[CRK] রিশাদের মানসিক শক্তি বাড়ানোই লক্ষ্য: মুশতাক আহমেদ
[CRK]
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতিভাবান অলরাউন্ডার রিশাদ হোসেন এই মুহূর্তে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খারাপ বোলিং পারফরম্যান্সের পর তাকে দলের প্লেয়িং একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হয়, আর পরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতেও তাকে দলে রাখা হয়নি। এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন, কি তিনি ড্রপ হয়েছেন? তবে বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এটি কোনো শাস্তি নয়, বরং বৃহত্তর কৌশল।
“ওকে ড্রপ করা হয়নি”
“তাকে ড্রপ করা হয়নি মূলত”, মুশতাক আহমেদ জানান, “গত ওয়ানডেতে সে ভালো বোলিং করেছিল। কিন্তু আমরা অন্য স্পিন বোলারদেরও শক্তিশালী করতে চাই। একটা সময়ে যাতে সব স্পিনারদের অভিজ্ঞতা থাকে, সে জন্য এটা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “যখন কোনো ব্যাপারে খেলা হয় না, তখন মানসিকভাবে সবাইকে ইতিবাচক রাখা আমাদের দায়িত্ব।”
মানসিক শক্তি, ক্রিকেটের আসল চাবিকাঠি
মুশতাক আহমেদ জোর দেন মানসিক দৃঢ়তার ওপর। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুধু দক্ষতার নয়, মানসিকতার খেলা।
“এটা তার উন্নয়নের অংশ। মাঝে মাঝে বসে থাকা লাগে। আমাদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব তার মনকে শক্তিশালী করা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহান মনোভাবের খেলা। দক্ষতা আপনাকে এখানে নিয়ে আসে, কিন্তু এখানে টিকে থাকতে হলে মানসিকতা চাই। তাই আমি রিশাদের মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে চাই—যখন সবকিছু ঠিকঠাক না হয়, তখনও সে যেন লড়াই করতে পারে।”
বোলিং অ্যাকশনে কাজ চলছে
রিশাদের বোলিং সম্পর্কে মুশতাক বলেন, “তার গুগলির ক্রিস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গুগলির অ্যাঙ্গেল আরও উন্নত করা দরকার। ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে বল দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রিসের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।”
“আমি সবসময় বলি, একটা শক্তিশালী, পুনরাবৃত্তিযোগ্য অ্যাকশন জরুরি। লেগ স্পিনার হিসেবে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই তিনি কয়েকটি ভালো বল নয়, বরং ভালো ওভার বোলিং করতে পারুন।”
বেঞ্চ স্ট্রেংথ গড়ার পরিকল্পনা
কোচ মুশতাক আহমেদ আরও বলেন, “আমরা বেঞ্চ শক্তিশালী রাখতে চাই। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তানভিরও খেলেছে, রিশাদ নয়। কিন্তু যখন বিশ্বকাপে যাব, তখন প্রত্যেকের পেছনে অভিজ্ঞতা থাকুক।”
“২০২৭ সালের দিকে আমরা ভাবছি, আল্লাহর ইচ্ছায়, আবার ভালো করব। আর ম্যাচ জেতার ফলে সবাই মানসিকভাবে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়।”
মুশতাক আহমেদের বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়, রিশাদ হোসেনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত। তার বর্তমান অনুপস্থিতি কোনো শাস্তি নয়—এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিন্যাসের অংশ, যার লক্ষ্য হলো তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপে টিকে থাকার জন্য মানসিকভাবে দৃঢ় করা।
