রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানায় বড় পরিবর্তন: মিত্তল ও পুনাওয়ালার হাত ধরে নতুন অধ্যায়
আইপিএল ক্রিকেটের দুনিয়ায় একটি বড়সড় পরিবর্তনের খবর সামনে এসেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজস্থান রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা হস্তান্তরের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই নতুন চুক্তিতে বড় অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মিত্তল পরিবার এবং সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সিইও আদার পুনাওয়ালা।
চুক্তির বিস্তারিত ও মালিকানার বিভাজন
নতুন এই চুক্তির অধীনে মিত্তল পরিবার রাজস্থান রয়্যালসের ৭৫ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, আদার পুনাওয়ালা ব্যক্তিগতভাবে ১৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক হচ্ছেন। বর্তমান মালিক মনোজ বাদালে বাকি ৭ শতাংশ শেয়ারের অংশীদার হিসেবে থাকছেন এবং তিনি বিনিয়োগকারীদের একটি দলকে নেতৃত্ব দেবেন। জানা গেছে, এই চুক্তির আওতায় শুধুমাত্র আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, বরং রাজস্থান রয়্যালসের সিস্টার কনসার্ন হিসেবে পরিচিত বার্বাডোজ রয়্যালস (সিপিএল ও ডব্লিউসিপিএল) এবং পার্ল রয়্যালস (এসএ২০) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের মধ্যে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
কেন ভেস্তে গিয়েছিল আগের চুক্তি?
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে রাজস্থান রয়্যালস বিক্রির জন্য আমেরিকান ব্যবসায়ী কাল সোমানির নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের সাথে ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেই চুক্তি ভেঙে যায়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সোমানি-নেতৃত্বাধীন ওই কনসোর্টিয়াম প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। দুই দফা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সত্ত্বেও তারা অর্থের নিশ্চয়তা দিতে না পারায় সেই ডিল বাতিল করতে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ।
নতুন মালিকদের ভাবনা
রাজস্থান রয়্যালসের নতুন মালিক হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর লক্ষ্মী নিবাস মিত্তল নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ক্রিকেট ভালোবাসি এবং আমার পরিবার রাজস্থান থেকে এসেছে। তাই রাজস্থান রয়্যালসের চেয়ে ভালো কোনো আইপিএল দলের অংশ হওয়া আমার কাছে সম্ভব ছিল না।’ তিনি আরও জানান, ছোটবেলা থেকে তিনি ক্রিকেটের একজন বড় ভক্ত এবং এই ফ্র্যাঞ্চাইজির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অংশ হতে পেরে তিনি রোমাঞ্চিত।
আদার পুনাওয়ালাও এই বিনিয়োগ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। তিনি জানান, ‘রাজস্থান রয়্যালস আইপিএলের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্যের নাম। মিত্তল পরিবারের সাথে যুক্ত হয়ে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।’
ভবিষ্যতের পথচলা
মনোজ বাদালে জানিয়েছেন, নতুন মালিকদের আগমনে রাজস্থান রয়্যালস আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, ‘নতুন মালিকদের ক্রিকেটের প্রতি আবেগ এবং রাজস্থানের সাথে তাদের নাড়ির টান এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’ বিসিসিআই ও কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার অনুমোদনের পর মিত্তল পরিবারের সদস্যরা এবং আদার পুনাওয়ালা সরাসরি রাজস্থান রয়্যালসের বোর্ডে যোগ দেবেন।
মাঠের লড়াইয়ে রাজস্থান
মালিকানা পরিবর্তনের এই বড় খবরের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও রাজস্থান রয়্যালস বেশ নজর কাড়ছে। ২০০৮ সালের চ্যাম্পিয়ন দলটি বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এবারের মৌসুমে শুরুটা দারুণ করলেও শেষ কয়েকটি ম্যাচে কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে। তবে প্লে-অফের দৌড়ে তারা এখনও বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। আগামী ৯ মে জয়পুরের সাওয়াই মান সিং স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে রাজস্থান।
ক্রিকেট ভক্তদের প্রত্যাশা, নতুন মালিকানার অধীনে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি মাঠ ও মাঠের বাইরের সব ক্ষেত্রে আরও পেশাদারিত্ব ও সাফল্যের পরিচয় দেবে। রাজস্থান রয়্যালসের এই নতুন অধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
0 Comments