Bangladesh Cricket

নিরাপত্তা পেলে পরের দিনই দেশে ফিরব: সাকিব আল হাসান

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

নিরাপত্তা পেলে দেশে ফেরার অপেক্ষায় সাকিব

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা নাম সাকিব আল হাসান। কিন্তু গত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি নেই দেশের মাটিতে। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তার নামে দায়ের করা হয়েছে একাধিক মামলা, যার মধ্যে একটি হত্যা মামলাও রয়েছে। ভারতের মাটিতে ২০২৪ সালের কানপুর টেস্টের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে আর দেখা যায়নি। সম্প্রতি এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ফেরা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

সাকিবের ফেরা ও বিসিবির ভূমিকা

সাকিব জানান, বিসিবির আগের কমিটির পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে তার ফেরার ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক কিছুই সম্ভব, আবার অনেক কিছুই অসম্ভব। মানুষ যদি চায় তবেই সবকিছু হয়।’ বর্তমানে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত বিসিবির অ্যাডহক কমিটির দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। সাকিব আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে নির্বাচন শেষে একটি স্থিতিশীল বোর্ড দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

মিথ্যা অভিযোগ ও আইনি লড়াই

নিজের নামে দায়ের করা মামলাগুলো নিয়ে সাকিব বেশ শান্ত। তিনি মনে করেন, কোনো অপরাধের প্রমাণ ছাড়া তাকে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমার নামে রাজনৈতিক ও হত্যা মামলা আছে, চেক বাউন্সের একটি সাধারণ ব্যাংকিং বিষয় আছে। যদি আমার কোনো অপরাধ থাকে তবে প্রমাণ হোক। প্রমাণ ছাড়া কারো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখা বা হয়রানি করা কাম্য নয়।’ তিনি আইনি লড়াইয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে আত্মবিশ্বাসী।

লন্ডনে বৈঠক ও ভুল বোঝাবুঝি

সাবেক বোর্ড পরিচালক আসিফ আকবরের সাথে লন্ডনে হওয়া বৈঠকের কথা উল্লেখ করে সাকিব একে নিছক কাকতালীয় বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, তাদের দেখা হওয়ার বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। এছাড়া ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের সময় দুবাই থেকে ফিরে আসার ঘটনা নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। তিনি জানান, সবকিছু ঠিক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় তাকে ফিরতে হয়েছিল।

খেলাধুলা ও জাতীয় দলের প্রতি দায়বদ্ধতা

অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কেন তিনি দেশের বাইরে খেলছেন না। এ বিষয়ে সাকিবের অবস্থান পরিষ্কার। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষের আবেগ জড়িত যেখানে, সেখানে বিদেশের লিগে খেলাটা অনেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সময় তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন কারণ তিনি মনে করেছিলেন এটি দলের বা বোর্ডের জন্য সম্মানজনক হবে না।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা

সাকিবের প্রত্যাশা খুব সহজ। তিনি কোনো বিশেষ পুলিশ প্রটোকল বা রাস্তা বন্ধ করার মতো সুবিধা চান না। তিনি কেবল চান একজন নাগরিক হিসেবে স্বাভাবিক নিরাপত্তা। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমি দেশে ফিরতে চাই। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আদালতে লড়তে আমি প্রস্তুত। যদি কাল আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, আমি পরদিনই দেশে ফিরব।’

শেষ কথা

সাকিবের এই সাক্ষাৎকারটি দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য একটি বড় বার্তা। মাঠে তার অভাব বাংলাদেশ দল যে তীব্রভাবে অনুভব করছে, তা কারো অজানা নয়। তবে দেশের আইনি জটিলতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সমীকরণ মিলিয়ে সাকিব কখন এবং কীভাবে ফিরবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন তাদের প্রিয় তারকাকে আবার মিরপুরের স্টেডিয়ামে দেখার জন্য।

সাকিব আল হাসানের বর্তমান মানসিক অবস্থা ও ফেরার ইচ্ছা জানান দেয় যে, তিনি তার ক্যারিয়ার ও দেশের জন্য কতটা নিবেদিত। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং সামাজিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকলে হয়তো খুব দ্রুতই তাকে আবার লাল-সবুজের জার্সিতে দেখা যাবে।

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.