[CRK] জুড বেলিংহামের বার্মিংহাম ফিনিক্সে বিনিয়োগ: ক্রিকেটে ম্যাজিক ডাস্ট
[CRK]
“তিনি সেই ম্যাজিক ডাস্ট এনেছেন” – বার্মিংহাম ফিনিক্সে বেলিংহামের বিনিয়োগের অজানা কথা
জুড বেলিংহামের বার্মিংহাম ফিনিক্সে বিনিয়োগ কেবল আর্থিক খবর নয়, এটি এক গভীর আবেগের প্রকাশ। একজন গ্লোবাল ফুটবল সুপারস্টার যিনি শহরের প্রতি অনুরাগ ছেড়ে আসেননি—বরং তাঁর সাফল্যের উচ্চতা থেকে ফিরে এসেছেন এই ছোট্ট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হতে।
টম ব্র্যাডির প্রভাব, বেলিংহামের প্রেরণা
আমেরিকান ফুটবলের লিজেন্ড টম ব্র্যাডি তাঁর ছোট্ট বিনিয়োগের মাধ্যমে বার্মিংহাম সিটি ফুটবল ক্লাবে নতুন আলো ফেলেছিলেন—২০২৩ সালে তিনি ক্লাবের ৩.৩% শেয়ার কিনেছিলেন। তাঁর প্রধান ভূমিকা ছিল ক্লাবের ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়া। এই একই মডেল এখন কাজে লাগল ক্রিকেটে।
বার্মিংহাম ফিনিক্সের কো-অনার কনিহেড ক্যাপিটাল এবং ওয়ারউইকশায়ার ক্রিকেট ক্লাব এই মডেলে আস্থা রেখেছিল। আর তারই ফল হল জুড বেলিংহামের ১.২% অংশীদারিত্ব—যা কিনা মূল্য তৈরি করেছে ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ পাউন্ডের মধ্যে।
একজন ক্রীড়াপ্রেমী, শুধু ফুটবল নয়
বেলিংহাম শুধু ফুটবলার নন। তিনি একজন আসল ক্রীড়াপ্রেমী। ম্যাড্রিদ ওপেনে টেনিস ম্যাচ দেখতে র্যাফায়েল জোদারের প্রথম রাউন্ড ম্যাচে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। এমনকি এনএফএলের মিয়ামি ডলফিন্সের প্রশিক্ষণেও তাঁর উপস্থিতি ছিল।
কিন্তু ক্রিকেটেও তাঁর আন্তরিক আগ্রহ রয়েছে। তিনি ছোটবেলায় হ্যাগলি সিসিতে এবং প্রাইয়োরি স্কুলে এই খেলার অংশ ছিলেন—এমনকি ভাই জোবকে রান আউট করার গল্পও মাঝে মাঝে বলে থাকেন! একটি প্রচার ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, “ওর যে মুখ ভাব ছিল যখন প্যাভিলিয়নে ফিরল…”
এক বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার
ওয়ারউইকশায়ারের সিইও স্টুয়ার্ট কেন বলেছেন, “তিনি শুধু কয়েকটি টাকা ঢেলে দিয়ে চলে যাবেন না। তাঁর শহরের প্রতি ভালোবাসা এবং ক্রিকেটের প্রতি আকর্ষণ স্পষ্ট—এটা কোনো ফ্যাড নয়।”
বেলিংহামের পিতা মার্ক এবং মাতা ডেনিসের মাধ্যমেই লেনদেন হয়েছে। তাঁদের প্রতি মনোভাব পরিষ্কার করে দিয়েছে যে তারা কেবল ব্যবসা করছেন না, বরং শহরের প্রতি কিছু ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা
বেলিংহাম শুধু বোর্ড মিটিংয়ে বসবেন না (তাঁর কোনো ভোটিং অধিকার নেই), তবে তিনি কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এবং সিএসআর প্রকল্পে প্রাণবন্ত ভাবে যুক্ত হবেন।
আলোচনা চলছে স্ট্রিট ক্রিকেট বা টেপ-বল টুর্নামেন্ট চালু করার জন্য—যেখানে ঘাসের মাঠ নেই এমন এলাকার শিশুদের ক্রিকেটের সুযোগ দেওয়া যাবে।
ফুটবল প্রেমীদের চিন্তা কমানোর চেষ্টা
বার্মিংহামে দুটি বড় ফুটবল ক্লাব রয়েছে—অ্যাস্টন ভিলা এবং বার্মিংহাম সিটি। কনিহেড এবং বেলিংহামের সংযুক্ততা কিছু ভিলা সমর্থককে দূরে ঠেলতে পারে। কিন্তু ওয়ারউইকশায়ার মনে করে বেলিংহামের আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং নগরে বিশাল খেলার মাঠ গড়ার পরিকল্পনা এই বিভাজন ভাঙবে।
৪১.৩ মিলিয়ন ফলোয়ার এবং এক নতুন যুগ
বেলিংহামের ইনস্টাগ্রামে ৪১.৩ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে—যা জস বাটলারের চেয়ে ১২ গুণ বেশি। তাঁর একটি রিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ মিলিয়ন মানুষ দেখেছে। এটি কেবল হান্ড্রেড নয়, ইংরেজ ক্রিকেটের জন্য এক বিশাল বাজার।
ইসি বি খুব খুশি। টুর্নামেন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভিক্রম ব্যানার্জি লিঙ্কডইনে লিখেছেন, “এটা ফিনিক্সের জন্য অবিশ্বাস্য, হান্ড্রেডের জন্য অবিশ্বাস্য, ইংলিশ ক্রিকেটের জন্যও অবিশ্বাস্য!”
ভবিষ্যতের দিকে এক নজর
বেলিংহাম হান্ড্রেড শুরুর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপ খেলবেন। তবু তিনি ও তাঁর পরিবারকে এডগবাস্টনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে মে মাসে। ক্লাব আশা করছে তিনি একটি ম্যাচ দেখতে আসবেন—ঘরে বা পার্শ্ববর্তী কোথাও।
আদর্শ চিত্র? জুড বেলিংহাম, জ্যাকব বেথেল এবং ডাভিনা পেরিন একসঙ্গে বার্মিংহাম ফিনিক্সের মুখ। তিনজনই পশ্চিম মিডল্যান্ডসে কিশোর কাল কাটিয়েছেন। তিনজনই বার্মিংহামের পরিবেশে গড়ে উঠেছেন।
স্টুয়ার্ট কেন বলেছেন, “এটা জুডের জন্য একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি। তিনি এটা ধরে রাখতে চান।” আর এই প্রতিশ্রুতি হয়তো শুধু ক্রিকেট নয়, বার্মিংহামের ভবিষ্যতের জন্য একটা নতুন পথ তৈরি করবে।
