আইপিএল ২০২৬: ইশান কিষাণকে বোল্ড করে প্রিন্স যাদবের বিধ্বংসী পারফরম্যান্স
আইপিএল ২০২৬: লখনউয়ের নতুন তারকা প্রিন্স যাদব
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে লখনউ সুপার জায়ান্টস (এলএসজি) যে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ নিয়ে মাঠে নেমেছে, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। এনরিখ নর্ৎজে থেকে শুরু করে মোহাম্মদ শামির মতো অভিজ্ঞ পেসারদের পাশাপাশি দলে রয়েছে তরুণ ভারতীয় প্রতিভার এক অনন্য সংমিশ্রণ। এই তরুণদের ভিড়ে বর্তমানে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ডানহাতি পেসার প্রিন্স যাদব। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে দুর্দান্ত শুরুর পর, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল এককথায় দেখার মতো।
ইশান কিষাণের রক্ষণভাগ তছনছ
রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ম্যাচে প্রিন্স যাদব যেন আগুনের গোলা ছুড়ছিলেন। হায়দ্রাবাদের পিচে পেসারদের জন্য বাড়তি সুবিধা ছিল, যা কাজে লাগিয়ে মোহাম্মদ শামি আগেই অভিষেক শর্মা ও ট্র্যাভিস হেডকে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন। এরপর হায়দ্রাবাদ দল যখন চাপে, তখন তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক ইশান কিষাণ। তবে পিচের কঠিন পরিস্থিতিতে প্রিন্স যাদবের একটি লেংথ বল কিষাণের ডিফেন্সকে পরাস্ত করে স্টাম্প উপড়ে ফেলে। কিষাণ যখন ড্রাইভ করার চেষ্টা করেন, তখন ব্যাট ও প্যাডের মধ্যকার বড় ফাঁক দিয়ে বল ভেতরে ঢুকে যায়। এটি ছিল এবারের আইপিএলের অন্যতম সেরা ডেলিভারিগুলোর একটি। উইকেট পাওয়ার পর প্রিন্স যাদব আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরকে কৃতজ্ঞতা জানান।
সঞ্জীব গোয়েঙ্কার আবেগ ও বিশ্বাস
মাঠে উপস্থিত ছিলেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। কিষাণের উইকেট পড়ার পর ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ে গোয়েঙ্কার হাসিমুখ। আবেগে আপ্লুত হয়ে তাকে লর্ড তিরুপতির ছবি বের করে আশীর্বাদ নিতে দেখা যায়। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে গোয়েঙ্কা জানান, উচ্চ-চাপের ম্যাচগুলোতে তিনি সবসময় লর্ড তিরুপতির ছবি সাথে রাখেন। তার মতে, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং ক্রিকেটের লড়াইয়ে কঠোর পরিশ্রম ও কৌশলের পাশাপাশি দৈব আশীর্বাদের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ কাজ করে।
বোলারদের ওপর আস্থার প্রতিদান
গত আইপিএল মরসুমে লখনউয়ের ব্যাটিং শক্তিশালী হলেও ইনজুরির কারণে বোলাররা সেভাবে নজর কাড়তে পারেননি। তবে ২০২৬ মরসুমের জন্য সঞ্জীব গোয়েঙ্কা ভারতীয় পেস বোলিং ইউনিটের ওপর পুনরায় আস্থা রেখেছেন। নিলামে মোহাম্মদ শামিকে দলে নেওয়া এবং আবেশ খান, প্রিন্স যাদব, মায়াঙ্ক যাদব ও মহসিন খানের মতো প্রতিভাবানদের ধরে রাখা ছিল এক দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। প্রথম দুটি ম্যাচেই লখনউয়ের বোলাররা প্রমাণ করেছেন যে মালিকের এই আস্থা মোটেও বৃথা যায়নি। বিপক্ষ দলের ব্যাটাররা তাদের গতির সামনে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। লখনউ সুপার জায়ান্টস বর্তমানে একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যেখানে বোলিং আক্রমণ তাদের মূল শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রিন্স যাদবের মতো তরুণ তুর্কির উত্থান দলটিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ক্রিকেটের এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বোলাররা যেভাবে ধারাবাহিকভাবে উইকেট শিকার করছেন, তাতে এটি স্পষ্ট যে তারা ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামের এই পারফরম্যান্স কেবল প্রিন্স যাদবের ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক নয়, বরং এটি এলএসজি ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নও বটে।
