আইপিএলের রঙিন দুনিয়ায় এক আজব কাণ্ড

ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। গ্ল্যামার, অর্থ এবং মাঠের লড়াইয়ের জন্য পরিচিত এই লিগে অনেক সময় এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা শুনে অবাক হতে হয়। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিধ্বংসী ফাস্ট বোলার মার্ক উড বিবিসি-র পডকাস্ট ‘স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউট’-এ এসে এমনই এক মজার এবং বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলার সময় অসুস্থতার কবলে পড়া উডকে সুস্থ করে তোলার জন্য মালিকপক্ষ যে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল, তা শুনলে অবাক না হয়ে উপায় নেই।

অসুস্থতার মাঝেই মালিকের ফোন

ঘটনাটি ঘটেছিল উডের আইপিএল সফরের সময়। টানা পাঁচটি ম্যাচ খেলার পর শরীর আর সায় দিচ্ছিল না এই ইংলিশ পেসারের। তিনি জানান, পরবর্তী ম্যাচের আগে মাত্র তিনদিনের বিরতি ছিল। সেই সময়ে তার শারীরিক অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর চিকিৎসক তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে আসতেন। উড বলেন, ‘আমি ঠিকমতো খেতে পারছিলাম না, ঘুমাতেও পারছিলাম না। বিছানা থেকে ওঠার শক্তিও ছিল না।’

এই পরিস্থিতিতে দলের মালিক তাকে সরাসরি ফোন করেন। শারীরিক অবস্থার কথা জানার পর মালিক তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তিনি খেলার জন্য প্রস্তুত কি না। উড যখন নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান, তখন মালিক তার জন্য নতুন চিকিৎসক পাঠানোর ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

ব্যক্তিগত প্লেনের অবিশ্বাস্য প্রস্তাব

গল্পের এখানেই শেষ নয়। পরের দিন মালিক আবার ফোন করেন উডকে। তখনো উড সুস্থ হননি। এরপরই সেই অবিশ্বাস্য প্রস্তাবটি আসে। মার্ক উড জানান, ‘মালিক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি খেলতে পারব কি না। আমি যখন জানালাম আমি শারীরিকভবে একেবারেই সক্ষম নই, তখন তিনি আমাকে ব্যক্তিগত প্লেন ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আমাকে সরাসরি ম্যাচের ভেন্যুতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং ম্যাচ শেষে আবার একইভাবে ফিরিয়ে আনা হবে!’

পডকাস্টের উপস্থাপকরা এই কথা শুনে হাসি থামাতে পারেননি। উড জানান, তিনি এমনকি তার বাবার সঙ্গেও পরামর্শ করেছিলেন এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেন কি না। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনি নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই ম্যাচ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেন। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তার এই সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক।

মার্ক উডের আইপিএল পরিসংখ্যান

আইপিএলে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও, নিজের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে উড বেশ কার্যকর ছিলেন। তিনি এখন পর্যন্ত আইপিএলে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১১টি উইকেট শিকার করেছেন। ২০২৩ সালের আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে তার ৫/১৪ বোলিং ফিগার আজও ভক্তদের মনে গেঁথে আছে। সেই ম্যাচে তিনি পৃথ্বী শ, মিচেল মার্শ, সরফরাজ খান, অক্ষর প্যাটেল এবং চেতন সাকারিয়াকে আউট করেছিলেন।

গতি ও ক্যারিয়ার

ইংল্যান্ড দলের হয়ে ৩৮টি টেস্ট খেলা এই পেসার ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম বোলার। ৯৭.১ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে বল করার রেকর্ড রয়েছে তার ঝুলিতে, যা কোনো ইংলিশ বোলারের জন্য সর্বোচ্চ। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি ১১৯টি উইকেট নিয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচবার ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব আছে তার। শেষবার তাকে দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের অ্যাশেজ সিরিজে পার্থের মাঠে। আইপিএলের এই ঘটনাটি কেবল একটি মজার স্মৃতি নয়, বরং খেলোয়াড়দের প্রতি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের আবেগ এবং জয় পাওয়ার তাড়নার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

Categories: Cricket News

Avatar photo

Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *