[CRK] শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড বিলুপ্ত: দুর্নীতির অভিযোগে লঙ্কান সরকারের বড় পদক্ষেপ
[CRK]
এশীয় ক্রিকেটে অস্থিরতা: শ্রীলঙ্কায় বড় পরিবর্তন
এশীয় ক্রিকেটের আকাশ বর্তমানে বেশ মেঘাচ্ছন্ন। পাকিস্তান ক্রিকেটে ঘনঘন রদবদল যেন এক নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন ও অস্থিরতা দেখা গিয়েছে। এই অস্থিরতার ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায়। শ্রীলঙ্কার সরকার সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে (SLC) অবিলম্বে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং বর্তমান বোর্ডকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে উত্তাল লঙ্কান ক্রিকেট
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের এই নাটকীয় পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে দুর্নীতির ভয়াবহ অভিযোগ এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এএফপি (AFP) জানিয়েছে যে, সরকার ইতিমধ্যেই বোর্ড পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বর্তমান কমিটিকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বোর্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এবার সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল।
শাম্মি সিলভার শাসনের অবসান
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সভাপতি শাম্মি সিলভা গত চার মেয়াদ ধরে এই প্রভাবশালী পদে আসীন ছিলেন। তবে তার দীর্ঘ এই শাসনকাল বিতর্কমুক্ত ছিল না। শাম্মি সিলভার নেতৃত্বাধীন বোর্ডের বিরুদ্ধে একাধিকবার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু প্রশাসনিক অনিয়মই নয়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে এই বোর্ডের বিরুদ্ধে। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতি ও অনিয়মই সংবাদপত্রের শিরোনামে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে, যা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশ করেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির পথে শ্রীলঙ্কা
বোর্ড বিলুপ্ত করার পর এখন প্রশ্ন উঠছে, কারা চালাবেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট? জানা গেছে, খুব শীঘ্রই একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হবে যারা আপাতত বোর্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। মজার বিষয় হলো, এশীয় ক্রিকেটের আরেক দেশ বাংলাদেশেও বর্তমানে একটি অ্যাড-হক বা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির মাধ্যমে ক্রিকেট প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন দেশের সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, কোনো এক প্রাক্তন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার বা বিনিয়োগকারী ব্যাংকার এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। শ্রীলঙ্কার সাধারণ ক্রিকেট সমর্থকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং তারা ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ফিরে পাওয়ার আশা করছেন।
আইসিসি নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা ও অতীত অভিজ্ঞতা
সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের এক ঝুঁকি। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি (ICC) সাধারণত কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ পছন্দ করে না। এর আগেও ২০২৩ সালের নভেম্বরে একই ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কার আইসিসি সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। এবারও বোর্ড বিলুপ্ত করার এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসির পক্ষ থেকে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর ব্যবস্থা আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে যদি আবারও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট নিষিদ্ধ হয়, তবে সেটি হবে লঙ্কান ক্রিকেটের জন্য এক চরম বিপর্যয়।
ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন উপহার দিতে চায় সরকার। তবে আইসিসির নিয়মকানুন মেনে কীভাবে এই পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ভক্তদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পেশাদার ক্রিকেট ব্যক্তিত্বদের হাত ধরে আবার ঘুরে দাঁড়াবে লঙ্কান ক্রিকেট। দুর্নীতির যে কলঙ্ক তিলক এই বোর্ডের গায়ে লেগেছে, তা মুছে ফেলে মাঠের ক্রিকেটকে প্রাধান্য দেওয়াই হবে নতুন কমিটির প্রধান চ্যালেঞ্জ। শ্রীলঙ্কার এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হতে পারে যে, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রশাসনিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
