[CRK]

ডি ককের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার দাপট

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার। কুইন্টন ডি ককের ১২৩ রানের অপরাজিত ইনিংসের ওপর ভর করে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে ওডিআই সিরিজ সমতায় ফেরাল দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তানের দেওয়া ২৭০ রানের লক্ষ্যমাত্রা দক্ষিণ আফ্রিকা তা করে নেয় মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে, এবং হাতে থাকে প্রায় ৫৯টি বল।

পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয় ও নান্দ্রে বার্গারের জাদু

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। তবে শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে তারা। বিশেষ করে বামহাতি পেসার নান্দ্রে বার্গার এবং লেগস্পিনার নকাবায়োমজি পিটার তাদের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন। বার্গার ৪৬ রানে ৪টি উইকেট এবং পিটার ৫৫ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেন।

ম্যাচের পঞ্চম ওভারের মধ্যেই পাকিস্তান ৩ উইকেটে ২২ রানে পরিণত হয়েছিল। বার্গারের তৃতীয় বলে ফখর জামান আউট হন। এরপর কোরবিন বশ এবং বার্গারের সাঁড়াশি আক্রমণে পরাস্ত হন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজম এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান। বার্গারের একটি নিখুঁত ডেলিভারিতে রিজওয়ান স্টাম্পড হয়ে মাঠ ছাড়েন, যা পাকিস্তানকে গভীর সংকটে ফেলে দেয়।

মোহাম্মদ নওয়াজ ও আগার লড়াই

শুরুতে বিপর্যয় ঘটলেও সায়ম আইয়ুব এবং সালমান আগার হাফ-সেঞ্চুরি পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে তাদের ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইক রেট ছিল অত্যন্ত ধীর (সায়ম ৮০.৩০ এবং আগা ৬৫.০৯), যার ফলে রান তোলার গতি ছিল মন্থর। শেষ দিকে মোহাম্মদ নওয়াজের ক্যারিয়ার সেরা রান-এ-বল ৫৯ রানের ইনিংসটি পাকিস্তানকে ২৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে ২৬৯ রানে পৌঁছে দেয়।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সুশৃঙ্খল বোলিং পাকিস্তানের বড় স্কোর গড়তে বাধা দেয়। কোরবিন বশ, ডনোভান ফেরেরা এবং বিয়র্ন ফরটুইন প্রত্যেকেই ওভার প্রতি ৬ রানের নিচে বল করে পাকিস্তানকে চাপে রাখে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ৯ উইকেটে ২৬৯ রানে সব আউট হয়।

সহজ লক্ষ্য জয় এবং ডি ককের মাস্টারক্লাস

২৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনার লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস এবং কুইন্টন ডি কক প্রথম উইকেটে ৮১ রানের একটি গতিশীল পার্টনারশিপ গড়েন। প্রিটোরিয়াস নাসিম শাহ এবং শাহীন শাহ আফ্রিদির আক্রমণ সামলে নিয়ে বেশ কিছু চার মারেন, তবে মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন।

প্রিটোরিয়াসের বিদায়ের পর হাল ধরেন ডি কক এবং টনি ডি জোরজি। এই জুটি দ্বিতীয় উইকেটে ১৫৩ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে তোলে। টনি ডি জোরজি ৭৬ রানের একটি আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি মোহাম্মদ নওয়াজের বিরুদ্ধে রিভার্স সুইপ এবং স্লগ শটের মাধ্যমে মাত্র ১৩ বলে ২৭ রান সংগ্রহ করেন।

অন্যদিকে, ডি কক তাঁর ইনিংসটিকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সাজান। তিনি প্রথমে সাবধানে খেলেন এবং পরে আগ্রাসী হয়ে ওঠেন। আফ্রিদির বল উড়িয়ে এবং আগার বিপক্ষে ছক্কা মেরে তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের ২২তম ওডিআই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ডি কক যখন ৯৮ রানে ছিলেন, তখন আফ্রিদি এলবিডব্লিউ-র জন্য রিভিউ নেন, কিন্তু বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করায় তিনি বেঁচে যান এবং পরবর্তী দুই বলেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

উপসংহার ও আগামী লড়াই

শেষ পর্যন্ত ডি কক অপরাজিত ১২৩ রান করে এবং অধিনায়ক ম্যাথিউ ব্রীটজকের সাথে মিলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সহজ জয় এনে দেন। পাকিস্তানের বোলাররা আটটি ভিন্ন অপশন ব্যবহার করলেও ডি ককের ব্যাটিংয়ের সামনে তারা অসহায় হয়ে পড়েছিল।

  • দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৭০/২ (ডি কক ১২৩*, ডি জোরজি ৭৬)
  • পাকিস্তান: ২৬৯/৯ (আগা ৬৯, নওয়াজ ৫৯, বার্গার ৪-৪৬)

আগামী শনিবার ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ওডিআই ম্যাচটি হবে এই সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণকারী। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের এই জয় ধরে রেখে সিরিজ জিততে চাইবে, আর পাকিস্তান চাইবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তাদের ঘরের মাঠে আধিপত্য বজায় রাখতে।

Categories: Report

Avatar photo

Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *