আইপিএল ২০২৬: ফিল্ডিংয়ে চরম ব্যর্থ নামান ধীর
চলতি আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের তরুণ ফিল্ডার নামান ধীর মাঠের পারফরম্যান্সে একের পর এক হতাশায় ডুবছেন। বৃহস্পতিবার ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি আবারও ফিল্ডিংয়ে বড় ভুল করে বসলেন। পাঞ্জাবের ওপেনার প্রভসিমরান সিংয়ের একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দিয়ে তিনি আইপিএলের এই আসরে ফিল্ডিংয়ের এক করুণ অধ্যায় রচনা করেছেন। এটি ছিল চলতি মৌসুমে তার ব্যক্তিগত সপ্তম ক্যাচ মিস, যা এবারের আসরে কোনো ফিল্ডারের জন্য সর্বোচ্চ।
চলতি মৌসুমে ক্যাচ মিসের পরিসংখ্যান
আইপিএল ২০২৬-এ ফিল্ডিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং এই তালিকায় নামান ধীর সবার উপরে। তার ক্যাচ মিসের বর্তমান পরিসংখ্যানটি নিম্নরূপ:
- নামান ধীর: ৮টি ক্যাচ
- শশাঙ্ক সিং: ৬টি ক্যাচ
- জস বাটলার, নীতিশ কুমার রেড্ডি, সুয়াশ শর্মা, শিবাং কুমার: প্রত্যেকে ৪টি করে
এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে কেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ফিল্ডিং কোচদের জন্য ধীরের পারফরম্যান্স গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচের নাটকীয় মুহূর্ত
ম্যাচের শুরুতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের স্ট্যান্ড-ইন ক্যাপ্টেন জসপ্রীত বুমরাহ টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পাঞ্জাব কিংসের হয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন প্রিয়াংশ আর্য এবং প্রভসিমরান সিং। মুম্বাইয়ের হয়ে বোলিংয়ের শুরুটা করেন দীপক চাহার। বুমরাহ দ্বিতীয় ওভারটি করতে এসে কিছুটা দুর্ভাগ্যের শিকার হন, যখন স্লিভ কর্ডনে দাঁড়িয়ে নামান ধীর প্রভসিমরান সিংয়ের ক্যাচটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন। এই জীবন পাওয়ার পর প্রভসিমরান বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যাটিং করেন।
পাঞ্জাব কিংসের ইনিংসের লড়াই
প্রিয়াংশ আর্য ১৭ বলে ২২ রান করে চাহারের শিকারে পরিণত হন। এরপর প্রভসিমরান এবং কুপার কনোলি মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করান। প্রভসিমরান এই ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তিনি ৩১ বলে ৫৭ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। তবে শেষ পর্যন্ত শার্দুল ঠাকুরের বোলিং জাদুতে তিনি আউট হন।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে শার্দুল ঠাকুর দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শন করেন। তিনি পাঞ্জাবের অধিনায়ককে মাত্র ৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরান। এছাড়া কুপার কনোলি ২১ রান করে রাজ বাওয়ার বলে আউট হন। এরপর শার্দুল ঠাকুর সূর্যংশ শেজকে ৮ রানে এবং মার্কো জেনসেনকে আউট করে ম্যাচে নিজের চার উইকেট পূর্ণ করেন। এছাড়া বশ শশাঙ্ক সিংয়ের উইকেটটি তুলে নেন।
শেষ দিকে পাঞ্জাবের ঝোড়ো ব্যাটিং
মুম্বাই বোলাররা মাঝের ওভারগুলোতে চেপে ধরলেও পাঞ্জাবের শেষ দিকে ব্যাটসম্যানরা দারুণ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। আজমতুল্লাহ ওমরজাই মাত্র ১৭ বলে ৩৮ রান করেন। এছাড়া জেভিয়ার বার্টলেট ৭ বলে ১৮ এবং বিষ্ণু বিনোদ ৮ বলে ১৫ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন। সব মিলিয়ে পাঞ্জাব কিংস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০০ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। নামান ধীরের ক্যাচ মিসের সেই প্রভাব শেষ পর্যন্ত পাঞ্জাবের বড় স্কোরে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মুম্বাইয়ের জন্য ফিল্ডিংয়ে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
0 Comments