আইপিএল ২০২৬: মিচেল মার্শের বিধ্বংসী শতরান, চ্যাম্পিয়ন আরসিবিকে হারাল লখনউ
লখনউয়ের একানায় মার্শ-ঝড়: ব্যাকফুটে চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬-এর উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। টুর্নামেন্টের ৫০তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস (LSG) এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। লখনউয়ের একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্বাগতিকরা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ৯ রানের এক রোমাঞ্চকর জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। টানা হারের বৃত্তে থাকা লখনউয়ের জন্য এই জয়টি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিচেল মার্শের অতিমানীয় শতরান ও লখনউয়ের বিশাল লক্ষ্য
ম্যাচের শুরু থেকেই লখনউ সুপার জায়ান্টসের ব্যাটসম্যানরা আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ এদিন আইপিএল ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংসটি খেলেন। মাত্র ৫৬ বলে তিনি খেলেন ১১১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। তার এই ইনিংসে ছিল ৯টি চার এবং ৯টি বিশাল ছক্কার মার। মার্শের ব্যাটিং তান্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়ে আরসিবির বোলিং আক্রমণ। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মিডল অর্ডারের নিকোলাস পুরান। পুরান ২৩ বলে ৩৮ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেলেন। ইনিংসের শেষ দিকে অধিনায়ক ঋষভ পন্থ মাত্র ১০ বলে অপরাজিত ৩২ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলে দলের স্কোরকে ২০৯/৩-এ পৌঁছে দেন। বেঙ্গালুরুর পক্ষে জশ হ্যাজেলউড, ক্রুনাল পান্ডিয়া এবং রসিক সালাম একটি করে উইকেট শিকার করেন।
বৃষ্টির বাধা ও ডিএলএস পদ্ধতিতে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা
লখনউয়ের ব্যাটিং শেষ হওয়ার পর প্রকৃতি ম্যাচে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিন দফায় বৃষ্টি আসার কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য ও লক্ষ্যমাত্রায় পরিবর্তন আনতে হয়। ডিএলএস (DLS) পদ্ধতিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সামনে ১৯ ওভারে ২১৩ রানের কঠিন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২০ ওভার পর্যন্ত গড়ায়, কিন্তু রান তাড়া করার ক্ষেত্রে আরসিবির ব্যাটসম্যানদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
আরসিবির ব্যাটিং বিপর্যয় ও পাতিদার-পড়িক্কলের লড়াই
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আরসিবি। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার বিরাট কোহলি শূন্য রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। জ্যাকব বেথেলও মাত্র ৪ রান করে আউট হন। মোহাম্মদ শামি এবং প্রিন্স যাদবের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তবে তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক রজত পাতিদার এবং দেবদত্ত পড়িক্কল। এই জুটি লখনউয়ের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ৯৫ রান যোগ করেন। রজত পাতিদার ৩১ বলে ৬১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৬টি ছক্কা ও ৩টি চার। অন্যদিকে পড়িক্কল ২৫ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৩৪ রান করেন।
নাটকীয় মোড় ও প্রিন্স যাদবের বোলিং জাদু
যখন মনে হচ্ছিল আরসিবি জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই লখনউ ম্যাচে ফিরে আসে। থিতু হওয়া দুই ব্যাটার পাতিদার ও পড়িক্কল দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে বেঙ্গালুরু। জিতেশ শর্মাও (১) ব্যর্থ হন। তবে শেষ দিকে টিম ডেভিড বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট চালিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রাখেন। তিনি মাত্র ১৪ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪০ রান করেন। ক্রুনাল পান্ডিয়া (১৬ বলে ২৮) এবং রোমারিও শেফার্ড (১৬) চেষ্টা করলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি। ২০ ওভার শেষে বেঙ্গালুরু ২০৩/৬ রানে থমকে যায়। লখনউয়ের পক্ষে প্রিন্স যাদব তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন এবং শাহবাজ আহমেদ নেন দুটি উইকেট।
পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ
এই জয়ের ফলে লখনউ সুপার জায়ান্টস লিগ টেবিলে তাদের তৃতীয় জয় নিশ্চিত করল। তবে জয়ের পরেও তারা বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের ১০ম স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, হারের মুখ দেখলেও ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এই হার টুর্নামেন্টের প্লে-অফ সমীকরণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলল। লখনউয়ের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস যোগাবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও ভালো পারফর্ম করার জন্য।
