বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ফিল্ডিং বিপ্লব
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ের মান এখন ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার সম্প্রতি এক সাহসী ও ইতিবাচক দাবি করেছেন। তার মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা তিনটি ফিল্ডিং দলের মধ্যে একটি। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং মাঠে খেলোয়াড়দের নিবেদনের ফসলই এখন মাঠের পারফরম্যান্সে ফুটে উঠছে।
স্লিপ ক্যাচিংয়ে নতুন উচ্চতা
টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ ফরম্যাটে মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কোচ আশিকুর রহমান বিশেষ করে স্লিপ ফিল্ডিং নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা স্লিপ ক্যাচিংয়ে দুর্দান্ত উন্নতি করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখা এই ফরম্যাটের মূল চাবিকাঠি। আমাদের ছেলেরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এর পুরো কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য। উভয় ইনিংসেই স্লিপে আমাদের ক্যাচিং ছিল অসাধারণ।’
পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা
খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আশিকুর রহমান বলেন, ‘খুব কাছ থেকে আমি দেখেছি, আমাদের খেলোয়াড়রা পরিস্থিতি বুঝতে অত্যন্ত দ্রুত। তারা কন্ডিশনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে জানে এবং নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলে।’ তিনি শাদমান ইসলামের একটি ক্যাচের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘প্রায় ১৩৮-১৪০ কিমি গতির বলে শাদমানের নেওয়া ক্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না। সে খুব কাছে দাঁড়িয়ে ছিল এবং ব্যাটার বলটিকে কাট শট খেলার চেষ্টা করেছিল। এই ধরণের ক্যাচ নেওয়ার জন্য যে মানসিক শক্তি ও একাগ্রতা প্রয়োজন, তা আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন স্পষ্ট।’
পঞ্চম দিনেও অটুট শক্তি
ঢাকা টেস্টে দলের সামগ্রিক মানসিকতা ও শক্তির প্রশংসা করে কোচ জানান, পুরো দলের এনার্জি লেভেল ছিল দেখার মতো। তিনি যোগ করেন, ‘একজন ফিল্ডিং কোচ হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে, টেস্টের পঞ্চম দিনে দলের এনার্জি প্রথম দিনের চেয়েও বেশি ছিল। এটি প্রমাণ করে যে খেলোয়াড়দের জেতার মানসিকতা কতটা প্রবল।’
ক্রমাগত উন্নতির পথে বাংলাদেশ
উন্নতির কোনো শেষ নেই—এই দর্শনে বিশ্বাসী আশিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, খেলোয়াড়রা যদি প্রতিদিন মাত্র এক শতাংশ করেও উন্নতি করতে পারে, তবে তা বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। ‘আমাদের খেলোয়াড়রা অত্যন্ত দক্ষ, অ্যাথলেটিক এবং শারীরিকভাবে ফিট। তারা ফিল্ডিংকে ভালোবাসে এবং তাদের মধ্যে যে ডেডিকেশন রয়েছে তা প্রশংসনীয়। ইনশাআল্লাহ, আমরা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফিল্ডিং ইউনিট হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করব।’
সেরা তিনে বাংলাদেশের অবস্থান
আর্টিকেলের শেষ পর্যায়ে তিনি তার সাহসী মূল্যায়নের পুনরাবৃত্তি করেন। আশিকুর রহমানের দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমান বাংলাদেশের ফিল্ডিং স্ট্যান্ডার্ড বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেন যে, ফিল্ডিংয়ের বর্তমান মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ তিন দলের একটি। এই আত্মবিশ্বাস ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামীতে টাইগাররা ফিল্ডিংয়ের শক্তিতে আরও বড় জয় তুলে নিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্রিকেট বিশ্বে ফিল্ডিংয়ের এই আমূল পরিবর্তন বাংলাদেশ দলকে টেস্ট ক্রিকেটে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে, এটাই বর্তমান ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম এবং কোচিং স্টাফদের সঠিক দিকনির্দেশনা মিলে বাংলাদেশ এখন ফিল্ডিংয়ের নতুন উচ্চতায়।
0 Comments