আইপিএলের আঙিনায় মিচেল স্টার্কের প্রত্যাবর্তন
১ মে, শুক্রবার আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে অবশেষে দেখা মিলল মিচেল স্টার্কের। জয়পুরের সয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে অভিষেক হলো এই অজি পেসারের। দীর্ঘ তিন মাস মাঠের বাইরে থাকার পর তার এই প্রত্যাবর্তন ছিল সত্যিই নজরকাড়া।
কেন দেরিতে যোগ দিলেন স্টার্ক?
অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্মে অ্যাশেজ সিরিজে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর থেকেই স্টার্কের কনুই ও কাঁধের চোঁট নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। পাঁচটি টেস্ট ম্যাচ খেলার ধকল সামলাতে গিয়েই মূলত তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজলউডদের মতো তিনিও আইপিএলের শুরুর দিকের ম্যাচগুলো খেলতে পারেননি। তবে ফিটনেস ফিরে পেতেই তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেন। স্টার্ক যখন দলের সাথে যোগ দেন, তখন দিল্লি ক্যাপিটালস পয়েন্ট টেবিলে বেশ চাপে ছিল, শেষ ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিই হেরেছিল তারা। এমন পরিস্থিতিতে স্টার্কের অন্তর্ভুক্তি দলকে নতুন আশা জোগায়।
প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
দীর্ঘদিন ক্রিকেটের বাইরে থাকলেও স্টার্কের ধার বিন্দুমাত্র কমেনি। প্রথম ওভারেই যশস্বী জয়সওয়ালকে সাজঘরে ফিরিয়ে তিনি নিজের জাত চিনিয়ে দেন। এরপর ১৭তম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজা এবং রিয়ান পরাগ—উভয় গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি দিল্লিকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। ৩/৪০ ফিগার নিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বোলার বলা হয়। তার এই বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদেই দিল্লি ক্যাপিটালস ২২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে সক্ষম হয় এবং ৫ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয়।
অবসর প্রসঙ্গে স্টার্কের হাস্যরসাত্মক জবাব
ম্যাচ শেষে স্টার্কের অবসর নিয়ে চলা গুঞ্জন ও তার শরীরের টেপ লাগানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ খোশমেজাজেই উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘আমি যদি তিনটি জায়গায় স্ট্র্যাপিং লাগিয়ে খেলি, তবে অবসরের গুঞ্জন উঠতেই পারে, তাই না? তবে আমি এখনই সেদিকে যাচ্ছি না।’ তার এই উত্তরেই স্পষ্ট যে, ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা এখনো তার মধ্যে অটুট। তিনি আরও জানান, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নিলেও টেস্ট ক্রিকেট এবং ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দিকেই তার মূল লক্ষ্য।
ভবিষ্যতের পথে অজি পেসার
স্টার্কের মতে, দীর্ঘদিন পর খেলায় ফেরা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। ‘কনুইয়ের ব্যথা সামলে বোলিং অ্যাকশন ঠিক রাখাটাই এখন আমার কাজ। মাঠে ফিরতে পেরে এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আমি আনন্দিত,’ জানিয়েছেন তিনি। দিল্লি ক্যাপিটালস শিবিরও তার এই পারফরম্যান্সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, আইপিএলের বাকি পথচলায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
স্টার্কের এই প্রত্যাবর্তন কেবল দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্যই নয়, বরং আইপিএলের রোমাঞ্চ বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় থাকবেন এই অজি তারকা তার বোলিং জাদু দিয়ে আরও কত ম্যাচ জেতাতে পারেন তার দেখার জন্য।
0 Comments