[CRK] দ্য ব্লেজ বনাম এসেক্স: ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট এবং কির্স্টি গর্ডনের বীরত্বে রোমাঞ্চকর জয়
[CRK]
দ্য ব্লেজের নাটকীয় জয়: এসেক্সের বিরুদ্ধে ওর্লা প্রেন্ডারগাস্টের মাস্টারক্লাস
ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা—এই প্রবাদটি আবারও সত্যি প্রমাণিত হলো এসেক্সের অ্যাম্বাসেডর ক্রুজ লাইন গ্রাউন্ডে। এক সময় জয়ের পাল্লা স্বাগতিক এসেক্সের দিকে ব্যাপকভাবে হেলে থাকলেও, শেষ হাসি হেসেছে দ্য ব্লেজ। ওর্লা প্রেন্ডারগাস্টের বিস্ফোরক ব্যাটিং এবং অধিনায়ক কির্স্টি গর্ডনের ধৈর্যশীল ইনিংসের ওপর ভর করে ৩ উইকেটের এক অবিস্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা।
এসেক্সের ইনিংস: অমরা কারের লড়াকু ফিফটি
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে এসেক্স একটি মোটামুটি চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। তবে তাদের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। গ্রেস বালিঞ্জার শুরুতেই বল হাতে ইন-সুইংয়ের জাদু দেখান। গ্রেস স্ক্রাইভেন্সকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে তিনি এসেক্সকে প্রথম ধাক্কা দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই লিসি ম্যাকলিডও বালিঞ্জারের শিকার হন। পিচে বল কিছুটা থেমে আসায় টাইমিং করতে সমস্যা হচ্ছিল ব্যাটারদের, যার সুযোগ পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগান বালিঞ্জার।
প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন জোডি গ্রিউকক এবং কর্ডেলিয়া গ্রিফিথ। তাদের ৪৮ রানের জুটি এসেক্সকে ম্যাচে ফেরানোর ইঙ্গিত দিলেও গ্রিফিথ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৪৪ রান করা গ্রিউকক টানা তিনটি চারে ন্যাট সাইভার-ব্রান্টকে আক্রমণ করলেও শেষ পর্যন্ত গর্ডনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। এরপর সোফিয়া স্মেল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও প্রেন্ডারগাস্টের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড হয়ে যান।
এসেক্সের ইনিংসকে ২০০-এর ওপারে নিয়ে যাওয়ার পুরো কৃতিত্ব উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অমরা কারের। তিনি খেলেন ৫০ রানের এক লড়াকু ইনিংস। ন্যাট সাইভার-ব্রান্টের মতো তারকা বোলারকেও সীমানার বাইরে পাঠিয়ে তিনি নিজের আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেন। শেষ পর্যন্ত ক্যাথরিন ব্রাইসের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি এসেক্সকে ২১৩ রানের সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেন।
দ্য ব্লেজের ব্যাটিং বিপর্যয়: যখন হারের ঘণ্টা বাজছিল
২১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্য ব্লেজের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। এসেক্সের বোলাররা শুরু থেকেই চড়াও হন ব্যাটারদের ওপর। দলের সেরা তারকা ট্যামি বিউমন্ট কেট কোপ্যাকের বলে অমরা কারের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর শুরু হয় সোফি মুনরোর তাণ্ডব। মুনরো তার দুর্দান্ত স্পেলে পরপর দুই বলে তুলে নেন ক্যাথরিন ব্রাইস এবং ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ন্যাট সাইভার-ব্রান্টকে। সাইভার-ব্রান্ট প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে গোল্ডেন ডাকের শিকার হন, যা স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয়।
ব্লেজের স্কোর যখন ৬১ রানে ৫ উইকেট, তখন মনে হচ্ছিল এসেক্স এক বিশাল জয় পেতে যাচ্ছে। বিশেষ করে অ্যামি জোন্স যখন কোপ্যাকের বলে মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন, তখন ব্লেজের ড্রেসিংরুমে শঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হয়। মেরি কেলি একদিকে দাঁড়িয়ে লড়ছিলেন, কিছু দৃষ্টিনন্দন শট খেলছিলেন, কিন্তু একটি ভুল রান আউটের সিদ্ধান্তে তাকেও বিদায় নিতে হয়। মুনরোর সরাসরি থ্রো যখন স্টাম্প ভেঙে দেয়, তখন ব্লেজের জয় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল।
প্রেন্ডারগাস্ট ও গর্ডনের রূপকথার লড়াই
সব আশা যখন শেষ মনে হচ্ছিল, তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অধিনায়ক কির্স্টি গর্ডন। অষ্টম উইকেটে এই দুজনে মিলে গড়ে তোলেন ১১১ রানের এক অবিচ্ছিন্ন মহাকাব্যিক জুটি। প্রেন্ডারগাস্ট ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। তিনি ৭৩ বলে ৬৯ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি বিশাল ছক্কা। বিশেষ করে সোফিয়া স্মেলকে একই জায়গায় দুবার ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
অন্যদিকে, অধিনায়ক কির্স্টি গর্ডন ছিলেন অবিচল। তিনি নিজের ইনিংস সাজান ৪৭ রানে, যেখানে ছিল সাতটি দৃষ্টিনন্দন চার। এসেক্সের বোলাররা যখন উইকেট পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ভুল করতে শুরু করেন, তখন প্রেন্ডারগাস্ট এবং গর্ডন সেই সুযোগ লুফে নেন। ৬৩ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন প্রেন্ডারগাস্ট। শেষ পর্যন্ত গর্ডনের চারের হাত ধরে জয় নিশ্চিত করে দ্য ব্লেজ।
উপসংহার ও বোলিং পারফরম্যান্স
এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করল কেন ক্রিকেটকে দলীয় খেলা বলা হয়। ব্লেজের বোলিংয়ে বালিঞ্জার, প্রেন্ডারগাস্ট এবং ব্রাইস প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নিয়ে এসেক্সকে আটকে রাখেন। বিপরীতে এসেক্সের সোফি মুনরো ২ উইকেট নিলেও শেষের দিকে বোলারদের খেই হারিয়ে ফেলা তাদের হারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে (২ উইকেট ও অপরাজিত ৬৯ রান) ম্যাচের সেরা হওয়ার দাবিদার। এই জয় দ্য ব্লেজের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, অন্যদিকে এসেক্সকে তাদের ডেথ ওভার বোলিং নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
