আইপিএল পিচে বিসিসিআই-এর নতুন কৌশল
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএল ২০২৬-এর জন্য একটি অত্যন্ত কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে, যা টুর্নামেন্টের গতিপ্রকৃতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রতিটি ভেন্যুতে এমন পিচ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা মূলত ব্যাটিং-বান্ধব হবে। এর ফলে জসপ্রীত বুমরাহ বা রশিদ খানের মতো বিশ্বমানের বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ অনেকটাই বেড়ে গেছে। ফ্ল্যাট সারফেসে বোলিংয়ের ধার কমে যাওয়াটাই এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হোম অ্যাডভান্টেজ কি অতীত?
এক সময় আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস বা কলকাতা নাইট রাইডার্সের মতো দলগুলো নিজেদের ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য ছিল। পিচের চরিত্র অনুযায়ী তারা কৌশল সাজাত। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই হোম অ্যাডভান্টেজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এখন প্রায় প্রতিটি ভেন্যুতেই ২২০-এর বেশি রান হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে। বিসিসিআই-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পিচগুলোতে এমনভাবে ঘাস রাখা হচ্ছে যাতে অতিরিক্ত স্পিন বা সিম মুভমেন্ট না হয়।
কেন এই পরিবর্তন?
বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো দর্শকদের জন্য উচ্চ স্কোরিং ম্যাচ উপহার দেওয়া। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ভেন্যুতে বাউন্ডারির মাপ ৭৭ মিটারের বেশি রাখা যাবে না এবং পিচে সমানভাবে ঘাস ছড়াতে হবে যাতে ড্রাই সারফেস তৈরি না হয়। এছাড়া, প্রতিটি ভেন্যুতে একজন করে কেন্দ্রীয় কিউরেটর নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিরা পিচের ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। প্লে-অফ এবং ফাইনালের সময় পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে বিসিসিআই-এর প্যানেলের হাতে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ও কোচদের দৃষ্টিভঙ্গি
দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচ হেমং বাদানি নিশ্চিত করেছেন যে, আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর এখন পিচ তৈরির ক্ষেত্রে কোনো হাত নেই। তিনি জানিয়েছেন, বিসিসিআই চায় পিচ নিরপেক্ষ থাকুক, যাতে কোনো স্থানীয় দল বাড়তি সুবিধা না পায়। বাদানি বলেন, ‘আমরা চাইলেও আমাদের পছন্দমতো পিচ পেতে পারি না। বিসিসিআই-এর পরিষ্কার নির্দেশ রয়েছে এবং আমাদের যা দেওয়া হচ্ছে তাতেই খেলতে হচ্ছে। এক ম্যাচে ৭৬ রান হচ্ছে, আবার অন্য ম্যাচে ২৬৫ রান অনায়াসে তাড়া করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতাহীনতা বড় চ্যালেঞ্জ।’
বোলারদের জন্য কি সময় ফুরিয়ে আসছে?
ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তাদের মতে, এই পিচ নীতি ব্যাটারদের মানসিকতাকেও প্রভাবিত করছে। ব্যাটাররা এখন পিচ ফ্ল্যাট হবে এমন প্রত্যাশা নিয়েই মাঠে নামছেন। ফলে যখনই পিচে সামান্যতম সহায়তা বোলাররা পাচ্ছেন, তখনই ব্যাটাররা খেই হারিয়ে ফেলছেন। জসপ্রীত বুমরাহর মতো বোলাররা যারা কিপটে বোলিংয়ের জন্য পরিচিত, তাদের জন্য এই ফ্ল্যাট পিচগুলো রীতিমতো বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপসংহার
সামগ্রিকভাবে, আইপিএল ২০২৬-এ এখন আর স্পিন বা সিমের ওপর নির্ভর করে ম্যাচ জেতার দিন নেই। প্রতিটি দলকেই এখন অভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। বিসিসিআই-এর এই ‘নিউট্রাল পিচ’ নীতি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে আরও বেশি আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও এটি দর্শকদের বিনোদন বাড়াচ্ছে, তবে ক্রিকেটের ভারসাম্য রক্ষায় বোলারদের দক্ষতা আর কতদিন এই ফ্ল্যাট পিচে টিকে থাকতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।
0 Comments