Bangladesh Cricket

[CRK] বাংলাদেশ নারী দলকে হারিয়ে ওডিআই সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা: পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ রিপোর্ট

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

[CRK]

রাজশাহীতে টাইগ্রেসদের সিরিজ পরাজয়: শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দলের মধ্যকার ওডিআই সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল অঘোষিত ফাইনাল। রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ নারী দলকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে শ্রীলঙ্কা নারী দল। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিলো লঙ্কানরা। প্রথম দুই ম্যাচে লড়াইয়ের আভাস থাকলেও, শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কানদের অলরাউন্ড নৈপুণ্যের সামনে কার্যত ম্লান ছিল টাইগ্রেসরা।

বাংলাদেশের ব্যাটিং: সোবহানা মোস্তারির একাকী লড়াই

ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুটা প্রত্যাশামাফিক হয়নি স্বাগতিকদের। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। বাংলাদেশের ইনিংসের মূল স্তম্ভ ছিলেন সোবহানা মোস্তারি। তিনি ৮০ বলে ৭৪ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৮টি দর্শনীয় চারের মার। তার ব্যাটিং ছিল একদিকে আক্রমণাত্মক এবং অন্যদিকে দায়িত্বশীল।

অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি ৯০ বলে ৪০ রান করে আউট হন। তার ধীরগতির ব্যাটিং ইনিংসের ভিত্তি গড়লেও শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রে তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া শারমিন সুলতানা করেন ২৫ রান এবং শেষ দিকে ঋতু মণি মাত্র ১৬ বলে ২০ রানের একটি ছোট কিন্তু কার্যকর ক্যামিও উপহার দেন। তবে শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে মধ্যম সারির অন্য ব্যাটাররা ব্যর্থ হওয়ায় বড় সংগ্রহের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায় বাংলাদেশের।

লঙ্কান বোলারদের সাফল্য

শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই লাইন এবং লেংথ বজায় রেখে বোলিং করে গেছেন। বিশেষ করে কাভিশা দিলহারি বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি তার স্পেলে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন নিমাস মেপেজ, যিনি তুলে নেন ২ উইকেট। লঙ্কান বোলারদের সুশৃঙ্খল বোলিংয়ের কারণেই বাংলাদেশ বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে।

শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য তাড়া: হাসিনি পেরেরার দাপট

২১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না। দলীয় ১৯ রানেই লঙ্কানদের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার চামারি আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে দিয়ে আশা জাগিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। তবে সেই আশাকে হতাশায় রূপান্তর করেন হাসিনি পেরেরা এবং ইমেশা দুলানি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা ১০৮ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ গড়েন, যা লঙ্কানদের জয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়।

ইমেশা দুলানি ৫৬ রান করে আউট হলেও হাসিনি পেরেরা সেঞ্চুরির খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত মাত্র ৫ রানের জন্য তিনি ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে পারেননি। ১৩১ বলে ৯৫ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি যখন আউট হন, শ্রীলঙ্কা তখন জয়ের দোরগোড়ায়। তার এই ইনিংসে ১৩টি বাউন্ডারি ছিল। এরপর হার্শিতা সামারাবিক্রমা ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

বাংলাদেশের বোলিং বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন তরুণ পেসার মারুফা আক্তার। তিনি ২ উইকেট শিকার করলেও অন্য বোলারদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি। বিশেষ করে স্পিন বিভাগ মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে লঙ্কান ব্যাটাররা অনায়াসেই স্কোরবোর্ড সচল রেখেছেন। ফিল্ডিং মিস এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ হাতছাড়া করাও বাংলাদেশের হারের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সিরিজের ফলাফল ও মূল্যায়ন

এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল। পুরো সিরিজে উভয় দলের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেলেও শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের অভিজ্ঞতা এবং ধৈর্য তাদের জয়ী করেছে। বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজটি ছিল অনেক কিছু শেখার। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের টপ অর্ডার এবং বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে আরও কাজ করার অবকাশ রয়েছে। রাজশাহীর দর্শকদের হতাশ হতে হলেও তারা দুই দলের মধ্যকার একটি রোমাঞ্চকর ক্রিকেট লড়াই উপভোগ করেছেন। সোবহানা মোস্তারির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং মারুফার বোলিং টাইগ্রেসদের জন্য এই সিরিজের ইতিবাচক দিক হয়ে থাকবে।

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.