আইপিএল ২০২৬: স্বমহিমায় বিরাট কোহলি
আইপিএল ২০২৬-এর মরসুমে রায়পুরের পিচে যেন পুরনো সেই চেনা বিরাট কোহলিকে ফিরে পাওয়া গেল। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তিনি যেভাবে ব্যাট করলেন, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ছিল এক দারুণ উপহার। মাত্র ৬০ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস খেলে তিনি প্রমাণ করলেন, বয়স ৩৭ হলেও তার ব্যাটের ধার বিন্দুমাত্র কমেনি।
আন্তর্জাতিক অবসরের স্বাধীনতার প্রতিফলন
ম্যাচ চলাকালীন বিরাট কোহলির মুখে একটি মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। রিভার্স স্কুপের মতো শট খেলার ইঙ্গিত দিয়ে কোহলি হাসতে হাসতে বলেন, ‘আব ইন্ডিয়া কে লিয়ে থোড়ি না খেলনা হ্যায়, আব তো হার শট লাগেগা।’ অর্থাৎ, ভারতের হয়ে খেলার আন্তর্জাতিক চাপ থেকে মুক্ত হওয়ার পর এখন তিনি অনেক বেশি সাবলীলভাবে শট খেলতে পারছেন। ২০১৪ টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর টি২০ আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নেওয়া কোহলি এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আনন্দটাই উপভোগ করছেন। যদিও ওই ম্যাচে তিনি বড় কোনো ঝুঁকি নেননি, বরং ঠান্ডা মাথায় দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছেন।
রেকর্ডের ডালি সাজালেন কোহলি
এই সেঞ্চুরিটি কোহলির ক্যারিয়ারের জন্য একাধিক মাইলফলক বয়ে এনেছে:
- দ্রুততম ১৪ হাজার রান: মাত্র ৪০৯ ইনিংসে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি।
- রায়পুরে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর: ১০৫ রান এখন রায়পুর স্টেডিয়ামে যেকোনো ক্রিকেটারের সর্বোচ্চ টি২০ স্কোর।
- দুটো শূন্যের পর সেঞ্চুরি: আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে পরপর দুই ম্যাচে ডাক মারার পরের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করলেন তিনি।
- সবচেয়ে বেশি ম্যাচ: ২৭৯টি আইপিএল ম্যাচ খেলে তিনি এখন এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়।
এছাড়াও, দেবদত্ত পাডিক্কালের সঙ্গে তার জুটি ছিল দেখার মতো। তাদের নবম ৫০-প্লাস পার্টনারশিপ দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে এই জয়ের ফলে আরসিবি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে, অন্যদিকে কেকেআর আট নম্বরে নেমে যাওয়ায় তাদের প্লে-অফের স্বপ্ন এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে।
আরসিবি-র আধিপত্য
ম্যাচটিতে কেকেআর প্রথমে ব্যাট করে অঙ্গকৃষ রঘুবংশী ও রিঙ্কু সিংয়ের ব্যাটে ভর করে ১৯২ রান সংগ্রহ করেছিল। রান তাড়ায় নেমে আরসিবি শুরুতে জ্যাকব বেথেলকে হারালেও, কোহলি ও পাডিক্কাল পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারে জয় তুলে নেয় আরসিবি। এটি কেবল একটি জয় নয়, বরং টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর কাছে একটি সতর্কবার্তা যে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা আবারও ট্রফি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। কোহলির এমন বিধ্বংসী মেজাজ বজায় থাকলে আরসিবি যে এবারও অপ্রতিরোধ্য থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে মাঠের প্রতিটি কোণায় শট খেলার স্বাধীনতা এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকার যে বার্তা কোহলি দিয়েছেন, তা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও বড় শিক্ষা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন সমীকরণ থেকে দূরে এসে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কোহলির এই ‘আনলিমিটেড’ ব্যাটিং উপভোগ করছেন বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত। এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও তিনি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন কি না।
0 Comments