আইপিএলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা
ক্রিকেট বিশ্বে বিরাট কোহলি মানেই রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এক অন্য নাম। আইপিএলের আঙিনায় তার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন নতুন কোনো ইতিহাসের জন্ম দেয়। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মধ্যকার সাম্প্রতিক ম্যাচে কোহলি এমন দুটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, যা ক্রিকেট প্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে।
বিরাট কোহলি। (সূত্র: এক্স ডট কম)
ধোনিকে ছাড়িয়ে সর্বকালের সেরা
ম্যাচ শুরুর আগে টস হওয়ার মুহূর্তেই একটি বড় রেকর্ড নিজের ঝুলিতে ভরে ফেলেন কোহলি। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী টস সম্পন্ন হলেই ম্যাচটি সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর সেই নিয়মেই কোহলি নিজের ক্যারিয়ারের ২৭৯তম আইপিএল ম্যাচটি খেলে ফেললেন। এর মাধ্যমে তিনি ছাপিয়ে গেলেন কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনিকে, যিনি এতদিন পর্যন্ত আইপিএলের ইতিহাসে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার তালিকার শীর্ষে ছিলেন। এই অর্জন কোহলির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করল।
অপ্রতিদ্বন্দ্বী কোহলির আইপিএল যাত্রা
আইপিএলের ইতিহাসে বিরাট কোহলির উত্তরাধিকার এখন এতটাই বিশাল যে তাকে স্পর্শ করা কঠিন। তিনি ইতিমধ্যেই আইপিএলে সর্বাধিক রান, সর্বাধিক শতরান, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ এবং সর্বাধিক ৫০-এর বেশি রানের ইনিংসের মতো একাধিক রেকর্ডের মালিক। আরসিবির প্রতি তার দীর্ঘদিনের আনুগত্য আইপিএলের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক গল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৪ হাজার রানের মাইলফলক
কেকেআরের বিরুদ্ধে ম্যাচের রোমাঞ্চ কেবল রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাট হাতে কোহলি যখন তার চেনা ছন্দে ছিলেন, তখন তিনি আইপিএলের বাইরেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যান। ব্যক্তিগত ৭৮ রান পূর্ণ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৪ হাজার রানের পাহাড় টপকে যান। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ১১টি বাউন্ডারি ও ৩টি বিশাল ছক্কা ছিল। এটি ছিল তার আইপিএল ক্যারিয়ারের নবম শতরান।
ম্যাচ জয়ের তাড়না ও মানসিকতা
ম্যাচ শেষে ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার নেওয়ার সময় কোহলি তার স্বভাবসুলভ বিনয়ের সঙ্গেই বলেন, দলের স্বার্থে অবদান রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির চেয়ে দলের জয় এবং পয়েন্ট টেবিলে উপরের দিকে থাকাটা তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমি যদি দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারি, তবে দলের জেতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। গত দুটি ম্যাচে রান না পাওয়াটা আমাকে বিচলিত করেছিল, কারণ আমি সর্বদা দলের প্রয়োজনে সেরাটা দিতে চাই।”
কোহলির এই আত্মনিবেদন এবং জয়ের প্রতি একাগ্রতা তাকে কেবল বর্তমান সময়ের সেরা ব্যাটারই করে রাখেনি, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বের অসংখ্য উদীয়মান ক্রিকেটারের অনুপ্রেরণা। তার এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র, যখন কোনো খেলোয়াড়ের লক্ষ্য থাকে দলের জয় এবং উৎকর্ষতা অর্জন।
উপসংহার
আরসিবি ও কেকেআর দ্বৈরথকে ছাপিয়ে কোহলির ব্যক্তিগত অর্জনের এই মহাকাব্য আইপিএলের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। রেকর্ড গড়ার এই অদম্য তৃষ্ণা এবং ম্যাচ ফিনিশ করার মানসিকতা তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আইকন হিসেবে টিকিয়ে রাখবে। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন কোহলির পরবর্তী মাইলফলকের দিকে, কারণ বিরাটের ব্যাটে ইতিহাস গড়া যেন এক চলমান প্রক্রিয়া।
0 Comments