বেভন জ্যাকবসের ঝোড়ো ইনিংসে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ সমতায় নিউজিল্যান্ড
বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে জ্যাকবসের দাপট
ঢাকার মাঠে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজটি শেষ হলো উত্তেজনাপূর্ণ এক ড্র দিয়ে। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পর, শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলার শরিফুল ইসলাম বল হাতে আগুন ঝরালেও, শেষ পর্যন্ত বেভন জ্যাকবসের ব্যাটিং তাণ্ডবের কাছে হার মানতে হয়েছে স্বাগতিকদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর ও ম্যাচের প্রেক্ষাপট
শনিবারের এই ম্যাচে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের ইনিংসের মাঝে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। পরে ম্যাচটি ১৫ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ১০২ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে জ্যাকবসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে কিউইরা ২০ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
শরিফুল ইসলামের আগুন ঝরা বোলিং
ম্যাচের শুরুতে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন শরিফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই তিনি ক্যাটেন ক্লার্ককে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। একই ওভারের শেষ বলে ডেন ক্লিভারকে সাজঘরে পাঠিয়ে কিউই টপ অর্ডারকে কাঁপিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। এরপর টিম রবিনসন ও অধিনায়ক নিক কেলিও তার এবং মেহেদী হাসানের বোলিং তোপে টিকতে পারেননি। শরিফুল ৩ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন।
জ্যাকবসের পাল্টা আক্রমণ
দল যখন চরম বিপর্যয়ে, তখন ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন বেভন জ্যাকবস। শরিফুলের শেষ ওভারে দুই চার মেরে নিজের আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দেন তিনি। এরপর রিশাদ হোসেনের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন জ্যাকবস। মাত্র ৩১ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসটি খেলা জ্যাকবসকে থামানোর কোনো উপায় ছিল না। শেষ পর্যন্ত ছক্কা ও চারের বাউন্ডারিতে ম্যাচ শেষ করে তিনি নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় ও ক্লার্কসনের দাপট
বৃষ্টির আগে নিউজিল্যান্ডের বোলার নাথান স্মিথ ও স্পিনার জেইডেন লেনক্স দুর্দান্ত বোলিং করেন। লেনক্স তার অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বলেই উইকেট শিকারের অনন্য কীর্তি গড়েন। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে জশ ক্লার্কসন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে ধস নামিয়ে দেন। মাত্র ৯ রান খরচায় তিনি ৩টি উইকেট তুলে নেন। তাওহীদ হৃদয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান করলেও অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ সম্মানজনক স্কোর গড়তে পারেনি।
সিরিজের ফল ও প্রাপ্তি
এই সিরিজে বাংলাদেশের বোলারদের পারফরম্যান্স বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল, বিশেষ করে শরিফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিং। তবে কিউইদের লোয়ার অর্ডার ও মিডল অর্ডারের দৃঢ়তা শেষ পর্যন্ত সিরিজটি ১-১ সমতায় রাখতে সাহায্য করেছে। কিউই ফিল্ডার রবিনসন ম্যাচে তিনটি ক্যাচ নিয়ে ফিল্ডিংয়ে নতুন নজির স্থাপন করেছেন। সব মিলিয়ে, সিরিজটি দুই দলের জন্যই ছিল লড়াই ও উত্তেজনায় ঠাসা।
- ম্যান অব দ্য ম্যাচ: বেভন জ্যাকবস (৬২* রান)
- সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি: জশ ক্লার্কসন (৩/৯) ও শরিফুল ইসলাম (৩/১৯)
- সিরিজ ফলাফল: ১-১ সমতা
পরবর্তী সিরিজের আগে এই পারফরম্যান্স দুই দলের জন্যই বড় শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব এবং নিউজিল্যান্ডের চাপের মুখে লড়াই করার ক্ষমতা সিরিজের মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
