সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অস্বস্তি: কেন তারা ‘বুম অর বাস্ট’ দল?
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH) দারুণ ফর্মে থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের ছন্দপতন দেখা দিয়েছে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ১২ মে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অরেঞ্জ আর্মির এমন শোচনীয় পরাজয় ক্রিকেট প্রেমীদের অবাক করেছে। ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৮৬ রানে অল-আউট হওয়া দলটির জন্য বড় এক সতর্কবার্তা।
অশ্বিনের চোখে এসআরএইচ-এর দুর্বলতা
ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন তার ইউটিউব চ্যানেলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। অশ্বিন সরাসরি বলেছেন, ‘এসআরএইচ একটি বুম অর বাস্ট দল। যখন উইকেটে কিছুটা প্রাণ থাকে বা বোলারদের জন্য সহায়তা থাকে, তখন তারা রীতিমতো সংগ্রাম করে।’ অশ্বিনের মতে, হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ব্যাটিং-সহায়ক পিচে খেলে তারা অভ্যস্ত, যে কারণে অন্য ভেন্যুতে গিয়ে নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করতে তারা হিমশিম খায়।
অশ্বিন আরও যোগ করেন, ‘এসআরএইচ জানে তাদের ঘরের মাঠ হাই-স্কোরিং, তাই তারা সেই অনুযায়ী দল সাজায়। কিন্তু টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে সফল হতে হলে তাদের বাইরের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতেই হবে। তারা একটি শক্তিশালী ইউনিট এবং শীর্ষ দুইয়ে থাকার সামর্থ্য রাখে, কিন্তু তাদের প্রধান সমস্যা হলো যখন পিচ হাই-স্কোরিং হয় না, তখনও তারা অতি-আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে এবং বিপদে পড়ে।’
গুজরাট টাইটানসের কাছে আত্মসমর্পন
আহমেদাবাদের সেই ম্যাচে বল হাতে প্রফুল হিঙ্গে (২-১৭) এবং সাকিব হোসেনের (২-৩৭) নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে টাইটানস ১৬৮ রানের লড়াকু পুঁজি গড়েছিল। সাই সুদর্শনের ৪৪ বলে ৬১ এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের ৩৩ বলে ৫০ রানের ইনিংসটি ছিল গুজরাটের জয়ের মূল ভিত্তি। জবাবে এসআরএইচ-এর ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন। কাগিসো রাবাদা ও জেসন হোল্ডারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে অরেঞ্জ আর্মির কোনো ব্যাটারই দাঁড়াতে পারেননি।
প্লে-অফের সমীকরণ
এই বড় পরাজয়ের পরেও পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যাট কামিন্সের দল। ১২ ম্যাচ খেলে ৭ জয় ও ৫ পরাজয়ের পর তাদের নেট রান রেট ০.৩৩১। প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে হায়দ্রাবাদকে তাদের বাকি দুটি ম্যাচের অন্তত একটিতে জিততেই হবে। একটি জয় তাদের পয়েন্ট সংখ্যা ১৬-তে পৌঁছে দেবে, যা সাধারণত নক-আউট পর্বে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
পরবর্তী চ্যালেঞ্জ
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পরবর্তী ম্যাচটি হতে যাচ্ছে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে। ১৮ মে চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি কামিন্স বাহিনীর জন্য অগ্নিপরীক্ষার সমান। চিপকের মন্থর ও স্পিন সহায়ক পিচে তারা নিজেদের ব্যাটিং পরিকল্পনায় কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অশ্বিনের সতর্কবার্তা মেনে অরেঞ্জ আর্মি কি তাদের খেলার ধরনে পরিবর্তন আনবে? সেই উত্তর মিলবে মাঠের পারফরম্যান্সেই।
আইপিএল ২০২৬-এর এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই এখন উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ কি শেষ পর্যন্ত প্লে-অফে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে, নাকি অশ্বিনের বলা ‘বুম অর বাস্ট’ তত্ত্বই তাদের ভাগ্যের লিখন হয়ে দাঁড়াবে? ভক্তদের নজর এখন পরবর্তী ম্যাচের দিকে।
0 Comments