[CRK] কার্ডিফে নিরুত্তাপ ড্র: গ্ল্যামারগন ও লেস্টারশায়ারের জয়হীন যাত্রা অব্যাহত
[CRK]
কার্ডিফে এক নিষ্প্রভ লড়াইয়ের ইতি
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি মৌসুমে জয় পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা গ্ল্যামারগন এবং লেস্টারশায়ার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে। ২০০১ সালের পর শীর্ষ বিভাগে দুই দলের এটিই ছিল প্রথম লড়াই। কিন্তু মাঠের লড়াই যতটা জমজমাট হওয়ার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত তা একটি নিরুত্তাপ ড্রয়েই সীমাবদ্ধ রইল। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় দুই অধিনায়ক হাত মিলিয়ে ম্যাচ ড্র করার সিদ্ধান্ত নেন।
স্কোরবোর্ডের খতিয়ান
ম্যাচটিতে গ্ল্যামারগন তাদের প্রথম ইনিংসে ৪৪০ রান সংগ্রহ করেছিল, যেখানে ম্যাসন ক্রেন ৯৯, কিরণ কার্লসন ৯৫ এবং ডিকসন ৯০ রান করেন। জবাবে লেস্টারশায়ার তাদের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৫৮৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। তাদের হয়ে জননি টাটারসাল ১১২ এবং ওয়েদারল্ড ১০৪ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া হল্যান্ড ৭৯, প্যাটেল ৭৯ এবং কক্স ৬৮ রান যোগ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে গ্ল্যামারগন ২ উইকেটে ১৩৭ রান তুলে খেলা শেষ করে, যেখানে আসা ট্রাইব অপরাজিত ৬৭ রান করেন।
শেষ দিনের ঘটনাবলী
ম্যাচের চতুর্থ দিন সকালে জননি টাটারসাল ৮৬ রান নিয়ে শুরু করে তার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বেন কক্সের সাথে তার দারুণ জুটিতে লেস্টারশায়ার দ্রুত রান সংগ্রহ করে ৫ উইকেটে ৫০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। সকালের সেশনে খেলা বেশ ধীরগতিতে এগোলেও, লেস্টারশায়ার তাদের স্কোরে দ্রুত কিছু রান যোগ করতে সক্ষম হয়।
গ্ল্যামারগনের হয়ে কিরণ কার্লসন বল হাতে চমক দেখান। দীর্ঘসময় পর তাকে বোলিংয়ে দেখা যায় এবং তিনি ৩৩ ওভার বল করে ৯৯ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট শিকার করেন। এমনকি নতুন বল না নিয়ে নিজের পুরনো ক্যাপ পরেই তাকে বোলিং করতে দেখা গেছে, যা ছিল বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। বেন গ্রিন এবং আজাজ প্যাটেলের কিছু ছোটোখাটো লড়াইয়ের পর লেস্টারশায়ার ১৪৬ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে।
পিচের আচরণ ও অন্যান্য
কার্ডিফের এই হাইব্রিড পিচটি আগের দিনগুলোর তুলনায় কিছুটা সহায়তা দিলেও তা ছিল খুবই সামান্য। ব্যাটারদের জন্য তেমন কোনো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল না বললেই চলে। কিরণ কার্লসন অবশ্য জশ হলের এক ওভারে বাহু ও পাঁজরে আঘাত পান, তবুও তিনি মাঠ ছাড়েননি। ড্র নিশ্চিত জেনেও তার এই লড়াই প্রশংসনীয়।
লেস্টারশায়ারের জন্য উদ্বেগের বিষয় ছিল জেইক ওয়েদারল্ডের চোট। দ্বিতীয় দিনে আহত হওয়ার পর তিনি আর ফিল্ডিং করতে নামেননি। তবে আগামী ম্যাচে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে তাকে পেতে লেস্টারশায়ার কোনো ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট নেয়নি। সব মিলিয়ে, এই ম্যাচ থেকে উভয় দলই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছে, কিন্তু জয়ের তৃষ্ণা তাদের রয়েই গেল।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
দুই দলই এখন তাদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের এই লম্বা পথ পাড়ি দিতে গ্ল্যামারগন এবং লেস্টারশায়ার উভয়কেই তাদের বোলিং ও ব্যাটিং ইউনিটে আরও ধার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে টপ-অর্ডারের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ক্রিকেটের এই দীর্ঘ ফরম্যাটে জয় পেতে হলে এই ধরণের ড্র থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচে ভালো কিছু করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
