Report

[CRK] স্যামসনের সেঞ্চুরি ও আকিল হোসেনের জাদু: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বড় পরাজয়ে চেন্নাইয়ের দাপট

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

[CRK]

আইপিএল এল ক্লাসিকো: মুম্বাইয়ের শোচনীয় পরাজয় এবং চেন্নাইয়ের দাপট

আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ লড়াই হিসেবে পরিচিত চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (MI) মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নতুন ইতিহাস লেখা হলো। সঞ্জু স্যামসনের অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস এবং আকিল হোসেনের ৪ উইকেটের দাপটে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ১০৩ রানে পরাজিত করল চেন্নাই। এই জয়টি কেবল একটি সাধারণ জয় নয়, বরং এটি ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়।

ম্যাচটির সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড বলছে, চেন্নাই সুপার কিংস ২০৭/৬ (স্যামসন ১০১*, ঘাজানফার ২-২৫, অশ্বনি ২-৩৭) এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১০৪ (তিলক ৩৭, সূর্যকুমার ৩৫, আকিল ৪-১৭, নূর ২-২৩)

ম্যাচের উত্তেজনা এবং মানসিক লড়াই

ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল চরম উত্তেজনায় ঠাসা। পয়েন্ট টেবিলের সপ্তম এবং অষ্টম স্থানে থাকা দল হওয়া সত্ত্বেও, মাঠের পরিবেশ ছিল যেন কোনো ফাইনাল ম্যাচের মতো। প্রথম বল থেকেই স্নায়ুর চাপ দেখা যাচ্ছিল খেলোয়াড়দের মধ্যে। শেরফেন রাদারফোর্ডের একটি ভুল থ্রো এবং ফিল্ডারদের সমন্বয়হীনতা ম্যাচের শুরুতেই উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এমনকি জাসপ্রিত বুমরাহর মতো অভিজ্ঞ বোলারও চাপের মুখে নো-বল করে ফেলেন। ব্যাটিংয়ের সময়ে তিলক ভার্মা এবং জেমি ওভারটনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ম্যাচটিকে আরও নাটকীয় করে তোলে।

কৌশলগত লড়াই ও ঘাজানফারের প্রভাব

মুম্বাইয়ের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া শুরুতে লক্ষ্য করেন যে বলটি খুব সহজে ব্যাটে আসছে, যার ফলে প্রথম দুই ওভারে তিনি ৩৮ রান খরচ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি পাওয়ারপ্লে-তে গতি কমিয়ে স্পিন বোলারদের ওপর ভরসা করেন, যা তাকে দুটি উইকেট এনে দেয়। তবে সিএসকে এর পাল্টা জবাব দেয় শিবম দুবে-কে দ্রুত প্রমোশন দিয়ে। কিন্তু এএম ঘাজানফার দুবে-কে মাত্র ৮ বলে ৫ রানে আটকে রেখে সাহসিকতার পরিচয় দেন।

রুুতুরাজ গায়কওয়াদ এবং শিবম দুবে উভয়েই আইপিএল ২০২৬-এ খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছেন। সিএসকে অধিনায়কের সর্বোচ্চ স্কোর মাত্র ২৮ এবং স্ট্রাইক রেট ১১৯.৫৪। অন্যদিকে, ‘ছক্কার ঈশ্বর’ হিসেবে পরিচিত শিবম দুবে সাতটি ইনিংসে মাত্র পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন, যা তাদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডুয়াল্ড ব্রেভিসের ক্ষণস্থায়ী ঝড়

ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিং করার অসুবিধা সম্পর্কে সচেতন ছিল সিএসকে। তারা প্রথম ছয় ওভারে ৭৩/২ তুলে নিয়ে দ্রুত সূচনা করে, যা ২০১৫ সালের পর মুম্বাইয়ের বিপক্ষে তাদের সেরা পাওয়ারপ্লে স্কোর। যখনই মনে হয়েছে মুম্বাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে, তখনই মাঠে নামেন ডুয়াল্ড ব্রেভিস। তিনি মিচেল স্যান্টনারকে দুটি বিশাল ছক্কা মেরে স্তব্ধ করে দেন। তবে অশ্বনি কুমারের কৌশলী বোলিংয়ের সামনে ব্রেভিসের সেই আক্রমণ ব্যর্থ হয়। ১১ বলে ২১ রান করে আউট হয়ে তিনি সিএসকে-র ইনিংসকে ১২২/৪-এ নিয়ে যান।

সুপার স্যামসন: একাই সামলালেন পুরো ম্যাচ

পুরো রাতটি ছিল সঞ্জু স্যামসনের। বুমরাহর বলকে কভার পয়েন্টের ওপর দিয়ে ড্রাইভ করা থেকে শুরু করে হার্দিকের বলকে প্যাড থেকে ছক্কায় রূপান্তর করা—সবকিছুই ছিল অনায়াস। তার ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্তটি আসে ১৯তম ওভারে, যখন বুমরাহর ফ্রি-হিটে তিনি রিভার্স র‍্যাম্প শট খেলে চার রান সংগ্রহ করেন। বুমরাহর সাথে তার সেই হাসি-ঠাট্টা প্রমাণ করে যে, উচ্চচাপের ম্যাচেও সেরা খেলোয়াড়রা কীভাবে আনন্দ খুঁজে নেন।

তবে স্যামসনকে কেবল আক্রমণাত্মক হতে হয়নি, তাকে ধৈর্যও ধরতে হয়েছে। ২০ বলে ৪৪ রান করার পর সিএসকে উইকেট হারাতে শুরু করলে তিনি গতি কমিয়ে ১৫ বলে ১৫ রান করেন। শেষ দিকে অভিষেক হওয়া কৃশ ভগতকে লক্ষ্য করে তিনি বিধ্বংসী আক্রমণ চালান। শেষ ওভারে কোনো সিঙ্গেল না নিয়ে তিনি ৩টি চার এবং ৩টি ছক্কাসহ মোট ৩১ রান সংগ্রহ করেন এবং নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বুমরাহ, হার্দিক এবং সূর্যকুমার যাদবের মতো প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রাও তার এই অসাধারণ কৃতিত্বের প্রশংসা করেন।

আকিল হোসেনের স্পিন জাদুতে ধ্বংস মুম্বাই

চেন্নাই শুরুতে আকিল হোসেনকে ড্রপ করেছিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিধ্বংসী বামহাতি ব্যাটসম্যানদের ভয়ে। কিন্তু মুম্বাইয়ের বিপক্ষে তার প্রত্যাবর্তন ছিল দেখার মতো। প্রথম ওভারে কুইন্টন ডি ককের কাছে ছক্কা দিলেও, তিনি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান। পাওয়ারপ্লে-তে একটি উইকেট-মেইডেন ওভার করা এবং তিলক ভার্মাকে আউট করা তার সাফল্যের অংশ।

আকিল এবং নূর আহমদের জুটির সামনে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপ খড়কুটোর মতো উড়ে যায়। আটজন ব্যাটসম্যান এক অঙ্কের স্কোরে আউট হন। ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে স্পিনের কাছে ৯টি উইকেট পড়ার এই ঘটনা আইপিএল ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড। আকিলের সেই সিগনেচার ‘মাস্কড ম্যান’ সেলিব্রেশন যেন মুম্বাইয়ের অসহায়ত্বেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল।

উপসংহার

এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করল কেন সিএসকে বনাম এমআই লড়াইটি আইপিএলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। একদিকে স্যামসনের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব, অন্যদিকে আকিলের কৌশলগত নিখুঁত বোলিং—সব মিলিয়ে এটি ছিল চেন্নাইয়ের এক দাপুটে জয়। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য এই পরাজয়টি হবে একটি বড় শিক্ষা, আর সিএসকে-র জন্য এটি হবে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন প্রেরণা।

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.