[CRK] ব্যাংকার্স ১০০ বল কাপ: সিটি ব্যাংককে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB)
[CRK]
ব্যাংকার্স ১০০ বল কাপের ফাইনালে এমটিবি-র একপাক্ষিক আধিপত্য
আধুনিক ক্রিকেটে নতুন নতুন ফরম্যাটের জয়জয়কার চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য হান্ড্রেড’ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আয়োজিত হয়েছিল কর্পোরেট প্রিমিয়ার লিগ ব্যাংকার্স ১০০ বল কাপ। এই টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB) এবং সিটি ব্যাংক। মাঠের লড়াইয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য বজায় রেখে ৯ উইকেটের বিশাল জয় ছিনিয়ে নিয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, যার ফলে তারা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপাটি নিজেদের দখলে নিয়েছে।
সিটি ব্যাংকের ব্যাটিং লড়াই ও সংগ্রাম
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সিটি ব্যাংক। ১০০ বলের নির্ধারিত কোটায় তারা লড়াই করার চেষ্টা করলেও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। নির্ধারিত ১০০ বলে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে সিটি ব্যাংক।
সিটি ব্যাংকের হয়ে সবচেয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছেন মোহাম্মদ আশিক উল আলম নাঈম। তিনি ৩২ বলে ৪টি চার মেরে অপরাজিত ৪৬ রান করে দলের মোট সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। তবে ইনিংসের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এসকে আরিফুজ্জামান। মাত্র ১১ বলে ৩০ রানের একটি বিধ্বংসী ক্যামিও খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৫টি চার এবং ৩টি ছক্কা। এছাড়া এস এম তৌফিকুল হক নয়ন মাত্র ৬ বলে ১৯ রান করে প্রতিপক্ষের বোলিং লাইন-আপে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল ৩টি বিশাল ছক্কা।
বোলিংয়ে জান্নাতুল নাঈম লোবানের ম্যাজিক
সিটি ব্যাংকের ব্যাটসম্যানরা কিছু বড় শট খেললেও, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের বোলিং আক্রমণ ছিল অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে জান্নাতুল নাঈম লোবান হয়ে উঠেছিলেন ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে তিনি ৪১ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। তার এই দুর্দান্ত স্পেল সিটি ব্যাংককে একটি বড় স্কোর গড়তে বাধা দেয়, যা পরবর্তীতে এমটিবি-র জয়ের পথ সহজ করে দেয়।
এমটিবি-র বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং সহজ জয়
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। মাত্র ৭৯ বলে মাত্র ১টি উইকেট হারিয়ে তারা লক্ষ্য অর্জন করে। ওপেনিংয়ে এসে সায়েম আলম শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ বোলিং আক্রমণকে চাপে রাখেন। তিনি ৩১ বলে ৬২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৪টি চার এবং ৬টি বিশাল ছক্কা। সায়েমের এই দ্রুতগতির ব্যাটিং সিটি ব্যাংকের বোলারদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়।
সায়েম আউট হওয়ার পর হাল ধরেন ম্যাচসেরা পারফর্মার শাওন খন্দকার। তিনি মাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নিয়ে নেন এবং অত্যন্ত স্টাইলিশ উপায়ে ম্যাচটি শেষ করেন। ৩৬ বলে অপরাজিত ৭৭ রান করেন শাওন, যার মধ্যে ছিল ৫টি চার এবং ৭টি ছক্কা। তার এই বিধ্বংসী ব্যাটিং সিটি ব্যাংককে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেয়।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অধিনায়ক শরিফুল সৈকত ১২ বলে ১৮ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এভাবে ৯ উইকেটের বড় জয় দিয়ে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।
ম্যাচের মূল পরিসংখ্যান একনজরে
- সিটি ব্যাংক: ১৫৯/৯ (১০০ বল)
- এমটিবি: ১৬০/১ (৭৯ বল)
- সেরা ব্যাটসম্যান (এমটিবি): শাওন খন্দকার (৭৭* রান, ৩৬ বল)
- সেরা বোলার (এমটিবি): জান্নাতুল নাঈম লোবান (৪ উইকেট, ৪১ রান)
- ফলাফল: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৯ উইকেটে জয়ী
উপসংহার
সামগ্রিকভাবে, এই ফাইনাল ম্যাচটি ছিল মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের দাপটের প্রদর্শনী। বোলিংয়ে লোবানের দক্ষতা এবং ব্যাটিংয়ে সায়েম ও শাওনের বিধ্বংসী রূপের সংমিশ্রণে তারা এই শিরোপা জয় করে নিয়েছে। ১০০ বল ফরম্যাটের এই উত্তেজনাপূর্ণ টুর্নামেন্টটি কর্পোরেট ক্রিকেটে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, যেখানে কৌশল এবং শক্তির সঠিক সমন্বয়ই জয় ছিনিয়ে এনেছে।
