গুজরাটের কাছে লজ্জার হার সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের
নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই ভুলে যাওয়ার মতো। একদিকে যেমন গুজরাট টাইটানস তাদের বোলিং তোপে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ব্যাটারদের অতি-আক্রমণাত্মক মানসিকতা তাদের ভরাডুবির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই একপাক্ষিক ম্যাচে ৮২ রানের বিশাল ব্যবধানে হার হজম করতে হয়েছে প্যাট কামিন্সের দলকে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং গুজরাটের বোলিং তোপ
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুজরাট টাইটানস ১৬৮ রানের একটি সম্মানজনক সংগ্রহ দাঁড় করায়। বি সাই সুদর্শন এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক তাদের ইনিংসে প্রাণ ফিরিয়ে আনে। তবে ১৬৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুব একটা কঠিন কিছু ছিল না। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পিচটি ফাস্ট বোলারদের জন্য সহায়ক ছিল, এবং গুজরাটের পেস ব্যাটারি মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিধ কৃষ্ণা, কাগিসো রাবাদা এবং জেসন হোল্ডার সেই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন।
ব্যাটিং বিপর্যয় এবং অতি-আক্রমণাত্মক মানসিকতা
রান তাড়া করতে নেমে অভিষেক শর্মা এবং ট্রাভিস হেড ইনিংস শুরু করলেও, গুজরাটের বোলিং লাইনআপের সামনে তারা খেই হারিয়ে ফেলেন। রাবাদা এবং সিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে সানরাইজার্স। অভিষেক শর্মা থেকে শুরু করে ট্রাভিস হেড, হেনরিখ ক্লাসেন—কেউই দাঁড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৬ রানে গুটিয়ে যায় সানরাইজার্সের ইনিংস। অতি-আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়েই মূলত তারা নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছেন।
বিসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনা
ম্যাচ শেষে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের এই ব্যাটিং দৃষ্টিভঙ্গিকে কার্যত ধুয়ে দিয়েছেন বিসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব শুক্লা। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ১৬০-এর মতো মাঝারি মানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে কেন শুরু থেকেই ছক্কা হাঁকানোর তাড়ায় উইকেট বিলিয়ে দিতে হবে? রাজীব শুক্লা সরাসরি মন্তব্য করেছেন, ‘যখন মাত্র ১৬০ রান দরকার, তখন শুরুতেই উইকেট কেন হারাতে হবে?’ তার মতে, পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করাটাই ছিল বুদ্ধিমানের কাজ। গুজরাটের মতো শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে একটু সতর্ক থেকে পরে আক্রমণাত্মক হওয়ার সুযোগ ছিল সানরাইজার্সের ব্যাটারদের কাছে।
পরবর্তী চ্যালেঞ্জ: চেন্নাই সুপার কিংস
এই পরাজয় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে এবং নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে হলে তাদের দ্রুত ভুল শুধরে নিতে হবে। এখন তাদের পরবর্তী লক্ষ্য চেন্নাই সুপার কিংস। এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি সানরাইজার্সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন দলটি চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থার উন্নতি করতে বদ্ধপরিকর।
উপসংহার
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আগ্রাসন থাকা ভালো, কিন্তু সেটি যেন অবশ্যই পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। গুজরাটের বিরুদ্ধে ম্যাচটি সানরাইজার্সকে শিখিয়ে দিয়েছে যে, পিচ এবং প্রতিপক্ষের শক্তির কথা মাথায় না রেখে কেবল মারমুখী ব্যাটিং কখনোই জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। বিসিসিআই কর্তার এই মন্তব্যের পর সানরাইজার্স শিবির তাদের রণকৌশলে কতটা পরিবর্তন আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
0 Comments