[CRK] আথাপাত্তুর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে ফিরল শ্রীলঙ্কা | SL vs BAN
[CRK]
রাজশাহীতে আথাপাত্তু ঝড়: বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ করে সিরিজে ফিরল শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কা নারী দলের অধিনায়ক চামারি আথাপাত্তু যখন মাঠে থাকেন, তখন দলের আত্মবিশ্বাস অন্য উচ্চতায় থাকে। প্রথম ওয়ানডেতে আঙুলের চোটের কারণে তিনি মাঠে নামতে পারেননি, আর সেই সুযোগে দাপুটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ফিরেই নিজের জাত চেনালেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। তার অসাধারণ বোলিং এবং সময়োপযোগী ব্যাটিং দৃঢ়তায় বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে লঙ্কানরা।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় ও নিগার সুলতানার লড়াই
রাজশাহীতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি টাইগ্রেসদের। প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা শারমিন আক্তার আজ রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মালকি মাদারার বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো স্বাগতিকদের ইনিংস একাই টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
জ্যোতি ১০১ বলে ৫৮ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যেখানে ৪টি চারের মার ছিল। তবে অন্য প্রান্ত থেকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়ার মতো কাউকেই পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত ৪১তম ওভারে নিমেশা মেপেজের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যায় ৪৫.৫ ওভারে মাত্র ১৬৫ রানে।
আথাপাত্তুর বোলিং তোপ
বল হাতে আজ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন চামারি আথাপাত্তু। ১৬তম ওভারে শারমিন সুলতানাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে শিকার শুরু করেন তিনি। যদিও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিলেন ব্যাটার, তবে আথাপাত্তুর বিষাক্ত ডেলিভারিটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। এর পরের ওভারেই তিনি ফেরান সোবহানা মোস্তারিকে। স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ব্যাটার।
৩১তম ওভারে রিতু মনির উইকেটটি ছিল দেখার মতো। আথাপাত্তুর বলে রিতু কভার ড্রাইভ করতে চাইলে সেটি টাইমিংয়ে গড়বড় হয় এবং মিড-অফে থাকা নীলাক্ষিকা সিলভা অসাধারণ একটি ডাইভিং ক্যাচ লুফে নেন। আথাপাত্তু শেষ পর্যন্ত ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন। তাকে যোগ্য সহায়তা দেন নিমেশা মেপেজ (২-২৯), ইনোকা রানাবীরা (২-২৮) এবং মালকি মাদারা (২ উইকেট)।
শ্রীলঙ্কার রান তাড়া: সামারাবিক্রমার হাফ সেঞ্চুরি
১৬৬ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কাও কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। বাংলাদেশের নাহিদা আক্তার ৪ উইকেট শিকার করে লঙ্কান শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দেন। তবে মিডল অর্ডারে হার্শিথা সামারাবিক্রমার দুর্দান্ত ফিফটি সব অনিশ্চয়তা দূর করে দেয়। সামারাবিক্রমা ৫০ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন।
অধিনায়ক চামারি আথাপাত্তু ব্যাট হাতেও দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রান যোগ করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন করুণারত্নে, তিনিও করেন মূল্যবান ৪০ রান। এই তিন ব্যাটারের দৃঢ়তায় ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাহিদা আক্তার ছাড়া বাকিরা খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।
সিরিজের বর্তমান চিত্র
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এখন ১-১ সমতায় বিরাজ করছে। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল, কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন সিরিজের শেষ ম্যাচটিকে করে তুলেছে অলিখিত ফাইনাল। আগামী ম্যাচে যারা জিতবে, সিরিজ যাবে তাদেরই পকেটে। আথাপাত্তুর অলরাউন্ড নৈপুণ্য নিশ্চিতভাবেই আগামী ম্যাচে লঙ্কানদের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।
- শ্রীলঙ্কা: ১৬৬/৬ (সামারাবিক্রমা ৫০, আথাপাত্তু ৪০, করুণারত্নে ৪০; নাহিদা ৪-২১)
- বাংলাদেশ: ১৬৫ (নিগার ৫৮; আথাপাত্তু ৩-৩৬, রানাবীরা ২-২৮, মেপেজ ২-২৯)
- ফলাফল: শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে জয়ী।
এখন ক্রিকেট প্রেমীদের নজর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের দিকে, যেখানে নির্ধারণ হবে কারা হচ্ছে এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের চ্যাম্পিয়ন।
