয়ারপ্লের প্রথম বল থেকেই তিনি কিংসমেনদের ব্যাটিং লাইন-আপ তছনছ করতে শুরু করেন। মাআজ সাদাকাত পুল করতে গিয়ে ডিপ থার্ডে ক্যাচ দিয়ে দ্রুত বিদায় নেন। গ্লিসনের বোলিংয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল তার নিখুঁত লেন্থ; তার প্রায় ৫৭ শতাংশ ডেলিভারি ছিল ছয় থেকে আট মিটারের মধ্যে, যা ব্যাটসম্যানদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। ফলে মারনাস ল্যাবুশেন এবং সাইম আইয়ুবের মতো তারকাদের দ্রুত আউট করে কিংসমেনদের ২৪ রানে ৩ উইকেটে পর্যসত নিয়ে যান তিনি। গ্লিসন শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩টি উইকেট দখল করেন।
শাদাব ও ইমাদের মরণফাঁদ
পাওয়ারপ্লের পর কিংসমেনদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। অধিনায়ক শাদাব খান এবং অভিজ্ঞ ইমাদ ওয়াসিম ধারাবাহিকভাবে উইকেট নিতে থাকেন। উসমান খান (৩৫ বলে ২৫*) এবং কুশল পেরেরা কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও শাদাবের টপ-স্পিন প্রযুক্তির সামনে পেরেরা অসহায় হয়ে পড়েন। শাদাব তার স্পেলে ১৩ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন।
অন্যদিকে ইমাদ ওয়াসিম তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কিংসমেনদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। বিশেষ করে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, যিনি এই মৌসুমে চরম ফর্মহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন (৫ ইনিংসে মাত্র ২৬ রান), তাকে এলবিডব্লিউ আউট করে ইমাদ নিশ্চিত করেন কিংসমেনদের পরাজয়। ইমাদ ২১ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। সালমান মির্জার একটি উইকেটের পর ইমাদ ১৬তম ওভারে বাকি সব উইকেট নিয়ে কিংসমেনদের ৮০ রানেই থামিয়ে দেন।
তীব্র ব্যাটিং আক্রমণ ও রেকর্ড জয়
৮১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইসলামবাদ ইউনাইটেডের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। মাত্র দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ আলির বলে আউট হয়ে যান ডেভন কনওয়ে। তবে এরপর শুরু হয় দুই তরুণ তুর্কির তাণ্ডব— সमीर মিনহাস এবং মোহসিন রিয়াজ।
পিএসএল-এ অভিষেক ম্যাচে মোহসিন রিয়াজ বাজিমাত করেন। মাত্র ১৮ বলে ৪২ রান করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল একের পর এক বিশাল ছক্কা। অন্যদিকে Sameer Minhas ২০ বলে অপরাজিত ২৭ রান করে দলের জয় ত্বরান্বিত করেন। এই জুটি মাত্র ৩৮ বলে ৭৯ রানের এক বিধ্বংসী পার্টনারশিপ গড়ে তোলে। হুনাঈন শাহ এবং মোহাম্মদ আলিকে তারা চারCorners-এ শাসন করেন। বিশেষ করে হাসান খানের অফস্পিনে মাত্র এক ওভারে ২৩ রান তুলে নেন এই জুটি।
পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার পর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ রান। সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে শাদাব খানের একটি ব্যাক-ফুট কাটের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করে ইউনাইটেড।
প্লে-অফের সমীকরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই জয়ের ফলে ইসলামবাদ ইউনাইটেড এখন প্লে-অফের টিকিট হাতে পেয়েছে। তবে লিগ পর্বের শীর্ষ দুইয়ের লড়াই এখনো বাকি। বর্তমানে মালতান সুলতানস ২ নম্বর অবস্থানে রয়েছে এবং ইউনাইটেডের চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে। আগামী ম্যাচে মালতান সুলতানসের বিপক্ষে জয় পেলে ইউনাইটেড শীর্ষ দুইয়ের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান গড়তে পারবে।
অন্যদিকে, হাইদ্রাবাদ কিংসমেনদের জন্য পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত জটিল। তারা এখন লাহোর ক্যালাণ্ডার্স এবং করাচি কিংসের সাথে চূড়ান্ত প্লে-অফ স্পটের জন্য লড়াই করছে। তিন দলেরই বর্তমানে ৮ পয়েন্ট রয়েছে, তাই বাকি ম্যাচের ফলাফল এবং নেট রান রেটের ওপর তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল:
- হাইদ্রাবাদ কিংসমেন: ৮০ অলআউট (উসমান ২৫*, গ্লিসন ৩-৯, শাদাব ৩-১৩, ইমাদ ৩-২১)
- ইসলামবাদ ইউনাইটেড: ৮৩/২ (মোহসিন ৪২, সমীর ২৭*, মোহাম্মদ আলী ২-২৯)
- ফলাফল: ইসলামবাদ ইউনাইটেড ৮ উইকেটে জয়ী (৮০ বল বাকি থাকতেই)
