[CRK] নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর যা বললেন মেহেদী হাসান মিরাজ | বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ওডিআই
[CRK]
মিরপুরে হতাশাজনক শুরু: নিউজিল্যান্ডের কাছে টাইগারদের হার
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের শুরুটা আশানুরূপ হলো না বাংলাদেশের জন্য। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২৬ রানে হেরেছে স্বাগতিকরা। সফরকারী নিউজিল্যান্ড এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। ম্যাচে কিউইদের দেওয়া ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল সবকটি উইকেট হারিয়ে ২২১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।
ব্যাটিং ব্যর্থতা ও লড়াইয়ের গল্প
নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করে স্কোরবোর্ডে ২৪৭ রান তোলে। লক্ষ্যটা মিরপুরের উইকেটে খুব একটা বড় ছিল না। রান তাড়া করতে নেমে সাইফ হাসান, লিটন দাস এবং তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বাংলাদেশের হয়ে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় একটি চমৎকার জুটি গড়েছিলেন, যা দলকে জয়ের পথে রেখেছিল। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো এবং বড় কোনো জুটি গড়তে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে টাইগারদের। বিশেষ করে শেষের দিকে মিডল এবং লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় ২২১ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
অধিনায়কের বিশ্লেষণ: কোথায় ভুল ছিল বাংলাদেশের?
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তার মতে, বোলাররা তাদের কাজ ঠিকঠাক করলেও ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং ফিনিশিংয়ে ঘাটতি ছিল। মিরাজ বলেন, “আমি মনে করি আমরা সত্যিই ভালো বল করেছি। এই উইকেটে ২৭০ (আসলে ২৪৮) রান তাড়া করা খুব একটা কঠিন ছিল না। উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল এবং আমাদের বোলাররা চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছে।”
ফিল্ডিংয়ের বড় মাসুল
ম্যাচে বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল বেশ হতাশাজনক। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস করা কিউইদের বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করেছে। এই প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, “যদি আমরা দুটি ক্যাচ নিতে পারতাম, তবে নিশ্চিতভাবেই তাদের ২০০ রানের নিচে আটকে রাখা সম্ভব হতো। এটি আমাদের দলের একটি ছোট ভুল ছিল। তবে আমি মনে করি এই ম্যাচে আমাদের অনেক ইতিবাচক দিকও রয়েছে।” ফিল্ডিংয়ের এই ব্যর্থতা যে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে, তা অধিনায়কের কথাতেই স্পষ্ট।
মুস্তাফিজের চোট ও শরিফুলের আকস্মিক অন্তর্ভুক্তি
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে মূল একাদশে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ দল। অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ডান হাঁটুতে অস্বস্তি বোধ করায় তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে শরিফুল ইসলামকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শরিফুলের পারফরম্যান্স নিয়ে অধিনায়ক বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। মিরাজ বলেন, “শরিফুলের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ ছিল। শেষ মুহূর্তে মুস্তাফিজ চোট পাওয়ায় তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন ছিল, কারণ সে জানত না যে সে এই ম্যাচটি খেলবে। ভাগ্যক্রমে, সে মাঠে নেমে দুর্দান্ত বোলিং করেছে। অনেক দিন পর ফিরে সে যেভাবে বল করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
জুটি ও ফিনিশিংয়ের অভাব
রান তাড়া করার সময় লিটন দাস এবং তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটিং টাইগার সমর্থকদের মনে জয়ের আশা জাগিয়েছিল। এরপর তাওহীদ এবং আফিফ হোসেনও কিছু সময় লড়াই করেছিলেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানোয় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। মিরাজ এই বিষয়ে বলেন, “আমি মনে করি পর পর দুটি উইকেট হারানো প্রতিপক্ষ দলের জন্য সবসময়ই সুযোগ তৈরি করে দেয়। লিটন এবং তাওহীদ যেভাবে ব্যাটিং করেছে তা দুর্দান্ত ছিল। এরপর তাওহীদ ও আফিফও ভালো খেলছিল। তবে আমাদের ম্যাচটি ভালোভাবে শেষ করা উচিত ছিল। বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় বড় জুটি না গড়লে জেতা সম্ভব নয়। যদি আমরা একটি বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারতাম, তবে জয় আমাদেরই হতো।”
আগামীর লক্ষ্য: দ্বিতীয় ওডিআইতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়
প্রথম ম্যাচে হারলেও দলের মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি করেন মিরাজ। তিনি বলেন, “দলের সব খেলোয়াড়ই জয়ের জন্য মুখিয়ে ছিল এবং সবাই জেতার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। ক্রিকেটে কখনও কখনও এমনটা হতে পারে।” সিরিজের দ্বিতীয় ওডিআই আগামী ২০ এপ্রিল মিরপুরেই অনুষ্ঠিত হবে। সমতায় ফিরতে হলে বাংলাদেশকে ব্যাটিং, বোলিং এবং বিশেষ করে ফিল্ডিং বিভাগে আরও উন্নতি করতে হবে। ঘরের মাঠে সিরিজ বাঁচিয়ে রাখতে হলে টাইগারদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। সমর্থকরা আশা করছেন, প্রথম ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ দল পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং সিরিজে সমতা ফেরাবে।
