[CRK] ওয়াকার ইউনিসের সাথে নাহিদ রানার তুলনা করলেন শন টেইট
[CRK]
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের নতুন স্বপ্ন নাহিদ রানা
বাংলাদেশি ক্রিকেটে ফাস্ট বোলিংয়ের ইতিহাস খুব একটা দীর্ঘ নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একজন বোলার সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিচ্ছেন, তিনি নাহিদ রানা। তার আগুনে গতি এবং বোলিং করার ভঙ্গি বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খোদ বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গতিদানব শন টেইট তার ওপর মুগ্ধ। এমনকি নাহিদকে তিনি কিংবদন্তি পাকিস্তানি পেসার ওয়াকার ইউনিসের সাথে তুলনা করেছেন।
শন টেইটের চোখে নাহিদ রানা
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গতিময় বোলার শন টেইট বর্তমানে বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নাহিদের বোলিং বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানিয়েছেন, নাহিদের ভেতরে তিনি এক অসাধারণ প্রতিভার ছাপ দেখছেন। টেইট বলেন, ‘তার বোলিংয়ের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে আবার কিছু পার্থক্যও আছে। সে শারীরিকভাবে প্রচণ্ড ফিট। সত্যি বলতে, আমার খেলার সময়ের চেয়ে সে বেশি ফিট। আমার শরীর কিছুটা ভারী ছিল, যার ফলে দ্রুত গতিতে বোলিং করাটা আমার জন্য একটু কঠিন ছিল। কিন্তু নাহিদ একজন দারুণ অ্যাথলেট, সে শারীরিকভাবে অনেক বেশি লিন (lean) এবং শক্তিশালী।’
কেন ওয়াকার ইউনিসের সাথে তুলনা?
নাহিদ রানার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তার ইয়র্কার। শন টেইট মনে করেন, নাহিদের ইয়র্কার মারার দক্ষতা পুরনো দিনের ওয়াকার ইউনিসের কথা মনে করিয়ে দেয়। টেইট উচ্ছ্বাসের সাথে বলেন, ‘এই সিরিজে নাহিদের ইয়র্কারগুলো আমাকে দারুণ আনন্দ দিয়েছে। এটা সেই পুরনো দিনের ওয়াকার ইউনিসের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন একজন ফাস্ট বোলার এসে টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিত এবং পরে ইয়র্কার দিয়ে লেজ পরিষ্কার করত। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দৃশ্যটি খুব পছন্দ করি।’
উচ্চতা এবং ফিটনেস
টেইটের মতে, নাহিদের বোলিংয়ের স্থায়িত্বের পেছনে রয়েছে তার কঠোর পরিশ্রম এবং শরীরের গঠন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘একজন ফাস্ট বোলারের জন্য যে ধরণের শারীরিক গঠন প্রয়োজন, নাহিদের তা আছে। আমি তার দক্ষতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি, বিশেষ করে এই গরমের কন্ডিশনেও সে যেভাবে বল করছে, তা প্রশংসনীয়। আমি আমার ক্যারিয়ারে বারবার ইনজুরিতে ভুগেছি, কিন্তু নাহিদ অনেক বেশি মজবুত।’
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
একজন কোচের কাছ থেকে কিংবদন্তি বোলারের সাথে তুলনা পাওয়া যে কোনো তরুণ ক্রিকেটারের জন্য বিশাল বড় অনুপ্রেরণা। তবে নাহিদ রানা এখানেই থেমে থাকতে চান না। তার গতি এবং ইয়র্কারের সঠিক ব্যবহার যদি নিয়মিত বজায় থাকে, তবে বাংলাদেশ দল ভবিষ্যতে বিশ্বমানের একজন পেসার পেতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। টেইটের অধীনে নাহিদ যে নিজেকে প্রতিনিয়ত শানিত করছেন, তা মাঠের পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট।
উপসংহার
বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা বহুদিন ধরে একজন প্রকৃত ফাস্ট বোলারের অপেক্ষায় ছিলেন। নাহিদ রানা সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জগুলো পাড়ি দিয়ে তিনি নিজেকে কতটা উঁচুতে নিয়ে যেতে পারেন। শন টেইটের মতো অভিজ্ঞ কোচের দিকনির্দেশনা তাকে নিঃসন্দেহে আগামীর পথচলায় আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। নাহিদ রানার হাত ধরেই কি বাংলাদেশ পেস বোলিংয়ের নতুন স্বর্ণযুগে প্রবেশ করছে? সময়ই তার উত্তর দেবে।
