[CRK] টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করা নিয়ে বাংলাদেশকে অতীত ভুলে সামনে তাকাতে বললেন ইশ সোধি
[CRK]
অতীত নয়, ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে বললেন ইশ সোধি
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি এখনও আলোচনার কেন্দ্রে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আজও ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে আক্ষেপের রেশ রয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ বিরতির পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ফেরার এই সন্ধিক্ষণে নিউজিল্যান্ডের তারকা স্পিনার ইশ সোধি বাংলাদেশ দলকে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, যা হওয়ার তা হয়েছে, এখন সময় এসেছে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর।
অতীত নিয়ে ভাবার সময় নেই
চট্টগ্রামে ২৫ এপ্রিল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশ সোধি বলেন, ‘আমি জানি না বিশ্বকাপ খেলতে না পারাটা তাদের মানসিকভাবে কতটা প্রভাবিত করেছে। তবে সবাই চাইবে আগামী বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের আরও ভালো করে প্রস্তুত করতে। যা চলে গেছে তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কোনো মানেই হয় না।’ সোধির এই মন্তব্য দলের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনেকটা অনুপ্রেরণার মতো। বিশ্বকাপের মতো বড় আসর প্রতি দুই বছর পরপর আসে, তাই পরবর্তী সুযোগের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন তিনি।
তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ
বাংলাদেশ দলে বর্তমানে বেশ কিছু নতুন মুখ রয়েছে, যার মধ্যে রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন অন্যতম। সোধি মনে করেন, ঘরের মাঠে দেশের হয়ে খেলার সুযোগ তরুণদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বেশ শক্তিশালী একটি দল। নতুন খেলোয়াড়রা আসছে, কেউ হয়তো প্রথমবারের মতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। তাদের মাথায় থাকবে দেশের মানুষের সামনে খেলার আনন্দ ও দায়িত্ব। তারা চাইলে আজ থেকেই পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করার যাত্রা শুরু করতে পারে।’
প্রতিযোগিতামূলক সিরিজের প্রত্যাশা
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের গভীরতা নিয়ে সোধি বেশ শ্রদ্ধাশীল। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ সবসময়ই আবেগপ্রবণ এক ক্রিকেট জাতি এবং তাদের খেলোয়াড়রা যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক। আসন্ন সিরিজটি যে বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সোধি নিশ্চিত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞ লিটন দাস ও তৌহিদ হৃদয়ের মতো খেলোয়াড়রা আছেন। এছাড়া তাদের স্পিন আক্রমণ বেশ কার্যকর। আমাদের তাদের স্পিন খেলার চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে এবং কন্ডিশনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।’
বাংলাদেশে ফিরে আনন্দিত ইশ সোধি
২০১৩ সালে প্রথমবার বাংলাদেশে খেলতে এসেছিলেন ইশ সোধি। এরপর বহুবার এই দেশে আসার সুযোগ হয়েছে তার। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশে ফিরতে পেরে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। মজার ছলে তিনি বলেন, ‘আমি এই জায়গাটিকে আগে চিটাগং হিসেবে চিনতাম, এখন দেখছি এটি চট্টগ্রাম! পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করছি। তবে বাংলাদেশে খেলার অনুভূতি সবসময়ই দারুণ। বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা আমার আগে হয়নি, তাই এই চ্যালেঞ্জের জন্য আমি মুখিয়ে আছি।’
নতুনদের লড়াই
শুধু বাংলাদেশ দল নয়, নিউজিল্যান্ড দলেও বেশ কিছু নতুন মুখ রয়েছে। সোধি মনে করেন, দুই দলের জন্যই এই সিরিজটি হবে নতুন অভিজ্ঞতার এক দারুণ মিশেল। কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং নতুন খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণ করার লড়াইয়ে সিরিজটি যে দর্শকদের জন্য দারুণ উপভোগ্য হতে যাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সোধির এই পরামর্শ কেবল বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, বরং সকল ক্রিকেট অনুরাগী এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি মূল্যবান শিক্ষা হয়ে থাকবে যে, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই সাফল্যের চাবিকাঠি।
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার আসন্ন লড়াইটি কেবল একটি ক্রিকেট সিরিজ নয়, বরং এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সোধির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি টাইগারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ দল নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারে।
