পিএসএল ২০২৩: ইফতিখারের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে নাটকীয় জয় পেশোয়ার জালমির
পিএসএলে ইফতিখারের বীরত্বে জয়রথ অব্যাহত পেশোয়ার জালমির
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিজেদের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে পেশোয়ার জালমি। দীর্ঘ ১১ দিনের বিরতির পর মাঠে ফিরে হায়দ্রাবাদ কিংসমানের বিপক্ষে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে চার উইকেটের রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নিয়েছে বাবর আজমের দল। এই ম্যাচের আসল নায়ক অবশ্যই ইফতিখার আহমেদ, যিনি বল হাতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর ব্যাট হাতেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন।
বোলারদের দাপট ও কিংসমানের অসহায় আত্মসমর্পণ
করাচির মাঠে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা হায়দ্রাবাদ কিংসমান শুরু থেকেই ছিল ব্যাকফুটে। বিশেষ করে ইফতিখার আহমেদের ঘূর্ণিতে টপ অর্ডার পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই মায সাদাকাতকে সাজঘরে ফেরান তিনি। পরের ওভারেই সাইম আইয়ুব, শারজিল খান এবং উসমান খানকে আউট করে কিংসমানকে খাদের কিনারে ঠেলে দেন।
এক পর্যায়ে কিংসমানের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক মারনাস ল্যাবুশেন এবং কুশল পেরেরা। পেরেরা একটি চমৎকার হাফ-সেঞ্চুরি করলেও ল্যাবুশেন বেশ ধীরগতিতে ব্যাটিং করছিলেন। ল্যাবুশেন যখন সুফিয়ান মুকিমের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন, তখন দলের রান ছিল ৮২। পেরেরার বিদায়ের পর হায়দ্রাবাদ কিংসমানের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। শেষ ৫ উইকেট তারা মাত্র ৯ রান যোগ করতে পারে, ফলে পুরো দল মাত্র ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায়।
জয়ের পথে বাবর-মেন্ডিসের সাবধানী শুরু
১৪৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পেশোয়ার জালমি শুরুতেই মোহাম্মদ হারিসের ব্যাটে কিছুটা গতি পায়। তবে এরপর কুশল মেন্ডিস এবং বাবর আজম মিলে ইনিংস মেরামত করার দায়িত্ব নেন। বাবর আজম ছিলেন অনেকটাই ধীরস্থির, যা শেষ দিকে দলের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মেন্ডিস ও বাবরের ৪৯ রানের জুটি ভাঙেন সাইম আইয়ুব। এরপর মাইকেল ব্রেসওয়েল দ্রুত কিছু রান তুললেও তিনিও আইয়ুবের শিকার হন।
শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা ও ইফতিখারের ফিনিশিং
ম্যাচের আসল উত্তেজনা ছড়ায় শেষ ছয় ওভারে। অধিনায়ক বাবর আজম ৪৩ রান করে আউট হওয়ার পর ফারহান ইউসুফ এবং আব্দুল সামাদ দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে জালমি চাপে পড়ে যায়। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। ১৯তম ওভারে হুনাইন শাহ অসাধারণ বোলিং করে ম্যাচটি কিংসমানের দিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেন।
তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ ইফতিখার আহমেদ থাকায় ম্যাচটি জালমির হাতের মুঠো থেকে ফস্কায়নি। শেষ ওভারে ইফতিখারের ব্যাটে ভর করে এবং হুনাইন শাহর কিছুটা ভুল লেন্থের বোলিং কাজে লাগিয়ে পেশোয়ার জালমি প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। এই জয়ে পিএসএলে পেশোয়ার জালমি তাদের অপরাজিত থাকা নিশ্চিত করল, অন্যদিকে টানা হারে হায়দ্রাবাদ কিংসমানের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেল।
ম্যাচ হাইলাইটস
- পেশোয়ার জালমি: ১৪৬/৬ (বাবর ৪৩, মেন্ডিস ২৭)
- হায়দ্রাবাদ কিংসমান: ১৪৫ অল আউট (পেরেরা ৫৮, ইফতিখার ৪/২১, মুকিম ৪/৩২)
- ম্যাচ সেরা: ইফতিখার আহমেদ (পেশোয়ার জালমি)
এই জয় প্রমাণ করে যে, পিএসএলের মতো টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের স্নায়ুর চাপ সামলানোর ক্ষমতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইফতিখার আহমেদের মতো একজন অলরাউন্ডার দলের জন্য কতটা আশীর্বাদ হতে পারেন, তা আজকের ম্যাচে আবারও প্রমাণিত হলো। পেশোয়ার জালমি এখন পরবর্তী ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে।
