মানসিক অবসাদের সঙ্গে লড়াই: সলিল আঙ্কোলার পাশে পরিবার ও ক্রিকেট মহল
ভারতীয় ক্রিকেটের একসময়ের পরিচিত মুখ এবং মুম্বাইয়ের প্রাক্তন ফাস্ট বোলার সলিল আঙ্কোলা বর্তমানে একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিসিসিআইয়ের নির্বাচক কমিটির প্রাক্তন সদস্য সলিল বর্তমানে গুরুতর মানসিক অবসাদের শিকার হয়ে পুনের কাছে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৫৮ বছর বয়সী এই প্রাক্তন ক্রিকেটারের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
মায়ের প্রয়াণ এবং মানসিক চাপ
সলিল আঙ্কোলার স্ত্রী রিয়া আঙ্কোলা জানিয়েছেন, গত ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে নিজের মা-কে হারানোর পর থেকেই সলিল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। শোকের সেই গভীর ক্ষত তিনি কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছিলেন না। রিয়া বলেন, ‘হ্যাঁ, সলিল অবসাদে ভুগছিল। তাই কয়েক সপ্তাহ আগেই সে নিজেকে পুনের কাছের একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেয়। মায়ের মৃত্যু তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সে হিমশিম খাচ্ছিল।’
সুস্থতার পথে প্রাক্তন তারকা
পরিবারের পক্ষ থেকে আশার আলো শোনানো হয়েছে। রিয়া আঙ্কোলা আরও জানান, সলিল এখন আগের থেকে অনেক ভালো আছেন এবং সুস্থতার পথে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব খুশি যে সে পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে নিজেকে সারিয়ে তোলার জন্য সময় বেছে নিয়েছে। সে নিয়মিত শরীরচর্চা করছে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে তার প্রথম প্রেম ক্রিকেটে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সলিল একজন যোদ্ধা এবং আমরা নিশ্চিত যে সে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে।’
ক্রিকেট মহল ও বিসিসিআইয়ের সমর্থন
সলিলের এই কঠিন সময়ে গোটা ক্রিকেট ভ্রাতৃত্ব তার পাশে দাঁড়িয়েছে। রিয়া আঙ্কোলা বিসিসিআই এবং সলিলের প্রাক্তন সতীর্থদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘ক্রিকেট মহল তার এই বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্তকে খুব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে।’ অজিত আগারকরের প্রাক্তন সহকর্মী হিসেবেও সলিল বিসিসিআইয়ের নির্বাচক কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সলিল আঙ্কোলার ক্রিকেট ক্যারিয়ার ও জীবন সংগ্রাম
সলিল আঙ্কোলার ক্রিকেট জীবন ছিল বর্ণময় কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় ভরা। ১৯৮৯ সালে করাচিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তার টেস্ট অভিষেক হয়েছিল, যেখানে একই ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল শচীন টেন্ডুলকার এবং ওয়াকার ইউনিসের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি ছিলেন মুম্বাইয়ের অন্যতম সেরা বোলার। ৫৪টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে তিনি ১৮১টি উইকেট শিকার করেছেন।
- ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক।
- ২০টি ওয়ানডে ম্যাচে ১৩টি উইকেট।
- ১৯৯৭ সালে মাত্র ২৮ বছর বয়সে বাধ্য হয়ে ক্রিকেট থেকে অবসর।
তবে ক্যারিয়ারের মাঝপথে চোয়ালের টিউমারের কারণে তাকে অকাল অবসর নিতে হয়। ক্রিকেট ছাড়ার পর তিনি অভিনয় জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে কাজ করেন। পরবর্তীতে ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মুম্বাইয়ের প্রধান নির্বাচক এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের জাতীয় নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
উপসংহার
মানসিক স্বাস্থ্যের লড়াইটি যে শারীরিক আঘাতের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, তা সলিল আঙ্কোলার ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল। একজন খেলোয়াড় এবং নির্বাচক হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেটে তার অবদান অনস্বীকার্য। আশা করা যায়, সঠিক চিকিৎসা এবং পরিবারের ভালোবাসায় সলিল আঙ্কোলা খুব শীঘ্রই তার চিরচেনা ছন্দে ফিরবেন এবং নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করবেন। তার এই লড়াইয়ের প্রতি রইল শুভকামনা।
0 Comments