এমএস ধোনির অনুপস্থিতি ও চেন্নাই সুপার কিংস: এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্প
এমএস ধোনি: এক রহস্যময় অপেক্ষা
এমএস ধোনি বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে লম্বা চুলের সেই আইকনিক লুক, বলকে সীমানার ওপারে আছড়ে ফেলার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা এবং মাঠে তার শীতল মস্তিষ্কের নেতৃত্ব। ক্রিকেট বিশ্ব তাকে চেনে একজন জাদুকর হিসেবে, যার প্রতিটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এবারের আইপিএল মৌসুমটি যেন একেবারেই ভিন্ন। ধোনির অনুপস্থিতি চেন্নাই সুপার কিংসের ভক্তদের হৃদয়ে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তবে কী কারণে তিনি এখনো মাঠে নামেননি?
ইনজুরির থাবা ও ধোনির ফেরার লড়াই
মার্চ মাসে সাক্ষী ধোনির একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তিনি লিখেছিলেন, ৭৫ দিনের মধ্যে রাঁচিতে ফিরছেন। ভক্তরা ভেবেছিলেন, এবারের আইপিএলে ধোনির শেষ দেখা মিলবে। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সিএসকে-এর ব্যাটিং কোচ মাইকেল হাসি জানিয়েছেন, একটি পায়ের চোট ধোনিকে মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। হাসি বলেন, ‘আমরা তার ব্যাটিং এবং উইকেটকিপিং দক্ষতা নিয়ে নিশ্চিত, কিন্তু তার রানিং বিটুইন দ্য উইকেট অর্থাৎ দৌড়ানোর ক্ষমতা ফিরে পাওয়াটাই মূল চ্যালেঞ্জ। ব্যাক-এন্ডে যখন তাকে রান নিতে হবে, তখন যেন পায়ের ওপর চাপ না পড়ে, সেই অপেক্ষায় আমরা আছি।’
কেন ম্যাচ ডে-তে স্টেডিয়ামে আসছেন না ধোনি?
ম্যাচ চলাকালীন ধোনিকে গ্যালারিতে বা ড্রেসিং রুমে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে ধোনির নিজস্ব এক দর্শন। মাইকেল হাসি আরও যোগ করেন, ‘ধোনি চায় না তার উপস্থিতি দলের মনোযোগ নষ্ট করুক। ক্যামেরা সবসময় তাকে অনুসরণ করবে, গ্যালারিতে হইচই পড়বে। সে চায় দল নিজেদের মতো করে খেলায় মনোযোগ দিক। সে ড্রেসিং রুমে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে, অনুশীলনে নিয়মিত থাকছে, কিন্তু ম্যাচের দিন মাঠের বাইরে থাকাটা তার নিজের সিদ্ধান্ত।’
টিম সিএসকে ও ধোনির আত্মার সংযোগ
রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে এবারের আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচটি ছিল ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সুরেশ রায়না এবং এমএস ধোনি—উভয়কেই ছাড়া সিএসকে-এর একাদশ দেখা গেল প্রথমবারের মতো। হেড কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং বলেছেন, যদিও ধোনি শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই, কিন্তু দলের আত্মায় তিনি মিশে আছেন। চেন্নাইয়ের ড্রেসিং রুমে ধোনি এখনো সেই ‘বাবলি পার্সোনালিটি’, যিনি তরুণ খেলোয়াড়দের সাহস জোগান এবং মাঠে নামার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করেন।
আইপিএল কি কেবলই এক ব্যবসা?
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বোলিং কোচ মুথাইয়া মুরালিধরন একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন—আইপিএল একটি বড় ব্যবসা। এখানে প্রতিটি খেলোয়াড় একটি সম্পদের মতো। সিএসকে তাদের এই মূল্যবান সম্পদকে কোনোভাবেই ঝুঁকি নিতে চায় না। ধোনির মতো খেলোয়াড়কে তারা তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামিয়ে বড় কোনো ইনজুরির মুখোমুখি করতে চায় না। তাই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা হয়তো ধোনির দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ারের জন্য একটি সতর্ক পদক্ষেপ।
নেট সেশনে ধোনির ছন্দ
সবচেয়ে আশার কথা হলো, ধোনির সাম্প্রতিক নেট সেশন। তিনি কেবল কিছুক্ষণ ব্যাটিং করে ফিরে যাচ্ছেন এমনটি নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে নেটে সময় কাটাচ্ছেন। চিপকের রুফ উড়িয়ে দেওয়ার মতো সব শট খেলছেন, হার্দিক পান্ডিয়া বা কাইরন পোলার্ডের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন। তার এই শারীরিক কসরত জানান দিচ্ছে, তিনি এখনো হাল ছাড়েননি। হয়তো খুব শীঘ্রই আমরা ধোনিকে সেই চিরচেনা মেজাজে কিপিং গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে বা ব্যাট হাতে শেষ ওভারে ফিনিশিং টাচ দিতে দেখব। ভক্তদের এই অপেক্ষা কি তবে শেষের পথে? সময় গেলেই তা স্পষ্ট হবে।
