[CRK] অভিষেকের ধ্বংসযজ্ঞ: 135* রানের ইনিংসে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারালো সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ
[CRK]
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ২৪২/২ (২০ ওভার) (অভিষেক শর্মা ১৩৫*, ক্লাসেন ৩৭*, হেড ৩৭, অক্সার ১-২৩) দিল্লি ক্যাপিটালস ১৯৫/৯ (২০ ওভার) (রাণা ৫৭, রিজভি ৪১, মালিঙ্গা ৪-৩২, দুবে ৩-১২) – সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ৪৭ রানে জয়ী
অভিষেকের নজির গড়া শতরানে ধ্বংসযজ্ঞ
অভিষেক শর্মার এক অপ্রতিরোধ্য এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং পারফরম্যান্সে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH) দিল্লি ক্যাপিটালস (DC)-কে ৪৭ রানে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। আইপিএল ২০২৫-এর এক হাই-স্কোরিং ম্যাচে ২৪২/২ তুলেছে হায়দ্রাবাদ, আর অভিষেক ছিলেন সেই ভিত, যার উপর দাঁড়িয়েছিল পুরো ইনিংস।
অভিষেকের ক্রমবর্ধমান ইনিংস
৬৮ বলে অপরাজিত ১৩৫ রান করেন অভিষেক শর্মা, যা ছিল তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসগুলির মধ্যে একটি। এটি ছিল তাঁর প্রথমবার যখন আইপিএলে পুরো ২০ ওভার খেললেন এবং তা করেন আশ্চর্যজনক গতি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি ছক্কা এবং ৮টি চার।
এই শতরানটি ছিল তাঁর টি২০ ক্রিকেটে নবম শতরান, যা তাঁকে বিরাট কোহলির সমতুল্য করেছে, যিনি ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি২০ শতরান করেছেন। এই তালিকাতে কেবল তিন ব্যাটসম্যানই তাঁর চেয়ে এগিয়ে, যা ক্রিকেট বিশ্বে তাঁর অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে।
হায়দ্রাবাদের শক্তিশালী ভিত
অভিষেকের পাশাপাশি ট্রাভিস হেড এবং হেনরিক ক্লাসেনের অবদান ছিল মূল্যবান। হেড ২৫ বলে ৩৭ রান করেন, যা পাওয়ার প্লেতে রানের গতি বজায় রাখে। পরে ক্লাসেন ২২ বলে ৩৭ রান করেন, যা মিড-ইনিংসে হায়দ্রাবাদের স্কোরবোর্ডকে স্থিতিশীল করে তোলে। তবে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল অভিষেকের, যিনি ইনিংসের শেষ পর্যন্ত স্ট্রাইক রোটেট করেন এবং স্কোর বাড়িয়ে যান ধারাবাহিকভাবে।
দিল্লির দুর্বল পাল্টা জবাব
২৪৩ রানের টার্গেট ছিল সহজ নয়, তবু দিল্লি ক্যাপিটালস শুরুটা করে আশাব্যঞ্জকভাবে। নিতিশ রাণা ৫৭ রান করেন, প্রায় সমস্ত উইকেটের সঙ্গেই পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। মুজিব উর রহমান এবং প্রিথি রিজভি (৪১ রান) কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেন, কিন্তু স্কোরবোর্ডের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পেছনে পড়ে যেতে হয়।
১০তম এবং ১১তম ওভারে এষান মালিঙ্গা (৪-৩২) এবং সাকিব হোসেনের (৩-১২) বোলিংয়ে দিল্লি দ্রুত ৩ উইকেট হারায়। ম্যাচের গতি তখন পুরোপুরি হায়দ্রাবাদের হাতে। শেষ পর্যন্ত দিল্লি ১৯৫/৯ তেই থেমে যায়।
রাণার অসামান্য বোলিং ব্যর্থতা
মজার বিষয় হলো, নিতিশ রাণা এই ম্যাচে শুধু ব্যাটিং করেননি, অফ-স্পিন বোলিং করেছিলেন। তবে ৪ ওভারে ৫৫ রান তুলেছিলেন, যা তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারের অন্যতম খারাপ বোলিং পারফরম্যান্স। অভিষেক এবং ক্লাসেনের বিরুদ্ধে স্পিনে টিকে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।
পয়েন্ট টেবিলে হায়দ্রাবাদের অবস্থান
এই জয়ের ফলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং রাজস্থান রয়্যালসের সমান পয়েন্টে। তবে অন্য দুই দলের হাতে এখনো একটি ম্যাচ বাকি, তাই হায়দ্রাবাদকে প্লে-অফের পথে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্স করতে হবে।
উপসংহার
অভিষেক শর্মার এই ইনিংস নিঃসন্দেহে মরশুমের সেরা এক ব্যাটিং পারফরম্যান্স হতে চলেছে। নিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য এবং ধ্বংসযজ্ঞের মিশ্রণ ছিল তাঁর ব্যাটে। হায়দ্রাবাদের বোলিংয়ে মালিঙ্গা এবং দুবের ভূমিকাও ছিল অমূল্য। দিল্লি ক্যাপিটালসকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে, কারণ এই ধরনের পারফরম্যান্স তাঁদের চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই থেকে বহু দূরে ঠেলে দেবে।
আরও আপডেট আসছে
