[CRK] হায়দরাবাদ কিংসমেন এনআরআরের জোরে প্লেঅফে খেলার টিকিট পেল, রাওয়ালপিন্ডি জেতা হল 108 রানে
[CRK]
হায়দরাবাদ কিংসমেন – 244/6 (ম্যাক্সওয়েল 70, উসমান খান 54*, সাদ মাসুদ 2-34) বনাম রাওয়ালপিন্ডি – 136 অলআউট (খাওয়াজা 66*, হুনাইন 4-22, জাভেদ 3-38), 108 রানে জয়ী
চার হারের পর মহা ফিরে আসা
হায়দরাবাদ কিংসমেন যেন মরণ-প্রাপ্ত দলকে জীবন ফিরে পেয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে চার ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর তারা প্রায় বাইরে মনে হচ্ছিল, কিন্তু এবার এক ঝটকায় তারা প্লেঅফে উত্তীর্ণ হয়ে গেল। শুধু তাই নয়, নেট রান রেটের জোরে তারা বাদ দিয়ে দিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন লাহোর কোয়ান্ডার্সকে।
ম্যাক্সওয়েল-উসমান ভিত্তি গড়ে দিল
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামতে হয় কিংসমেনকে। তাদের অধিনায়ক মার্নাস ল্যাবুসচান তাড়াতাড়ি ফিরে গেলেও, মাআজ সাদাকাত 11 বলে 28 রানে আগুন লাগিয়ে দেন পাওয়ারপ্লেয়। উসমান খান এবং কুসাল পেরেরার সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রথম 10 ওভারে এক দুর্দান্ত ভিত্তি গড়ে দেন।
উসমান অপরাজিত 54 রানে খেললেও মূল ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। টুর্নামেন্ট জুড়ে খারাপ ফর্মে থাকা অস্ট্রেলিয়ান তার ব্যাটে আগুন লাগান। শুধু সাদ মাসুদ ছাড়া অন্য কোনও বোলারই সামলাতে পারেননি। বিশেষ করে মোহাম্মদ আমিরকে চার ওভারে 57 রান দিতে হয়। এটি তার টি20 ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক পারফরম্যান্স।
ম্যাক্সওয়েল (70) এবং পেরেরা (অপরাজিত) একসঙ্গে রানের ধারা বজায় রাখেন। ম্যাক্সওয়েলের রান আউট হওয়ার পর হাসান খান শেষ তিন বলে 16 রান তুলে স্কোর ঠেলে দেন 244-এ।
হুনাইনের ঘাতক বোলিং
রাওয়ালপিন্ডির হাতে ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ: 245 রান তাড়া করতে হবে। কিন্তু প্রথম পাঁচ ওভারে তারা 55 রান তুলে ফেলে। আকিফ জাভেদ ও সাইম আইয়ুব স্পিড ধরিয়ে দেয়।
কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে হুনাইন শাহ ঘুরিয়ে দেন ম্যাচ। তার অ্যাটাকের চূড়ান্ত বলেই তুলে নেন দুটি উইকেট: মোহাম্মদ রিজওয়ান ও কামরান গুলাম। রান রেট কমে আসে। কিন্তু উসমান খাওয়াজা 66 রানের কুশলী ইনিংসে নিশ্চিত করেন যে রাওয়ালপিন্ডি 158-এর লক্ষ্যমাত্রা পার হবেই।
অন্যপাশে উইকেট পড়তে থাকে। আকিফ জাভেদকে বাউন্সারে আউট করেন, ফরেস্টারকে হাসান খানের স্টানিং ক্যাচে আউট করা হয়। সাদ মাসুদকে ম্যাক্সওয়েল ধরেন মিড-অফে।
ম্যাচের মুহূর্ত: হুনাইনের ডেলিভারি
খাওয়াজা রান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু 17তম ওভারে তার সঙ্গী আমাদ বুট লুজ শট খেলে হুনাইনের হাতে আউট হয়ে যান। দুই ওভার আগে ম্যাক্সওয়েল আমিরকে আউট করেন। খাওয়াজা স্ট্রাইক রাখার চেষ্টায় রান আউটের কিছুটা ছিটকে যান। পরিস্থিতি তখন চাপে।
17তম ওভারের শেষে নবম উইকেট পড়ল। হুনাইন ফিরে আসেন শেষ বোলিং ওভারের জন্য। একাদশ নম্বরে বেন সিয়ার্স ব্যাটিং করছেন।
প্রথম বল। অন্তর্নিহিত ইয়র্কার। বল পিচ থেকে উঠল, সিয়ার্সের হালকা ডিফেন্স ঘুরিয়ে পুরো স্টাম্প উড়িয়ে দিল। বেল উড়ে গেল। ম্যাচ শেষ।
হায়দরাবাদ কিংসমেন উল্লাস করল। লাহোর কোয়ান্ডার্সের স্বপ্ন ভেঙে গেল।
সারসংক্ষেপ
- হায়দরাবাদ কিংসমেন 244/6 তুলেছে
- ম্যাক্সওয়েলের 70 রান, উসমান খানের অপরাজিত 54
- হুনাইন শাহের 4-22
- রাওয়ালপিন্ডি 136 রানে গুটিয়ে গেল
- খাওয়াজার 66* নিরর্থক
- নেট রান রেটের জোরে কিংসমেন প্লেঅফে উত্তীর্ণ
- লাহোর কোয়ান্ডার্স বাদ
হায়দরাবাদ কিংসমেনের ফিরে আসা শুধু ম্যাচের বিজয় নয়, এক অবিশ্বাস্য দলগত মানসিকতার প্রকাশ। টাইটেল ধরে রাখা এখনও হয়তো বাহুল্য, কিন্তু এই জয় তাদের পথ তৈরি করেছে।
