[CRK] নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে শুরু করল বাংলাদেশ: প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে পরাজয়
[CRK]
মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের জয়: প্রথম ওয়ানডেতে হোঁচট খেল বাংলাদেশ
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ। তবে ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে প্রত্যাশিত জয় ছিনিয়ে আনতে ব্যর্থ হলো স্বাগতিক দল। ব্যাট ও বলের সমন্বিত লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত ২৬ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করল সফরকারী নিউজিল্যান্ড। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয় এবং শেষ মুহূর্তের রান সংগ্রাহক অভাব বাংলাদেশকে পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেয়।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংস: নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং ও ফক্সক্রফটের অবদান
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। সপ্তম ওভারেই নিক কেলির উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত ব্রেকথ্রু এনে দেন শরিফুল ইসলাম। তবে এই ধাক্কা কাটিয়ে দ্রুতই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় নিউজিল্যান্ড। হেনরি নিকোলস এবং উইল ইয়ংয়ের একটি দৃঢ় ৭৩ রানের জুটি নিউজিল্যান্ডের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। উইল ইয়ং ৪২ বলে ৩০ রান করে আউট হন রিশাদ হোসেনের বলে।
২৫ ওভার পার হওয়ার পর পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ছিল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। তবে মাঝপথে বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ যখন টম ল্যাথামকে আউট করেন, তখন গ্যালারিতে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। এর পরপরই রিশাদ হোসেন আরও একবার তার ধার দেখান এবং বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলসকে আউট করে ম্যাচের মোমেন্টাম বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে আনতে চেষ্টা করেন। শরিফুল ইসলামও মুহাম্মদ আব্বাসের উইকেট নিয়ে দলের হয়ে অবদান রাখেন।
তবে নিউজিল্যান্ডের হয়ে শেষ দিকে দমে যাননি ডিন ফক্সক্রফট। তিনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং করে একটি অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যা নিউজিল্যান্ডের স্কোরকে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যায়। যদিও রান রেট খুব বেশি ছিল না, কিন্তু ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন এবং তাসকিন আহমেদ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
বাংলাদেশের ব্যাটিং: শুরুটা বিপর্যয়ের, কিন্তু মাঝপথে লড়াই
২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম দ্রুত আউট হয়ে যান এবং তার ঠিক পরেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ চাপে পড়ে যায়। তবে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন সাইফ হাসান এবং লিটন দাস। তৃতীয় উইকেটে এই জুটি ৯৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলে, যা ম্যাচটিকে পুনরায় লড়াইয়ের পর্যায়ে নিয়ে আসে।
সাইফ হাসান ৭৬ বলে ৫৭ রান করে আউট হন, অন্যদিকে লিটন দাস ৬৮ বলে ৪৬ রান সংগ্রহ করেন। তাদের এই জুটিটি বাংলাদেশকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। তবে সাইফের বিদায়ের পর রান রেট ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তৌহিদ হৃদয় এবং আফিফ হোসেন চেষ্টা করেছিলেন ইনিংসটি এগিয়ে নিতে, কিন্তু আফিফ হোসেনের ধীরগতির ব্যাটিং (৪৯ বলে ২৭ রান) দলের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট হাতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি এবং ১৯৪ রানেই ষষ্ঠ উইকেটটি হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
চূড়ান্ত ফলাফল ও নিউজিল্যান্ডের বোলিং আধিপত্য
তৌহিদ হৃদয়ের লড়াকু ব্যাটিং নজর কেড়েছে সবার। তিনি ৫৫ রান করে লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে যোগ্য সঙ্গী মেলেনি। ৪৮.৩ ওভারে বাংলাদেশ সর্বমোট ২২১ রানে অল আউট হয়ে যায়। ফলে ২৬ রানে ম্যাচটি হেরে যায় স্বাগতিকরা।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বোলিংয়ে ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ব্লেয়ার টিকনার। তিনি ৪টি উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে তছনছ করে দেন। তাকে যোগ্য সহায়তা করেন নাথান স্মিথ, যিনি ৩টি উইকেট নেন।
ম্যাচের সারসংক্ষেপ
- নিউজিল্যান্ড: ২৪৭/৮ (৫০ ওভার) – ডিন ফক্সক্রফট (৫০), শরিফুল ও রিশাদ (২টি করে উইকেট)।
- বাংলাদেশ: ২২১ অল আউট (৪৮.৩ ওভার) – সাইফ হাসান (৫৭), তৌহিদ হৃদয় (৫৫), ব্লেয়ার টিকনার (৪ উইকেট)।
- ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী।
প্রথম ম্যাচ হারলেও সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। তবে মিডেল অর্ডারের ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট এবং শুরুতেই উইকেট হারানোর প্রবণতা দূর করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে টাইগারদের সামনে।
