[CRK] ডেভিড ওয়ার্নার ও রিজা হেন্ড্রিকসের তাণ্ডবে পিএসএলে টিকে রইল করাচি কিংস
[CRK]
করাচি কিংসের টিকে থাকার লড়াইয়ে ওয়ার্নার-হেন্ড্রিকসের জাদু
পিএসএলের এবারের আসরে টিকে থাকার লড়াইটা খুব একটা সহজ ছিল না করাচি কিংসের জন্য। তবে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে রান তাড়া করে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিল দলটি। এবার তাদের শিকার কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। ১৯৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নার ও রিজা হেন্ড্রিকসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছে করাচি। এই জয়ে বিদায় নিশ্চিত হলো গতবারের ফাইনালিস্ট কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের।
গ্ল্যাডিয়েটর্সদের উড়ন্ত শুরু ও ছন্দপতন
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় বিপর্যয়ে পড়েছিল কোয়েটা। হাসান আলীর প্রথম ওভারেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন শামীল হোসেন ও খাজা নাফে। তবে সেখান থেকে রাইলি রুশো ও সৌদ শাকিল যেভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসেন, তা ছিল দেখার মতো। শাকিল ও রুশোর পাল্টা আক্রমণে গ্ল্যাডিয়েটর্সরা পাওয়ারপ্লেতে তুলে ফেলে ৫৮ রান। রুশো তার চেনা ছন্দে ব্যাট করে ৩৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত শাকিল ৫৬ ও রুশো ৯০ রানের ইনিংস খেললে কোয়েটা নির্ধারিত ওভারে ১৯৫ রানের সংগ্রহ পায়। তবে ডিনেশ চান্দিমালের ছোট ক্যামিও সত্ত্বেও তারা প্রত্যাশিত ২২০ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারেনি, যা শেষ পর্যন্ত হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ওয়ার্নার-হেন্ড্রিকসের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনী
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে করাচির শুরুটা ধীরস্থির হলেও ডেভিড ওয়ার্নার ও রিজা হেন্ড্রিকস উইকেটে জমে যাওয়ার পর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ওয়ার্নার ৮৯ ও হেন্ড্রিকস ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ফর্মের খোঁজে থাকা হেন্ড্রিকস এদিন নিজের সেরাটা উপহার দিয়েছেন। বিশেষ করে আলজারি জোসেফের ১৭তম ওভারে ২৪ রান নিয়ে ম্যাচ থেকে সব উত্তেজনা দূর করে দেন তিনি। সেই ওভারে হেন্ড্রিকসের তিনটি ছক্কা ও একটি চার কোয়েটার বোলারদের মনোবল ভেঙে দেয়।
স্পিন মোকাবিলায় সফল করাচি
এই ম্যাচে করাচি কিংসের জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি ছিল স্পিনারদের বিপক্ষে তাদের দক্ষতা। উসমান তারিকের স্পিনকে পাত্তাই দেননি ওয়ার্নার। তার প্রথম ওভারেই একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে রানের গতি বাড়িয়ে নেন অজি তারকা। অপরপ্রান্তে রিজা হেন্ড্রিকস তার স্বভাবসুলভ ড্রাইভ ও পাওয়ার হিটিং দিয়ে বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান। শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার ঝুঁকি না নিয়েই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে করাচি।
টুর্নামেন্টে প্রভাব
এই জয়ের ফলে করাচি কিংসের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান আরও মজবুত হলো। অন্যদিকে, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স ১০ ম্যাচ শেষে মাত্র তিনটি জয়ে সন্তুষ্ট থেকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল। করাচির এই জয় তাদের ড্রেসিংরুমে প্রাণসঞ্চার করেছে এবং আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ভক্তরা এখন দেখার অপেক্ষায়, এই ধারাবাহিকতা তারা প্লে-অফে ধরে রাখতে পারে কি না।
ম্যাচ সারাংশ
- করাচি কিংস: ১৯৯/১ (ওয়ার্নার ৮৯*, হেন্ড্রিকস ৮৭*)
- কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স: ১৯৫/৬ (রুশো ৯০, শাকিল ৫৭)
- ফলাফল: করাচি কিংস ৪ উইকেটে জয়ী
পরবর্তী ম্যাচগুলোতে করাচি কিংসের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে তারা কতদূর যেতে পারবে। বর্তমান ফর্ম বিচারে তারা এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম বিপজ্জনক দল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
