লুইস ও ল্যাম্বের দাপুটে পারফরম্যান্স: ল্যাঙ্কাশায়ারের কাছে ধরাশায়ী ডারহাম
লুইস ও জোন্সের ব্যাটে ল্যাঙ্কাশায়ারের রান পাহাড়
মেট্রো ব্যাংক ওয়ানডে কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই নিজেদের শক্তির জানান দিল ল্যাঙ্কাশায়ার নারী ক্রিকেট দল। চেস্টার-লি-স্ট্রিটে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ওভারের চেয়ে ২ ওভার কম খেলা সত্ত্বেও ল্যাঙ্কাশায়ার ৩০৩ রানের বিশাল পুঁজি সংগ্রহ করে। এই বড় রানের ভিত্তি গড়ে দেন আয়ারল্যান্ড আন্তর্জাতিক তারকা গাবি লুইস এবং তার সঙ্গী ইভ জোন্স।
শুরুতে এমা ল্যাম্ব সোফিয়া টার্নারের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে দ্রুত ফিরে গেলেও, দ্বিতীয় উইকেটে লুইস এবং জোন্স ১৭৬ রানের এক অসাধারণ পার্টনারশিপ গড়েন। ইভ জোন্স ৮২ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যেখানে তার মাঠের সোজা মারা ড্রাইভগুলো ছিল দেখার মতো। অন্যদিকে, গাবি লুইস ছিলেন আরও আক্রমণাত্মক। তিনি মাঠের চারদিকে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে তার লিস্ট এ ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বিশেষ করে কেটি লেভিকের বলে তার প্যাডেল সুইপ এবং রিভার্স সুইপগুলো ল্যাঙ্কাশায়ারকে ২০০ রানের গণ্ডি দ্রুত পার করতে সাহায্য করে। লুইস শেষ পর্যন্ত ১৩১ রান করে আউট হন।
ক্যাথরিন ফ্রেজারের পাল্টা আঘাত ও ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংস সমাপ্তি
ল্যাঙ্কাশায়ার এক সময় মনে হচ্ছিল ৩৫০ রান পার করে ফেলবে, কিন্তু ডারহামের ক্যাথরিন ফ্রেজার শেষ দিকে দুর্দান্ত বোলিং করে সেই গতি কিছুটা কমিয়ে আনেন। তিনি ল্যাঙ্কাশায়ার অধিনায়ক এলি থ্রেলকেল্ডকে বোল্ড করার পর বিপজ্জনক সোফি একলেস্টোন এবং কেট ক্রসকেও সাজঘরে ফেরত পাঠান। সোফিয়া টার্নারও শেষের দিকে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের রানের গতি রোধ করার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ার ৩০৩ রানের এক পাহাড়সম স্কোর বোর্ডে তোলে, যা ডারহামের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
ডারহামের ব্যাটিং বিপর্যয় ও এমা ল্যাম্বের স্পিন জাদু
৩০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডারহাম শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। তারা নোরিস ওপেনার তাহলিয়া উইলসনের অফ-স্টাম্প উপড়ে দিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন। অধিনায়ক হোলি আর্মিটেজ এবং এমা মারলো কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও সোফি একলেস্টোনের স্পিনে সেই জুটি বেশিক্ষণ টেকেনি। আর্মিটেজকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন লুইস, যা ডারহামের জয়ের আশাকে কার্যত শেষ করে দেয়।
ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগে মূল আকর্ষণ ছিলেন এমা ল্যাম্ব। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হলেও বল হাতে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ২৯ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। বিশেষ করে ডারহামের শেষ দিকের ব্যাটিং লাইনআপকে তিনি একাই ধসিয়ে দেন। এমিলি উইন্ডসর ৪৬ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও অন্য প্রান্ত থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি।
ল্যাঙ্কাশায়ারের ১৪৯ রানের দাপুটে জয়
ডারহামের ইনিংস শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৫৪ রানে গুটিয়ে যায়। বেস হিথ এবং উইন্ডসর মিলে ৫০ রানের একটি পার্টনারশিপ গড়লেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ল্যাম্বের বলে উইন্ডসর উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিলে ডারহামের অলআউট হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শেষ উইকেটে কেটি লেভিক রান আউট হলে ১৪৯ রানের বড় জয় নিশ্চিত হয় ল্যাঙ্কাশায়ারের।
এই জয়ের ফলে ল্যাঙ্কাশায়ার টুর্নামেন্টে তাদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে দুর্দান্ত সূচনা করল। দলের তিন স্তম্ভ লুইস, জোন্স এবং ল্যাম্বের ফর্ম ডারহামের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিলেও ল্যাঙ্কাশায়ার শিবিরের জন্য এটি অত্যন্ত স্বস্তির খবর। ফিল্ডিং এবং বোলিং ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ডারহামকে পুরো ম্যাচে একবারের জন্যও জয়ের সুযোগ দেয়নি।
- গাবি লুইস: ১৩১ রান (অসাধারণ সেঞ্চুরি)
- ইভ জোন্স: ৮২ রান (গুরুত্বপূর্ণ হাফ-সেঞ্চুরি)
- এমা ল্যাম্ব: ৪/২৯ (ম্যাচ জয়ী বোলিং স্পেল)
- ফলাফল: ল্যাঙ্কাশায়ার ১৪৯ রানে জয়ী।
আগামী ম্যাচগুলোতেও ল্যাঙ্কাশায়ারের এই বিধ্বংসী ফর্ম বজায় থাকবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা যেভাবে মৌসুম শুরু করেছে, তাতে অন্য দলগুলোর জন্য সতর্কবার্তা পৌঁছে গেছে।
