Report

[CRK] এমিলিও গে এবং বেডিংহামের রেকর্ড জুটি: ল্যাঙ্কাশায়ারকে হারাল ডারহাম

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

[CRK]

ডারহামের ঐতিহাসিক রান তাড়া ও রেকর্ড জয়

রথসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-এর লড়াইয়ে এক অভাবনীয় জয়ের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। ল্যাঙ্কাশায়ারের দেওয়া ৩৩৬ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডারহাম কেবল দুই উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এই জয়ের প্রধান কারিগর ছিলেন এমিলিও গে এবং ডেভিড বেডিংহাম। তাদের অবিচ্ছিন্ন ২৯০ রানের জুটি ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলারদের শাসন করে ডারহামকে ৮ উইকেটের বড় জয় এনে দিয়েছে।

চ্যালেঞ্জিং শুরু ও ওপেনারদের বিদায়

চতুর্থ দিনের সকালে ডারহামের সামনে সমীকরণ ছিল ৩৩৬ রান, আর ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রয়োজন ছিল ১০টি উইকেট। ম্যাচটি তখন সমানে সমান লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ডারহামের দুই ওপেনার বেন ম্যাককিনি এবং অ্যালেক্স লিস প্রথম এক ঘণ্টা বেশ সতর্কতার সাথে জেমস অ্যান্ডারসন ও টম বেইলির নতুন বলের স্পেল সামলে নেন। তবে ডারহামের শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন মিচ স্ট্যানলি। লিস তার একটি ডেলিভারি ভুল বিচার করে ছেড়ে দিলে বল স্টাম্পের উপরের অংশে আঘাত করে।

এর কিছুক্ষণ পরেই জর্জ ব্যাল্ডারসন বোল্ড করেন ম্যাককিনিকে। ১২৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনার বিদায় নিলে ডারহাম কিছুটা চাপে পড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে ক্রিজে একত্রিত হন এমিলিও গে এবং ডেভিড বেডিংহাম। তখনো জয়ের জন্য ডারহামের প্রয়োজন ছিল অনেক রান, আর ল্যাঙ্কাশায়ার ছিল আত্মবিশ্বাসী।

গে এবং বেডিংহামের রেকর্ড গড়া জুটি

দুই উইকেট হারানোর পর এমিলিও গে এবং বেডিংহাম পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। এমিলিও গে তার ইনিংসের শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা দেখান। প্রথম তিন বলের মধ্যে দুটি বাউন্ডারি মেরে তিনি ডারহামের রানের গতি সচল রাখেন। অন্যদিকে বেডিংহাম মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে একটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের উপস্থিতির জানান দেন।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর রোদ উজ্জ্বল হয়ে উঠলে এবং বল কিছুটা নরম হয়ে এলে ব্যাটিং করা সহজ হয়ে যায়। এই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগান গে ও বেডিংহাম। তারা ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে ডারহামের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ডটি ভেঙে ফেলেন। তাদের ব্যাটিং দৃঢ়তা এবং বাউন্ডারি মারার দক্ষতা ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলারদের অসহায় করে তোলে।

শতক ও মাইলফলকের ছড়াছড়ি

এমিলিও গে চলতি মরসুমে দ্বিতীয়বারের মতো পঞ্চাশ রানের গণ্ডি পার করেন এবং দ্রুতই সেটিকে শতকে রূপান্তর করেন। তার সাবলীল ব্যাটিং জেমস অ্যান্ডারসনের মতো কিংবদন্তি বোলারকেও চাপে ফেলে দিয়েছিল। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার ডেভিড বেডিংহামও পিছিয়ে ছিলেন না। তিনি ডারহামের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ১৮তম শতকটি পূর্ণ করেন।

ম্যাচের এক পর্যায়ে ল্যাঙ্কাশায়ার জয় থেকে অনেক দূরে সরে যায়। এমিলিও গে শেষ পর্যন্ত ১৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন, যা ডারহামের জার্সিতে তার চতুর্থ ১৫০-ঊর্ধ্ব স্কোর। অন্যদিকে বেডিংহাম অপরাজিত থাকেন ১২৯ রানে। তাদের এই বিধ্বংসী জুটি ডারহামকে ১৮.১ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও পয়েন্ট তালিকার অবস্থান

এই ম্যাচে ডারহামের ঘুরে দাঁড়ানো ছিল সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রথম ইনিংসে ১২৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে যখন তারা বিশাল লিড খাওয়ার শঙ্কায় ছিল, সেখান থেকে ম্যাথিউ পটস ৬৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। ল্যাঙ্কাশায়ার প্রথম ইনিংসে ৩৭০ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংস ২৬০ রানে ডিক্লেয়ার করে ৩৩৬ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু গে এবং বেডিংহামের মাস্টারক্লাস ব্যাটিং ল্যাঙ্কাশায়ারের পরিকল্পনা ধূলিসাৎ করে দেয়।

  • ডারহাম প্রথম ইনিংস: ২৯৫ (ম্যাথিউ পটস ৬৬)
  • ল্যাঙ্কাশায়ার প্রথম ইনিংস: ৩৭০ (হ্যারিস ১৪৬, রেইন ৪-৭৭)
  • ল্যাঙ্কাশায়ার দ্বিতীয় ইনিংস: ২৬০/৯ ডিক্লেয়ার (কফলিন ১০০*)
  • ডারহাম দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৩৬/২ (এমিলিও গে ১৫৯*, বেডিংহাম ১২৯*)

এই জয়ের ফলে ডারহাম পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ল্যাঙ্কাশায়ার বর্তমানে শীর্ষে থাকলেও ডারহাম তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে মাত্র ৩ পয়েন্ট পেছনে রয়েছে। এই জয়টি ডিভিশন টু থেকে প্রমোশনের লড়াইয়ে ডারহামকে অনেকখানি এগিয়ে দিল।

উপসংহার

ডারহামের এই জয় কেবল একটি জয় নয়, বরং চাপের মুখে কীভাবে রেকর্ড গড়া ইনিংস খেলতে হয় তার একটি অনন্য উদাহরণ। এমিলিও গে এবং ডেভিড বেডিংহামের এই জুটি ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পার্টনারশিপ হিসেবে গণ্য হবে। ল্যাঙ্কাশায়ারের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে তাদের এই আধিপত্য ক্রিকেট ভক্তদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে। ডারহামের পরবর্তী লক্ষ্য এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখল করা এবং তাদের এই জয়ের ধারা বজায় রাখা।

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.