[CRK] শ্রীলঙ্কা মহিলা দল বাংগ্লাদেশের ওপর জয়, সিরিজ সমান ১-১
[CRK]
দ্বিতীয় ওডিআই রিভিউ: শ্রীলঙ্কা মহিলা দল স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জয়
রাজশাহী ডিভিশনাল স্টেডিয়ামে বাংগ্লাদেশ মহিলা দল ও শ্রীলঙ্কা মহিলা দলের মধ্যে দ্বিতীয় ওডিআই সংঘটিত হয়। টস জিতে বাংগ্লাদেশ প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয়, তবে শীর্ষ পার্টনারদের তাড়াতাড়ি আউট হওয়ায় তারা ১৬৫ রানে আটকে যায়। শ্রীলঙ্কা ৭০ ball বাকি রেখে এবং ৪ উইকেট রেখে স্বচ্ছন্দে লক্ষ্য পার করে, ফলে সিরিজ এখন ১-১ সমতা অর্জন করে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্স
বাংগ্লাদেশের ওপেনার জুয়ারিয়া ফেরদৌস ও শারমিন সুলতানা মাত্র ৪ রনে আউট হয়। জুয়ারিয়া মাত্র ২ রানে, ১১ ball-এ ঝরে যান। তৃতীয় ব্যাটসম্যান শারমিন আকহতার সুফতা ডাকসের সঙ্গে ঝুঁকি নেয়, কিন্তু তিনি শূন্যে আউট হন। ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানা জোটি রেভার তৃতীয় ব্যাটসম্যানের সাথে যুক্ত হয়ে ২৫ রানে স্থিতিশীলতা আনে, তবে তিনি শীঘ্রই আউট হন।
ক্যাপ্টেন জোটি নিজেরই সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে ১০১ ball-এ ৫৮ রান করেন, যা দলের মোট স্কোরের বড় অংশ। শর্ণা আক্তার ২২ ball-এ ১৬ রান, রиту মনি ১৮ ball-এ ১৭ রান যোগ করেন। শেষের দিকে নাহিদা আক্তার ৪১ ball-এ ২০ রান, রাবেয়া খান ১৯ ball-এ ১৫ রান করে দলকে ১৬৫ রানে স্থগিত করে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ ৪৫.৫ ওভারে অল্প স্কোরে আটকে যায়।
শ্রীলঙ্কার শিকড়দৌড়
শ্রীলঙ্কা দল চামারী অথাপাঠুথুকে বোলিং ক্যাপ্টেন হিসেবে ব্যবহার করে, যিনি ৩ উইকেট সংগ্রহ করেন। মালকি মাদারা, নিমশা মিপেজ ও ইনোকা রাণাওয়িরা প্রত্যেকেই ২ করে উইকেট নেন, আর কাভিশা দিলহারিরাও ১ উইকেট নেন। লক্ষ্য তাড়া শুরুতে হ্যাসিনি পেরেরা মাত্র ২০ ball-এ ৫ রান নিয়ে আউট হন, স্কোর ১৯-তে। চামারী অথাপাঠুথু ও ইমেশা দুরাণি পরপর রান যোগ করেন, তবে দুরাণি ১৭ ball-এ ৮ রান নিয়ে আউট হন।
অথাপাঠুথু ৩৯ ball-এ দ্রুত ৪০ রান করে সোনার মাঝামাঝি স্কোরে পৌঁছান, তবে তিনি পঞ্চাশে পৌঁছাতে পারেন না। হর্ষিথা সমারাওয়িক্রমা তার সাথে মিলে ৭৬ ball-এ ৫০ রান করে হাফ-সেন্টুরি অর্জন করেন। হ্যান্সিমা করুণারতনে ৬৪ ball-এ ৪০ রান যোগ করেন। শ্রীলঙ্কা দল শেষের দিকে কয়েকটি উইকেট হারলেও, ৭০ ball বাকি রেখে এবং ৪ উইকেট নিয়ে টার্গেট সহজে অর্জন করে।
বোলিং হাইলাইটস
- বাংলাদেশের নাহিদা আক্তার ৪ উইকেটের সঙ্গে মাত্র ২১ রান দিয়ে সিরিজের শীর্ষ বোলার হিসেবে শিরোপা জয় করেন।
- সুলতানা খাতুন ও রиту মনি প্রত্যেকেই এক করে উইকেট নেন, কিন্তু লক্ষ্যটি রক্ষা করতে যথেষ্ট না।
- শ্রীলঙ্কা দলের চামারী অথাপাঠুথু ৩ উইকেট নেন, যা ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
পরবর্তী ম্যাচের দৃষ্টিভঙ্গি
সিরিজের তৃতীয় ওডিআই ২৫ এপ্রিল রাজশাহিতে নির্ধারিত হয়েছে। উভয় দল এই ম্যাচে সিরিজের শিরোপা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। ওডিআই সিরিজের পরে, দুই দলই সিলেটে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজের জন্য যাত্রা করবে, যেখানে আরো উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত।
বাংলাদেশের জন্য এখনো অনেক কাজ বাকি; টপ-অর্ডারকে শক্তিশালী করতে হবে এবং মাঝের ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতা আনতে হবে। শ্রীলঙ্কা দল তার ব্যাটিং লাইনআপে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে, তবে বোলিংয়ে আরও কন্ট্রোলের প্রয়োজন। উভয় দলে অনুকূল পরিবর্তন আনার মাধ্যমে তৃতীয় ওডিআই-তে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে।
সফলতা এবং চ্যালেঞ্জ
এই সিরিজটি মহিলা ক্রিকেটের বিকাশের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। উভয় দলের পারফরম্যান্স ক্রিকেট প্রেমিকদের নতুন আশা জাগায়, এবং আসন্ন টি২০ সিরিজে এই উন্মাদনা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা যায়। সর্বোপরি, শ্রীলঙ্কা মহিলা দল স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জয় থেকে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে, আর বাংলাদেশকে পরবর্তী ম্যাচে ফিরে আসার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
